নামাজে যেসব সুরা পড়া সুন্নাত

6

মুমিন মুসলমানের জন্য নামাজ ফরজ ইবাদত। আছে সুন্নাত ও নফল নামাজ। কিন্তু এসব ফরজ, সুন্নাত ও নফল নামাজে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিশেষ কিছু সুরা পড়তেন। নামাজের এসব মাসনুন সুরা কী?

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রত্যেক ওয়াক্ত নামাজে যেসব সুরা পড়তেন; সেগুলো ছাড়া অন্য সুরা বা আয়াত দ্বারা নামাজ পড়লেও তা আদায় হয়ে যাবে। তবে নবিজী অধিকাংশ সময় নামাজের বিভিন্ন ওয়াক্তে যেসব সুরা দ্বারা নামাজ আদায় করতেন; তাহলো-

১. ফজর ও জোহর নামাজের কেরাত

ফজর ও জোহরের মাসনুন কেরাত হলো সুরা হুজরাত থেকে সুরা বুরুজ পর্যন্ত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুরা ফাতিহার পর এসব সুরা থেকেই তেলাওয়াত করতেন।

২. আসর ও ইশার নামাজের কেরাত

আসর ও ইশার মাসনুন কেরাত হলো সুরা তারিক্ব থেকে সুরা বায়্যিনা পর্যন্ত। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই দুই ওয়াক্ত নামাজে সুরা ফাতিহার পর উল্লেখিত সুরা থেকেই তেলাওয়াত করতেন।

৩. মাগরিবের নামাজের কেরাত

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মাগরিবের নামাজে সুরা ফাতিহার পর সুরা যিলযাল থেকে সুরা নাস পর্যন্ত যে কোনো সুরা তেলাওয়াত করতেন।

৪. জুমার নামাজের কেরাত

জুমার নামাজে সুরা ফাতিহার পর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রায়ই সুরা আলা ও সুরা গাশিয়া অথবা সুরা জুমআ এবং সুরা মুনাফিকুন পড়তেন।

৫. বিতর নামাজের কেরাত

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিতর নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা দোহা, দ্বিতীয় রাকাতে সুরা কাফিরূন এবং তৃতীয় রাকাআতে সুরা ইখলাস পড়তেন।

৬. ফজর ও মাগরিবের সুন্নাত নামাজের কেরাত

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের সুন্নাত নামাজের প্রথম রাকাতে সুরা কাফিরূন এবং দ্বিতীয় রাকাআতে সুরা ইখলাস পড়তেন।

৭. জুমার দিন ফজরের সুন্নাত নামাজের কেরাত

জুমার দিন ফজরের নামাজে সুরা আদ-দাহর ও সুরা আস-সাজদা পড়তেন। হজরত ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনায়ও সুরা আস-সাজদাহর কথা এসেছে।

৮. সফরের নামাজের কেরাত

সফর অবস্থায় সব নামাজের ক্ষেত্রে সুরা ফাতিহার পর যে কোনো সুরা মিলিয়ে নিলেই চলবে। তবে সফর ব্যতিত ইমাম বা একাকি নামাজির বিশেষ পরিমাণে সুরা পড়া সুন্নাত।

৯. ফরজ নামাজের কেরাতের পরিমাণ

নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফজরের ফরজ নামাজ লম্বা কেরাতে পড়তেন। আর ফজরের ফরজসহ অন্যান্য ফরজ নামাজের প্রথম রাকাতে একটু লম্বা কেরাত পড়তেন। আর দ্বিতীয় রাকাতে প্রথম রাকাতের তুলনায় কম পড়তেন।

মনে রাখতে হবে

নামাজের জন্য নিজে থেকে কোনো সুরাকে নির্দিষ্ট করে নেওয়া ইসলামের বিধানের পরিপন্থী কাজ। তবে নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এসব নামাজে যেসব কেরাত পড়তেন তা পড়া উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য সুন্নাত বা মাসনুন কেরাত।

সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, নামাজে সুরা ফতিহার পর কেরাত পড়ার ক্ষেত্রে মাসনুন সুরা দিয়ে কেরাত পড়া। সুন্নাতের অনুসরণ ও অনুকরণ করা।

আল্লাহ তাআলা সব নামাজিকে মাসনুন কেরাত দিয়ে ফরজ, সুন্নাত ও নফল নামাজ পড়ার তাওফিক দান করুন। আমিন।