নড়াইলে সার কিনতে গেলে কৃষকের গায়ে হাত,বিচারের দাবী স্বামী-স্ত্রী’র

113

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কৃষক আলী মোহাম্মদ, বাড়ি নড়াইল পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ড উজিরপুর গ্রামে। কৃষি পরিবার। স্বামী-স্ত্রী মিলে ৩বিঘা জমিতে ধান চাষ করেন তারা। তাদের ২টি সন্তান। কাক ডাকা ভোরে ঘুম থেকে উঠে বের হয়ে পড়ে কৃষি কাজে। পাশাপাশি সে নিজের ও এলাকার অন্যান্য ব্যক্তিদের উৎপাদিত সব্জী ভ্যানে করে বাজারে নিয়ে দেয়। এভাবেই তাদের ৪জনের সংসার বেশ ভালোই চলচ্ছি।

হঠাৎ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রূপগঞ্জ বাজারে সার কিনতে গেলে সারের ডিলার হাসান সাহেবের দোকানের ম্যানেজার আলী মোহাম্মদকে ঘাড় ধাক্কাতে ধাক্কাতে হাসান সাহেবের চেম্বারে সামনে নিয়ে মারপিট করা হয়। পরে সে বাড়িতে গিয়ে এ ঘটনাটি তার স্ত্রীর সাথে শেয়ার করেন। এঘটনাটি শুনে পরিবারের সকলে ভেঙ্গে পড়েছেন এবং সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচারের দাবী জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে আলী মোহাম্মদের বাড়িতে গেলে তিনি নড়াইলকণ্ঠ টিমের কাছে গতকালের ঘটনাটি পুনরায় তুলে ধরেন।

এ সময় প্রতিবেশি হাসান আলী জানান, আলী মোহাম্মদ একজন প্রকৃত কৃষক। সে উজিরপুর মাঠে ৩-৪ বিঘা জমিতে ধান চাষ করে। সে কোন সার ব্যবসা করে না।

এ সময় আমরা কৃষকের ঘরে গিয়ে ধানের বস্তা দেখতে পাই। ঘরের বারেন্দায় খেত থেকে তোলা সরিষা দেখা যায়।

কথা হয় কৃষক আলী মোহাম্মদের স্ত্রীর সঙ্গে। তিনি জানান, জমিতে সার লাগবে বলে আমার স্বামী গতকাল বাজারে সার আনতে যায় রুপগঞ্জে। স্বামী আমাকে বাড়িতে ফিরে বললো, হাসানের ম্যানেজার আমার ঘাড়ধরে ধাক্কা ধাক্কাতে হাসানের অফিসের ধারে নিয়ে মারধর করেছে। এঘটনার সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার চাই।

প্রতিবেশি মন্ডল জানান, উজিরপুর গ্রামের আলী মোহাম্মদ একজন প্রকৃত কৃষক। সে নিজের এবং বন্ধকী ৩-৪বিঘা জমিতে ধান ও পাট চাষ করেন। তার একটি ভ্যান আছে। এ ভ্যান দিয়ে নিজের এবং এলাকার সব্জী বয়ে নিয়ে বাজারে দেয়। আবার সারও এনে দেয়। সে সার বিক্রি করে না।

এরপর আলী মোহাম্মদ আমাদেরকে নিয়ে যান যে জমিতে তিনি ধান রোপন করেছেন সেখানে। এ সময় তিনি জমি দেখিয়ে বলেন, দ্যাখেন স্যার এসব জমিতে এখনই সারের প্রয়োজন। অথচ গতকাল সার আনতে গেলে হাসান সাহেবের ম্যানেজার আমাকে ঘাড় ধাক্কাতে ধাক্কাতে তার (হাসান) অফিসের সামনে নিয়ে আমাকে মারধর করে।

তিনি আরো জানান, আমি এবার ৩বিঘা জমিতে ধান চাষ করছি এবং এক বিঘা জমিতে আমি পাট চাষ করবো। আমরা স্বামী-স্ত্রী মিলে খেত খামার করি, কোন জন-কিষেণ নেই না। আমার একটাই অপরাধ। আমি হাসান সাহেবের ম্যানেজারের কাছে সারের মেমো চাইলে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। পরে সে আমার ঘাড় ধাক্কাতে ধাক্কাতে নিয়ে হাসানের অফিসের সামনে নিয়ে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবী করি সরকারের কাছে।

এ অভিযোগ সম্পর্কে হাসানুজ্জামানের নিকট মুঠোফোনে (০১৭১১৮০০৯৪৪) জানতে চাইলে তিনি জানান, ঐলোক একজন ভ্যানওয়ালা, মারধর সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ওলোক কৃষকও না। সে বিভিন্ন লোকের সার ভ্যানে করে টানে।

বিস্তারিত জানতে নিচের ভিডিও লিংকে ক্লিক করুন: