নড়াইলে সার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ!দ্রুত গুদাম নিরিক্ষণের দাবী!

159

স্টাফ রিপোটার ॥ নড়াইল বিএডিসি’র সার সিন্টিকেটের দৌরাত্ম চরম পর্যায়! কয়েকদিন রাতভর ডিলার, ব্যবসায়ী সিন্টিকেট ও বিএডিসির কর্মকর্তারা লেবারের সাথে সমঝোতা চালিয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সার নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে!দ্রুত সার গুদাম সমূহ নিরিক্ষণের দাবী সচেতন মহলের!

এদিকে সার উৎপাদন ও আমদানিতে দেশে নেই কোন সঙ্কট। অথচ অব্যাহতভাবে কৃষককে হয়রানি ও ছড়া দামে কিনতে হয় সেই সার। এ দিকে কৃষকের স্বার্থে সরকার সার নিয়ে যে ভর্তুকির ব্যবস্থা বলবৎ রেখেছে ওই অর্থ গিলে খাচ্ছে সার ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট। তাছাড়া আমদানি পর্যায়েও রয়েছে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য। দেখভালের নেই তেমন কোন জোরদার ব্যবস্থাও।

অফিস সূত্রে জানাগেছে, গত ৯ ফেব্রুয়ারি হতে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নড়াইল জেলায় ১৭টি ট্রাকে ৩৪০ মেট্রিক টন সার এসেছে। কাগজ কলমে দেখালেও প্রকৃতপক্ষে মাত্র একটি ট্রাকের ২০ মেট্রিক টন সার আনলোড করা হয়েছে এ জেলায়।

এছাড়া অন্যসূত্রে জানা গেছে তুলারাপুরে আরও ১টি ট্রাক সার আনলোড হয়েছে।

এ নিয়ে সরেজমিনে খোঁজ-খবর নিতে গেলে বিএডিসি’র নড়াইলের উপ-সহকারি পরিচালক সুবাস চন্দ্র সরকার (০১৭২৮৩০০৭৫৩) নড়াইলকণ্ঠ প্রতিনিধিকে জানান এ সপ্তাহে ৩৪০ মেট্রিক টন সার আনা হয়েছে। সেসব সার আমাদের গুদামেই মজুদ রয়েছে।

অথচ বিএডিসি’র সার গুদামের লেবার নয়ন জানালেন ভিন্ন তথ্য। তারা নড়াইলকণ্ঠ প্রতিনিধিকে জানান, এ সপ্তাহে (০৯ ফে:১৫ ফে:) আমরা মাত্র একটি ট্রাকের ২০ মেট্রিক টন সার আনলোড করেছি।

এ অভিযোগ সম্পর্কে বিএডিসি’র নড়াইলের উপ-সহকারি পরিচালক সুবাস চন্দ্র সরকার জানান, লেবাররা জানে না। এখানে সরকারের নিযোগকৃত লেবার সরদার সুভাশিষ কুন্ডু সে মাল নামায়, সে সব জানে। গেট পাশ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন এসব তো করা হয় না।

বিএডিসি (সার) কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীদের যোগসাজসে গত একসপ্তাহে ৩২০ মে.টন সার কাগজে-কলমে এন্ট্রি দেখিয়ে জেলার বাইরে বিক্রি হয়েছে এমন অভিযোগ সম্পর্কে নড়াইলের উপ সহকারি পরিচালক সুবাস চন্দ্র সরকার নড়াইলকণ্ঠকে জানান, না, এমন কোন কাজ এখানে হয় না। আপনারা আমাদের গুদাম দেখে যেতে পারেন।

এ অভিযোগের সত্যতা যাইয়ের জন্য বিএডিসির যশোর অঞ্চলের যুগ্ম পরিচালক (বীজ) এ কে এম কামরুজ্জামানের সাথে মুঠোফোনে (০১৫৫৩০১৫৫৫৫) যোগাযোগ করলে তিনি নড়াইলকণ্ঠ প্রতিনিধিকে জানান, আমি ঢাকাতে একটি প্রশিক্ষণে এসেছি। বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) যশোরে গিয়ে অভিযোগের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দ্বারা সরেজমিনে তদন্ত ও নিরিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।

লেবার ঠিকাদার সুভাশিষ কুন্ডুর (০১৭১১০৬৭৩৫৬) সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, আমি লেবার ঠিকাদার। তার নিকট গত একসপ্তাহে (০৯-১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত) কতটি গাড়ি থেকে সার আনলোড করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি বাইরে রয়েছি, অফিসে যেয়ে খাতাপত্র না দেখে বলতে পারছি না।

নাম না প্রকাশে এমন অনেক সূত্র থেকে জানা গেছে, এভাবেই কাগজ-কলমে এনিট্র দেখিয়ে এ জেলার অনুমোদিত সার কালো বাজারে বিক্রি হয়। যার ফলে প্রতি বছরই সার সংকটে পড়ে কৃষক। কাদের ছত্রছায়া এসব হচ্ছে সেসব খতিয়ে দেখার দাবী ভুক্তভোগি কৃষকের।

নড়াইল সদরের কৃষি অফিসার জাহিদুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে এবিষয় সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, গত মঙ্গলবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) তুলারামপুর ডুকেছে ১ গাড়ি ২০টনসহ মোট প্রায় সাড়ে ৩’শ মে:টন। এছাড়া সরকার বরাদ্দকৃত সকল সারই সরাসরি প্রথমে বিএডিসি’র গুদামে ডুকবে। এরপর এখান থেকে ডিলারদের কাছে যাওয়ার নিয়ম। আমাদের কাছে বিএডিসি শুধু এরাইবেল রিপোর্ট করে থাকে।
এদিকে নড়াইলে সচেতন মহলের দাবী জেলা সার ও বীজ মনিটিরিং কমিটি এবং সার ও বীজের বিভাগীয় উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সমন্বয় দ্রুত সার গুদাম সমূহ নিরিক্ষণের দাবী জানিয়েছেন। টিম কর্তৃক সঠিকভাবে নিরিক্ষণ হলেই প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে। কালোবাজারিরা সার মজুদ বা অন্যত্র বিক্রির সুযোগ পাবে না যেমন , তেমনি কৃষক সার নিয়ে আর বিপাকে পড়বে না।

সারের ডিলারের হাতে লাঞ্চিত হওয়া সেই কৃষকের কথা শুনুন: