ব্যাংকের অর্থ আত্মসাৎ: দুদকের তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব

36

সাবেক ওরিয়েন্টাল ব্যাংক বর্তমানে আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ৪৮৮ কোটি টাকা আত্মসাতের মামলার সব আসামিকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে তলব করেছেন হাইকোর্ট। ২২ ফেব্রুয়ারি সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

এ বিষয়ে করা এক রিট মামলার শুনানিতে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করে বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

আদালতে রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী অনিক আর হক ও ইফতাবুল কামাল অয়ন। দুদকের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনীরুজ্জামান ও সৈয়দ হাসান জোবায়ের। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল আন্না খানম কলি।

আমিন উদ্দিন মানিক জানান, ২০১৫ সালে সৈয়দ সরফরাজ শাহসহ ৫ ব্যক্তি এই রিট করেন। ওই রিট মামলার শুনানিকালে হাইকোর্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলমের কাছে কারণ জানতে স্বতঃপ্রণোদিত রুল জারি করেছিলেন।

তাকে আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি স্ব শরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দিতে হবে এবং আইসিবি ইসলামী ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টরকেও ব্যাখ্যা দিতে হবে। একই সঙ্গে বিএফআইইউ, বাংলাদেশ ব্যাংক, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক ও দুদককে এই স্ব প্রণোদিত রুলের জবাব দিতে হবে বলে জানান আমিন উদ্দিন মানিক।

এ সংক্রান্ত মামলার এজাহার থেকে উল্লেখ করে আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের তৎকালীন সিনিয়র এসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যান্ড হেড অব এইচ.আর.ডি. কাজী মানজুর হোসেন ২০০৭ সালের ২৫ জানুয়ারি ২৫ জনকে আসামি করে তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

মামলায় আসামিরা হলেন- ওবায়দুল করিম, চৌধুরী মো. কায়েস সামী, সাবেক এম. ডি ডেইরি স্প্রিং, এস এম হারুন সাবেক এস.ভিপি, প্রিন্সিপাল শাখা, একিউএম মাহমুদ উল্লাহ এসএভিপি, মোহাম্মদ ইয়ামিন সাবেক এসএভিপি, মো. ফজলুর রহমান এভিপি, প্রিন্সিপাল অফিস, কামরুল ইসলাম সাবেক ইভিপি, আলমগীর কবির সাবেক এভিপি, তারিকুল আলম ই.ও, এএনএম আসিফুর রহমান এস. ভিপি, মহিউদ্দিন আহমেদ এভিপি, সৈয়দ মাহমুদ হাসান এভিপি, তৌহিদ উদ্দিন খন্দকার সিনিয়র অফিসার বংশাল শাখা, আলমগীর কবির এভিপি নবাবপুর শাখা, মো. এমদাদ হোসাইন ভূঁইয়া ই,ও, নবাবপুর শাখা, মো. ফিরোজ কবির সিনিয়র অফিসার নবাবপুর শাখা, ইশতিয়াক আহমেদ চৌধুরী ইভিপি, ডিএমডি, ট্রাস্ট ব্যাংক, মুশতাক আহমেদ এসভিপি, ব্যবস্থাপক, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড, উত্তরা শাখা, সৈয়দ সরফরাজ শাহ এভিপি স্টেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ঢাকা, এজেডএম সালেহ ভিপি, ওয়ান ব্যাংক লিমিটেড কাওরান বাজার শাখার খন্দকার শাহরুখ আহমেদ, এভিপি আইএফসি ব্যাংকের ধানমন্ডি শাখার আরিফুর রহমান ই,ও, ওয়ান ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মঞ্জুরুল আলীম, প্রধান কার্যালয়ের সাইফুল আজিজ পাভেল এইও, প্রধান কার্যালয়ের আবুল হোসেন চোকদার।

অভিযোগে বলা হয়, তারা পারস্পরিক যোগসাজশে মিথ্যা হিসাব দেখিয়ে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ৪৮৮ দশমিক ৫০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন।

কিন্তু দুদকের তদন্তকারী কর্মকর্তা উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম ২০১৩ সালের ২৩ ডিসেম্বর এজাহার নামীয় আসামিদের অব্যাহতি দিয়ে চূড়ান্ত রিপোর্ট দাখিল করেছিলেন।