ইবি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগ

17

ইবি: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শেখ রাসেল হলের আবাসিক এক শিক্ষার্থীকে থাপ্পড় মারার হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের অভিযোগ এনে হলের কর্মকর্তা সুজল কুমার অধিকারীর বিরুদ্ধে তিন পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী।

বুধবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে হল প্রভোস্ট ও প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন ওই শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম রিপন রায়। সে বিশ্ববিদ্যালয়ের ল’ অ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রিপন রায় শেখ রাসেল হলের ১০২ নম্বর কক্ষে থাকেন। ১০২ নম্বর কক্ষটি হলের গণরুম। গণরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সিট দেওয়ার আগ পর্যন্ত সেখানে নতুন কোনো শিক্ষার্থীকে উঠাবে না বলে আগেই জানিয়েছিল হল প্রশাসন। এছাড়াও হলে আর কোনো গণরুম চালু করবে না বলেও হল প্রশাসন জানিয়েছিল।

তবে মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) বিকেলে হল কর্মকর্তা সুজল কুমার অধিকারী এক শিক্ষার্থীকে গণরুমে (১০২ নম্বর) তোলার জন্য নিয়ে আসেন। তবে কক্ষে থাকা শিক্ষার্থীরা অপরাগত প্রকাশ করেন। পাশাপাশি হল প্রভোস্টের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলবেন বলে শিক্ষার্থীরা জানান। এসময় সুজল কক্ষে থাকা বৈদ্যুতিক হিটার দেখতে পেয়ে তাদের হুমকির সুরে বলেন, ‘তোমাদের রুমে হিটার দেখে গেলাম। ’

এসময় ভুক্তভোগী ব্রত পালনের জন্য হিটারে মাঝেমধ্যে নিরামিষ রান্না করেন বলে সুজলকে জানান। এতে সুজল ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী রিপন ও কক্ষে থাকা অন্যদের ওপর চড়াও হয়ে বলেন, ‘এই ছেলে তোমারে থাপড়ায়ে সোজা করে দেব। তুমি জানো আমি হল প্রশাসন কী করতে পারি। তোমরা আসো আর বলো আমি গরিব অনেক দূরে বাড়ি, আমাকে একটা সিট দেন। ’

লিখিত অভিযোগে ভুক্তভোগী আরও জানান, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুজল এর আগেও একাধিকবার তার ও সহপাঠীদের সঙ্গে বিভিন্ন সময়ে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। এদিকে সজলের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি ধমকি দেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে। গত অক্টোবরের শেষের দিকে তার বিরুদ্ধে হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা আন্দোলনও করেছেন বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা সজল কুমার অধিকারী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কোনো খারাপ আচরণ করিনি উল্টো ওরাই সিনক্রিয়েট করেছে। ওদের রুমে হিটার দেখে জিজ্ঞেস করছিলাম কি ব্যাপার হিটার চালাচ্ছ কেন। রিপন আমার সামনে এসে বলুক, আমি খারাপ আচরণ করে থাকলে তার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, বিষয়টি ভুক্তভোগীর মাধ্যমে শুনেছি। ক্যাম্পাসের বাইরে থাকায় লিখিত অভিযোগ হাতে পাইনি। ওই ছাত্রকে অফিসে অভিযোগপত্রটি জমা দিতে বলেছি। যেহেতু এটা হলের ব্যাপার তাই শনিবার প্রভোস্টের সঙ্গে বসবো।

জানা যায়, অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুজল কুমার অধীকারীর বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বাংলা বিভাগের কর্মচারী থাকাকালীন ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে এক পরীক্ষার্থীকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জালিয়াতি করার সুযোগ করে দেন সুজল। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত তাকে দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছিলেন।