ইলিশ সম্পদ উন্নয়নে যুক্ত হচ্ছে গবেষণা জাহাজ

4

দেশে ইলিশ মাছ গবেষণায় যুক্ত হচ্ছে নতুন জাহাজ। মঙ্গলবার (৪ জানুয়ারি) খুলনা শিপইয়ার্ডে জাহাজটির উদ্বোধন করবেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মোহনা অঞ্চলে গবেষণার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে আধুনিক কোনো গবেষণা জাহাজ ছিল না। ইনস্টিটিউটের ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের আওতায় খুলনা শিপইয়ার্ড জাহাজটি নির্মাণ করা হয়।

জাহাজটির নাম ‘এম.ভি.বিএফআরআই গবেষণা তরী’। এতে রয়েছে ফিশ ফাইন্ডার, ইকো-সাউন্ডার, নেভিগেশন এবং অত্যাধুনিক টেলি-যোগাযোগ ব্যবস্থা, অগ্নি নির্বাপক সরঞ্জামাদি, ইলিশ গবেষণা ল্যাবরেটরি, নেটিং সিস্টেম, পোর্টেবল মিনি হ্যাচারিসহ অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তি।

জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৮৬ ফুট এবং প্রস্থ ১৯ দশমিক ৬৮ ফুট। এরই মধ্যে ইনস্টিটিউটের ১০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জাহাজ পরিচালনায় ১৪ দিনের ট্রেনিং দেওয়া হয়েছে।

জাহাজটির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন খুলনা সিটি করপোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। আর অতিথি হিসেবে থাকবেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের মোট উৎপাদিত মাছের ১২ দশমিক ২২ শতাংশ আসে শুধু ইলিশ থেকে। দেশজ জিডিপিতে ইলিশের অবদান ১ শতাংশের বেশি। বিশ্বের মোট উৎপাদিত ইলিশের প্রায় ৮০ শতাংশ বাংলাদেশের নদ-নদী, মোহনা ও সাগর থেকে আহরিত হয়। ইলিশ উৎপাদনকারী ১১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ শীর্ষে রয়েছে।

ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের কর্মকর্তারা বলছেন, জলজ পরিবেশসহ জলবায়ুগত উপাদানের ওপর ইলিশ মাছের উৎপাদন নির্ভরশীল। প্রাকৃতিক ও মানুষের সৃষ্ট নানা কারণে এ বিষয়সমূহ প্রতিনিয়ত প্রভাবিত ও পরিবর্তিত হচ্ছে। পরিবেশ ও আবাসস্থলের পরিবর্তনের কারণে ইলিশের প্রাচুর্য ও জীবন বৃত্তান্তেও পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে দেশে ইলিশের উৎপাদনে এক ধরনের সংকট সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। তাই এ সম্পদের সহনশীল উৎপাদন বজায় রাখা ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা কৌশলের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘমেয়াদী গবেষণার প্রয়োজন। ইলিশের প্রজনন-জাটকার বিচরণক্ষেত্র এবং ইলিশের অভিপ্রয়াণ পথের কী পরিবর্তন হচ্ছে এসব বিষয়েও গবেষণা করা অপরিহার্য।

ইলিশ গবেষণা জোরদারকরণ প্রকল্পের পরিচালক মো. আবুল বাসার জাগো নিউজকে জানান, জাহাজটির সাহায্যে দেশের প্রায় সবকয়টি নদ-নদী এবং সাগর উপকূলে ইলিশ বিষয়ক গবেষণা পরিচালনা করা সম্ভব হবে। গবেষণালবদ্ধ ফলাফল ইলিশের সহনশীল উৎপাদনে ভূমিকা রাখবে। ইলিশ গবেষণায় জাহাজটি বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সার্বিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিকে আরও প্রসারিত করবে।

এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী জাগো নিউজকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়োপযোগী ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপের কারণে ইলিশের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। অথচ এক সময় কমে গিয়েছিল ইলিশ আহরণ। পরবর্তীতে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইলিশ সম্পদের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে গবেষণালব্ধ ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে সরকার ইলিশের অভয়াশ্রম সৃষ্টি ও অভয়াশ্রমে জাটকা ধরা বন্ধ, প্রজনন মৌসুমে ২২ দিন ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বিপণন, মজুত, ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধকরণ, নভেম্বর থেকে জুন ৮ মাস জাটকা ধরা বন্ধ, সমুদ্রে ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধসহ নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে। পাশাপাশি মৎস্যজীবীদের ভিজিএফ খাদ্য সহায়তা প্রদান ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। এসব কার্যক্রমের ফলে ইলিশ আহরণের পরিমাণ ২০০৮-৯ অর্থবছরে ২ দশমিক ৯৯ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫ দশমিক ৬৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হয়।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন নদ-নদী ও মোহনা অঞ্চলে গবেষণা পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটে আধুনিক কোনো উন্নতমানের গবেষণা জাহাজ ছিল না। এখন এ জাহাজ দিয়ে দেশের বড় বড় সবকটি নদ-নদী এবং সাগর উপকূলে ইলিশ নিয়ে গবেষণা করা সম্ভব হবে।