লো প্রোফাইল মেইন্টেইন করতে চাই: জালাল

16

তিনি বিসিবির নতুন ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার নন যে একটি নির্দিষ্ট দিনে চাকুরিতে যোগ দিতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ে অফিস করতে হবে। তাই দায়িত্ব প্রাপ্তির চারদিন পর মঙ্গলবার প্রথম বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে গিয়েছিলেন ক্রিকেট অপারেশনসের নতুন চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন, ক্রিকেট অপসের দুই সহকারী ম্যানেজার সেলিম এবং শাহরিয়ার নাফীস ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু তাকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করেছেন।

ভাবছেন জাতীয় দল নিউজিল্যান্ডে প্রথম টেস্টে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে, আর সেখানে গত ২৪ ডিসেম্বর বোর্ডের নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটিতে ক্রিকেট অপারেশনস কমিটির প্রধান হয়ে গতকাল কেন প্রথম বিসিবিতে গেলেন জালাল ইউনুস? বিষয়টি তেমন নয়।

বিসিবির নতুন স্ট্যান্ডিং কমিটি প্রধানের পদ পাওয়া মানেই পর দিন থেকে কাজে লেগে যাওয়া নয়। প্রতিটি স্ট্যান্ডিং কমিটির অধীনে বেতনভুক্ত ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজারসহ আরও পেইড স্টাফ আছেন। তারা রুটিন মেনেই কাজকর্ম পরিচালনা করেন।

তাই দায়িত্ব প্রাপ্তির পর কোন পরিচালকের ঘটা করে যোগদানের কিছু নেই। জালাল তবু চার দিনের মাথায় বোর্ডে এসেছেন, স্ট্যান্ডিং কমিটির বেশ কজন পরিচালক দেশের বাইরে থাকায় এখনও বোর্ডে আসতে পারেননি।

জালাল ইউনুস চেয়েছিলেন গত ২৬ ডিসেম্বর বোর্ডে আসতে। কিন্তু শারীরিক কারণে পারেননি। মঙ্গলবার রাতে জাগো নিউজের সাথে আলাপে জালাল জানান, ‘চেয়েছিলাম রোববার বোর্ডে যেতে। কিন্তু শরীরটা তেমন ভাল না থাকায় যেতে পারিনি। ২৭ ডিসেম্বর ছিল বিপিএলের প্লেয়ার্স ড্রাফট। সেখানেই কেটেছে সারা দিন। মঙ্গলবারই দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বোর্ডে প্রথম আসা।’

কোনরকম আনুষ্ঠানিকতা পছন্দ নয় জালালের। বিসিবির ক্রিকেট অপসের নতুন চেয়ারম্যানের কথা, ‘আমার আগে আরও বেশ কজন এই পদে ছিলেন। তারাও দেশের ক্রিকেট উন্নয়নে কাজ করেছেন। ক্রিকেটকে এগিয়ে নিতে ভূমিকা রেখেছেন। আমি তাদেরই একজন হিসেবে ক্রিকেট উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’

তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমার প্রথম ও প্রধান কাজ হবে জাতীয় দলে স্থিতি ফিরিয়ে আনা। টিম বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমকে শান্তির নীড়ে পরিণত করা। টিম ম্যানেজমেন্ট ও ক্রিকেটারদের মাঝে মেলবন্ধন তৈরি করা। দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রথম ক্রিকেট অপস চেয়ারম্যানের চেয়ারে বসা নিয়ে বাড়তি আবেগ, উচ্ছাসের কী আছে? এটা তো স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।’

‘আমার আগে আরও বেশ কজন দক্ষ ও নামী ক্রিকেট ব্যক্তিত্ব এই ক্রিকেট অপসের দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা কে কবে এসেছেন, কখন চলে গেছেন? কে মনে রেখেছে? এখানে বাড়তি আড়ম্বর-আনুষ্ঠানিকতার কী আছে? কোন আনুষ্ঠানিকতার কিছু নেই। আমাকে একটু ফুল দিলো।’

জালালের অনুভব, ‘এখন ক্রিকেটের অনেক ছোটখাট কাজকর্মও অনেক আলোচিত হয়। একটু মিডিয়া হাইপ পায়।’ তবে ক্রিকেট অপসের নতুন চেয়ারম্যান চান যতটা সম্ভব নীরবে কাজ করতে। তার কথা, ‘হইচই, ঢাক-ঢোল পেটানোর কিছু নেই। আমি চাই লো প্রোফাইল মেইন্টেইন করতে। যত লো প্রোফাইলে থাকা যায় ততই ভালো।’