নড়াইলে পানের দাম কম,হতাশ চাষীরা

135

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইলে পানের দাম কম,হতাশ চাষীরা। পানির দরে বিক্রি করতে হচ্ছে এবছর পান, খরচের পয়সাও উঠচ্ছে না। অথচ বাজারে একএকটি খিলি পান কিনে খেতে হয় ৫টাকা দিয়ে। একই পান আবার বড় বড় শহরে পৌঁছালে ১টি পানকে দুইভাগ করে তার একএকটি পান বিক্রি করা হয় ৫টাকায়। উৎপাদক থেকে মাত্র দুটি হাত বদলেই ৭০টাকার (৮০টি পানে এক পোন) পান ভোক্তাদের কিনে খেতে হয় ৪০০ টাকা পোন দরে। একই পান বড় বড় শহরের ভোক্তাদের কিনে খেতে হচ্ছে ৮০০টাকা পোন দরে। তারপরও পান চাষীরা পানের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছে না কেন? এখানেও কি কোন পান ব্যবসায়ী সিন্টিকেট চক্র কাজ করছে? বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবী জানান পান চাষীরা।

শনিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এলাকার পান চাষীদের কাছ থেকে এ ধরনের অভিযোগ পেয়ে সরেজমিনে গেলে নড়াইলকণ্ঠকে এসব তথ্য জানান পানচাষীরা।

নড়াইল সদরের উজিরপুর গ্রামের পান চাষি সুশান্ত বিশাস বলেন, এক সময় এ এলাকায় ব্যাপক পানের আবাদ হতো। এখানে প্রায় ৪০-৫০টি পান বরজ ছিলো। তাদের পূর্বপুরুষের আমল থেকে পানের চাষ করে আসছেন। পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে তারাও পান চাষ করছে। তবে এখন পানের দাম একেবারেই কম হওয়ায় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে তাদের।

তিনি আরো জানান, গেল বছর একপোন পান (৮০টি পান) বিক্রি হয়েছে ১’শ থেকে দেড়’শ টাকায় সেই পান এখন মাত্র ২০-৩০ এবং ৫০-৭০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে পান চাষীদের। তবে বাজারে একএকটি খিলি পান কিনে খেতে হয় ৫ টাকা দিয়ে। এখন আপনারাই বোঝেন আমরা কি অবস্থায় আছি।

পানের বরজে কাজ করতে আসা মন্টু ঘোষাল বলেন, এ অঞ্চলের সাচি ও মিষ্টি পান প্রচুর জন্মে। মিষ্টি পান নড়াইল জেলাসহ পাশের জেলার চাহিদা মিটিয়ে বাইরের কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হতো। এতে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হতো। করোনার কারণে বিদেশে পান রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়েছে। বাজারে পানের দাম নেই। এ কারণে এ এলাকার অনেকেই পান চাষ বাদ ছেড়ে দিচ্ছে। ইতিমধ্যে এলাকায় ৫-৬জন পানচাষীরা পান বরজ তুলে অন্য চাষে চলে গেছে।

নড়াইল জেলার মাটি পান চাষে উপযোগী এবং স্বাদেও ভালো হয়। এলাকায় মিষ্টি পানের ব্যাপক চাহিদা থাকার কারণে চাষিরা দিনদিন পানে চাষে আগ্রহী হয়েছিল। তবে করোনার প্রভাবে পান বিদেশে রপ্তানি বন্ধ হয়ে পড়া ও দাম কম থাকার কারণে পান চাষে আগ্রহ হারাচ্ছেন চাষিরা। এতে অনেক চাষি পান বরজ ভেঙে অন্য ফসল চাষে ঝুঁকছেন।

পানচাষীরা আরো জানান, মিষ্টি পান চাষে উর্বর ভূমি হিসেবে পরিচিত নড়াইল। এ অঞ্চলের পানের সুখ্যাতি বহু পুরনো। এখানে সাধারণত দুই জাতের পান উৎপাদন হয়। মিষ্টি পান আর সাচি পান। এখানকার মিষ্টি পান চাহিদা মিটিয়ে কয়েকটি দেশে রপ্তানি করা হতো। তবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থা করলে প্রতি বছর কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। অনেক সময় পান চাষিদের বেকায়দায় পড়তে হয়। কারণ রোগের বিষয়ে কৃষি বিভাগে নেই তেমন কোন পরামর্শের সুযোগ।

এদিকে জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নড়াইল জেলায় ৫০০ হেক্টর জমিতে মিষ্টি পান ও সাচি পানের আবাদ করা হয়েছে। গত বছর এ জেলায় ৪৯০ হেক্টর জমিতে পান চাষ হয়।