পুলিশ সপ্তাহের আয়োজনে কাটছাঁট, হচ্ছে না আনুষ্ঠানিক দরবার

3

করোনাভাইরাসের (কোভিড ১৯) প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় এবার পুলিশ সপ্তাহ ভিন্ন আঙ্গিকে করার প্রস্তুতি নিয়েছে পুলিশ সদরদপ্তর। এবারের অনুষ্ঠানে অনেক কাটছাঁট করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে লাগবে বাধ্যতামূলক করোনা নেগেটিভ সনদ। তাছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে।

প্রতি বছর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের দরবার হলেও করোনার কারণে এবার তা বাতিল করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকবেন। আর এ কারণে পুলিশের দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে জানানো হবে।

রোববার (২৩ জানুয়ারি) সকালে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। ভার্চুয়ালি যুক্ত থেকে এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের পুলিশ সপ্তাহের স্লোগান— ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘দক্ষ পুলিশ, সমৃদ্ধ দেশ; বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ।’

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পুলিশের ১১টি ইউনিট প্যারেডের মধ্যে ৯টি ইউনিট অংশ নেবে। প্যারেডে অংশ নিতে ঢাকার বাইরে থেকে পুলিশের কোনো সদস্যকে আনা হয়নি। রেঞ্জ ডিআইজি (উপ-মহাপরিদর্শক), ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার, মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শুধু উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে আগত সবাইকেই করোনার নেগেটিভের সনদ থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্ব দেবেন পুলিশ সুপার মো. ছালেহ উদ্দিন। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।

এবারের পুলিশ সপ্তাহে ২৫ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইনস অডিটোরিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও ২৭ জানুয়ারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তাদের বৈঠকের কথা রয়েছে।

পুলিশ সদরদপ্তরের এআইজি (মিডিয়া) মো. কামরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘যারা অনুষ্ঠানে আসবেন ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরীক্ষাপূর্বক কোভিড নেগেটিভ সনদ আনতে হবে। যাদের সনদ থাকবে না তাদের অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না।’

২০২০ ও ২০২১ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২৩০ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ জানুয়ারি) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব সিরাজাম মুনিরার সই করা এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

২০২০ সালে পদক পাচ্ছেন যারা

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২০ সালে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও ২৫ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) ও ৫০ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে।

২০২১ সালে পদক পাচ্ছেন যারা

এছাড়াও পৃথক আরেকটি প্রজ্ঞাপনে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০২১ সালে ১৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম) ও ২৫ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম) দেওয়া হচ্ছে। আর গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ২৫ জন পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-সেবা) ও ৫০ জনকে রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম-সেবা) দেওয়া হচ্ছে।

পুলিশ সদরদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, বিপিএম সাহসিকতা ও সেবা এবং পিপিএম সাহসিকতা ও সেবা- এই চারটি ক্যাটাগরিতে প্রতি বছর এই পুরস্কার দেওয়া হয়। প্রতি বছর পুলিশ সপ্তাহের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই পদক পরিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রী। যারা এই পদকে ভূষিত হন তাদের নামের শেষে পিপিএম-পিপিএম উপাধি যুক্ত হয়।

আগামী ২৩ জানুয়ারি রাজারবাগে অনুষ্ঠিতব্য পুলিশ সপ্তাহে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যদের হাতে এসব পদক তুলে দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।

এছাড়া ২০১৯ সালে ৩৪৯ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম-পিপিএম পদক দেওয়া হয়েছিল। তার আগে ২০১৮ সালে ১৮২ জন, ২০১৭ সালে ১৩২ জন, ২০১৬ সালে ১২২ জন, ২০১৫ সালে ৮৬ জন কর্মকর্তা বিপিএম-পিপিএম পদক পান।