সবজির হাব (কেন্দ্র) ময়মনসিংহ সদর। এই উপজেলার বোরোর চর, চর পরাণগঞ্জ, চর খরিচাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে চাষ হয় নানান সবজি। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে রাজধানী ঢাকা, এমনকি বিদেশেও যায় এই সবজি। চরগুলোতে উৎপাদিত সবজি থেকে বছরে আয় হয় প্রায় ২০০ কোটি টাকা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিশাল এই সবজি উৎপাদনের কেন্দ্র থেকে যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা শম্ভুগঞ্জ-পরাণগঞ্জ সড়ক। প্রায় ১৮ কিলোমিটারের সড়কটি অত্যন্ত সরু। তার ওপর সড়কজুড়ে খানা-খন্দে ভরা। এক কথায় বেহাল দশা। মানুষের চলাচলেরই অনুপযোগী এই সড়ক সবজি বা মালামাল পরিবহনেও একেবারেই উপযোগী নয়।

কৃষকরা বলছেন, চরে কাঁচা মরিচ, বেগুন, টমেটো, শসা, ফুলকপি, বাঁধাকপিসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ হয়। কষ্ট করে ভালো ফলন পেলেও অপ্রতুল যোগাযোগ ব্যবস্থায় লাভের মুখ দেখেন না চাষিরা। উৎপাদিত সবজি যে সড়ক দিয়ে আড়তে নিতে হয়, তা দীর্ঘদিন ধরেই বেহাল দশায়।

কৃষকরা আরও বলছেন, ভোরে সবজি নিয়ে বের হলেও অনেক সময় সঠিক সময়ে বাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয় না। ভাঙা রাস্তায় ঝাঁকিতে সবজি নষ্ট হয়ে যায়। কখনো খানা-খন্দে গাড়ি আটকে গেলে তো কথাই নেই! তখন রাস্তাতেই পার হয়ে যায় দু-একদিন।

কুষ্টিয়াপাড়া গ্রামের চাষি মো. আবুল কালাম বলেন, ‘কিছুদিন আগে বড় দুই ট্রাক টমেটো বোঝাই করে রওনা দিয়েছিলাম। গন্তব্য ছিল যাত্রাবাড়ী আড়ৎ। অথচ উপজেলার এই সড়কটি পার হতেই দিন শেষ হয়ে যায়। দেরি হওয়ায় বাজার ধরতে পারিনি। টমেটোগুলোর অধিকাংশই থেঁতলে গেছে। লাভ তো দূরে থাক, সেবার পুঁজিও হারিয়েছি। এমন ঘটনা অহরহই ঘটে।’

তিনি বলেন, ‘এই সড়কটিই চাষিদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। একে তো চিকন (সরু), তার ওপর ভাঙাচোরা। বড় বড় গর্ত রয়েছে রাস্তায়। সেখানে একবার চাকা আটকে গেলে কখনো কখনো তো দিন পার হয়ে যায়। সামনে গাড়ি আটকে গেলে অন্যদেরও যানজটে পড়তে হয়। অটো, সিএনজিসহ নানা ধরনের গাড়ি চলে। সবজির ট্রাকও চলে। তবে রাস্তা একেবারেই উপযোগী নয়।’

বোরোর চরের আরেক চাষি কামরুল ইসলামেরও একই অভিযোগ। তিনি বলেন, ‘বড় সমস্যা এই রাস্তা। এই সমস্যার সমাধান জরুরি। এত বড় কৃষি অঞ্চলের জন্য সরু এই রাস্তা যথেষ্ট নয়।’

ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা তাহমিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘বিশাল জায়গাজুড়ে সবজি উৎপাদন হলেও পরিবহনের উপযুক্ত সড়ক নেই। সড়কটিই এখানকার বড় সমস্যা। সবপর্যায়ে (কর্তৃপক্ষ) বিষয়টি জানেও। কিন্তু সমাধান হচ্ছে না।’

তিনি বলেন, ‘শুধু সদর উপজেলাতেই গত বছর তিন হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে সবজি আবাদ হয়েছে। অবশ্য এবার আরও বেশি আবাদ হচ্ছে। ফলন ভালো, লাভও বেশি। এজন্য এলাকায় সবজি চাষ বাড়ছেই। সমস্যা শুধু একটাই, সড়কসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পর্যাপ্ত নয়।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি) ময়মনসিংহের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শহিদুজজামান খান বলেন, ‘রাস্তাটা টেন্ডার (নির্মাণে) হয়ে গেছে। আগামী জানুয়ারির শেষদিকে কাজ শুরু হবে।’

তবে কৃষকদের দাবি, সরু এ সড়কটি শুধু মেরামতই যথেষ্ট নয়। এটি প্রশস্ত করাও জরুরি।