জাহাঙ্গীর কবির নানক পরিচয়ে সচিবকে ফোনে তদবির!

19

ঢাকা: আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিচয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে ফোন করে প্রতারণার অভিযোগে তারেক সরকার নামের একজনকে গ্রেফতার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় পল্টন পলওয়েল সুপার মার্কেট এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি মিরপুর বিভাগ।

ডিএমপি মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মো. ফারুক হোসেন বলেন, গত ১৬ জানুয়ারি বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক পরিচয়ে ফোন করা হয়। ফোনে চাকরির বিষয়ে জোর সুপারিশ করায় বিষয়টি সন্দেহ হয়।

এরপর তিনি ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন। এরপর ডিবি মিরপুর বিভাগের টিম ওই মোবাইল নম্বরের খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি জাহাঙ্গীর কবির নানকের নয়। এটি একটি প্রতারক চক্রের নম্বর। প্রতারক চক্রটি মিথ্যা পরিচয় দিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে।

এর ধারাবাহিকতায় প্রতারক তারেককে গ্রেফতার করা হয়। তারেক গত ২১ নভেম্বর নরসিংদী থেকে একটি ফোন কেনেন। এ সময় কৌশলে ওই দোকান থেকে অন্যের নামে রেজিস্ট্রেশন করা একটি রবি সিম নেন। পরে ওই নম্বর থেকেই জাহাঙ্গীর কবির নানকের পরিচয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিবকে ফোন করেন।

গ্রেফতার তারেক নরসিংদী জেলা জাতীয়তাবাদী প্রচারদলের সদস্য সচিব উল্লেখ করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, নিজেকে তিনি বিএনপি নেতা খায়রুল কবির খোকনের এপিএস বলে পরিচয় দিতেন। তিনি ২০০৬ সালে কারারক্ষী পদে নিয়োগ পান এবং ২০২০ সালে প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করায় চাকরিচ্যুত হন। বর্তমানে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নাম ব্যবহার করে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ফোন দিয়ে তদবির বাণিজ্য করে আসছিলেন।

তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে নিয়োগ সংক্রান্ত বিভিন্ন কাগজপত্র, প্রবেশপত্র, নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, নিয়োগ প্রতি আর্থিক লেনদেনের হিসাব পাওয়া গেছে।

ওই ব্যক্তি ২০২০ সালের ৪ ডিসেম্বর বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ তন্ময়ের পরিচয় ব্যবহার করে তৎকালীন আইজি প্রিজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মোমিনুর রহমান মামুনকে হোয়াটস অ্যাপে ফোন করে কারারক্ষী পদে চাকরির সুপারিশ করেন। এই মামলায় তিনি ৬ মাস কারাভোগ করে গত ২৮ অক্টোবর জামিনে মুক্তি পান। পরে তিনি আবার এমন প্রতারণার কাজ চালিয়ে আসছিলেন।