১৫০ রানের লিডের আশায় বাংলাদেশ দল

13

ইতিহাস জানাচ্ছে, ২০১৭ সালের এই জানুয়ারিতে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে ওয়েলিংটনে ব্ল্যাকক্যাপসদের সঙ্গে দারুণ একটি দিন কাটিয়েছিল বাংলাদেশ। ট্রেন্ট বোল্ট, টিম সাউদি, নেইল ওয়াগনার ও মিচেল স্যান্টনারের বিপক্ষে একদিনে ৪ উইকেটে ৩৮৮ রান তুলে রীতিমতো সাড়া জাগিয়েছিল টাইগাররা।

তারপর ২০১৯ ও ২০২১ সালের শুরুতে আরও দুইবার নিউজিল্যান্ড সফর করেছে বাংলাদেশ। কিন্তু অমন সোনাঝরা দিন আর আসেনি। চার বছর পর সেই নিউজিল্যান্ডের মাটিতে আরও একটি চমৎকার দিন কাটালো টিম বাংলাদেশের। এবারও ব্যাটাররাই উপহার দিলেন এক সোনালি দিন।

অধিনায়ক মুমিনুল হক ও লিটন দাস এবং শেষ দিকে মেহেদি হাসান মিরাজ ও ইয়াসির আলি রাব্বি মিলে আজ (সোমবার) মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টের দ্বিতীয় দিনটিও নিজেদের করে রাখলেন। সাকিব আল হাসানের মতো হাত খুলে কিউই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে ব্যাটকে খোলা তরবারি বানিয়ে ডাবল সেঞ্চুরি (২১৭) উপহার দিতে পারেননি কেউ।

মুশফিকুর রহিমের মতো ‘বিগ হান্ড্রেড’ও (১৫৯) বেরিয়ে আসেনি কারও ব্যাট থেকে। তবে আদর্শ টেস্ট ব্যাটিং বলতে যা বোঝায়, অধিনায়ক মুমিনুল হক ও স্টাইলিশ লিটন দাস সেই ধৈর্য্য ও মনোসংযোগী ব্যাটিংয়ের অনুপম স্বাক্ষর রেখেছেন। দুজনই শতরানের সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। অধিনায়ক ১২ ও লিটন ১৪ রানের জন্য শতরান করতে পারেননি।

তাদের শতক পূর্ণ না হলেও তৃতীয় দিন শেষে নিউজিল্যান্ডের ৩২৮ রান টপকে ৭৩ রানে এগিয়ে গেছে। টাইগারদের হাতে এখনও ৪ উইকেট অক্ষত। এমন আদর্শ টেস্ট ব্যাটিং দেখে ভক্ত ও সমর্থকরা সন্তুষ্ট। টিম বাংলাদেশের ডিরেক্টর খালেদ মাহমুদ সুজনও খুব খুশি।

জাতীয় দলের এ সাবেক অধিনায়ক মানছেন টেস্টে এটা টাইগারদের অন্যতম সেরা দিন । সুজন বেশি খুশি মুমিনুল ও লিটনের অ্যাপ্রোচ ও আত্মনিবেদন দেখে। তার মূল্যায়ন, ‘হ্যাঁ কাজটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। তবে প্রক্রিয়াটি দারুণ ছিল। দারুণভাবে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেছে ছেলেরা।’

ম্যাচে বাংলাদেশ এখন কোথায় দাঁড়িয়ে? কী হতে পারে? এমন প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে সুজন জানান, ‘১৫০ রানের লিড পেলে বাংলাদেশ ভালো অবস্থানে থাকবে। আমাদের হাতে ৪ উইকেট আছে। মিরাজ ও ইয়াসির আছে, ৭৩ রানের লিড আছে। আরও ৭০ রানের মতো লিড পেলে দেড়শ রানের মত লিড হবে। তখন আমরা ভালো অবস্থানে থাকব।’