শুল্ক ফাঁকি: এমপি হারুনের সাজার রায় প্রকাশ

14

শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে বিএনপির সংসদ সদস্য মো. হারুনুর রশীদকে দেওয়া নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রেখেছিলেন হাইকোর্ট।

তবে সাজা বহাল থাকলেও হারুনকে নতুন করে কারাভোগ করতে হবে না। কারণ এ মামলায় তিন আসামি যে ১৬ মাস করে কারাভোগ করেছেন তাকেই সাজার মেয়াদ হিসেবে গণ্য করেছেন হাইকোর্ট।

সম্প্রতি ওই রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশ করা হয়েছে। সর্বোচ্চ আদালতের সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের বিচারপতিদের সইয়ের পর ৩৯ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়।

রোববার (১৬ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এর আগে গত ৯ ডিসেম্বর হাইকোর্টের বিচারপতি মো. সেলিমের একক বেঞ্চ হারুনুর রশীদের আপিল আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন।

এদিন আদালতে সংসদ সদস্য হারুনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী অ্যাডভোকেট এসএম শাহজান, ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, অ্যাডভোকেট সৈয়দ মিজানুর রহমান ও অ্যাডভোকেট সৈয়দা আশিফা আশরাফি পাপিয়া। তাদের সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজীদ সিদ্দিকী। দুদকের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।

অন্যদিকে অপর আসামি মো. এনায়েতুর রহমানের পক্ষে ছিলেন- আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনসুরুল হক চৌধুরী, অ্যাডভোকেট হারুন-অর-রশিদ, অ্যাডভোকেট ইউসুফ খাম রাজিব, অ্যাডভোকেট এনায়েত বাতেন, অ্যাডভোকেট আদনান সরকার।

অপর আসামির ইশতিয়াক সাদেকের পক্ষে ছিলেন- অ্যাডভোকেট শেখ বহারুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট বিএম ইলিয়াস আহমেদ কচি ও অ্যাডভোকেট মো. শাহারিয়ার কবীর।

দুদকের আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান জাগো নিউজকে বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে আসামিদের করা মূল আপিল খারিজ করেছেন হাইকোর্ট। ফলে তার সাজা বহাল। কিন্তু কোর্টের ‘পাওয়ার’ এবং ‘অনুকম্পায়’ সাজার মেয়াদ পরিবর্তন করা হয়েছে। এখন তার আর জেলে যেতে হবে না। এরই মধ্যে আসামি যতটুকু কারাভোগ করেছেন, তার বাইরে তার আর কোনো সাজা ভোগ করতে হবে না।

দুদকের এই আইনজীবী আরও বলেন, বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজার বিরুদ্ধে মো. হারুনুর রশীদের করা মূল আপিল হাইকোর্টে খারিজ হওয়ায় আইন অনুযায়ী তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে না।

২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক শেখ নাজমুল আলম দণ্ডবিধির ৪০৯ ধারায় এমপি হারুনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে ওই রায়ে তাকে ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

বিচারিক আদালতের ওই রায়ে এমপি হারুন ছাড়াও চ্যানেল নাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এনায়েতুর রহমান বাপ্পীকে দুই বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। আরেক আসামি ইশতিয়াক সাদেককে তিন বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৪০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, হারুন চার দলীয় জোট সরকারের সময় ২০০৫ সালে ব্রিটেন থেকে একটি হ্যামার ব্র্যান্ডের গাড়ি শুল্কমুক্তভাবে কেনেন। গাড়িটি তিনি পরে আরেক আসামি ইশতিয়াক সাদেকের কাছে ৯৮ লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। এরপর সাদেক গাড়িটি চ্যানেল নাইনের এমডি বাপ্পীর কাছে বিক্রি করেন।

নিয়ম অনুযায়ী শুল্কমুক্ত গাড়ি তিন বছরের মধ্যে বিক্রি করলে শুল্ক দিতে হয়। কিন্তু হারুন শুল্ক না দিয়ে বিশ্বাস ভঙ্গ করেন। এ অভিযোগে ২০০৭ সালের ৭ মার্চ তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক ইউনুছ আলী এমপি হারুনসহ তিনজনের নামে একটি মামলা করেন।

মামলায় ২০০৭ সালের ১৮ জুলাই আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। ওই বছরই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয় এবং আদালত ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

মো. হারুনুর রশীদ সবশেষ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসন থেকে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন। এর আগেও তিনি দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।