নড়াইলের তুলারামপুরে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত

153

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘কোভিডোওর বিশ্বের টেকসই উন্নয়ন, প্রতিবন্ধী ব্যক্তির নেতৃত্ব ও অংশগ্রহ’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে নড়াইলের তুলারামপুর জে আর খাঁন অটিজম ও প্রতিবন্ধী স্কুলের উদ্যোগে ৩০তম আন্তর্জাতিক ও ২৩তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস পালিত হয়েছে।

শুক্রবার (০৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় তুলারামপুর আশার আলো কলেজ সংলগ্ন জে আর খাঁন অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ে নানা আয়োজনে দিবসটি পালিত হয়। এ সময় বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক/কর্মচারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি র‌্যালি, খেলাধুলা, থেরাপি, আবৃত্তি, আলোচনা সভা ও অভিভাবকদের বিভিন্ন পরামর্শ দেয়া হয়।

এ সব আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের সভাপিত অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের উদ্দেশ্যে ৩০তম আন্তর্জাতিক ও ২৩তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবসের তাৎপর্য উল্লেখ্য করে বলেন, প্রতিবছর ৩ ডিসেম্বরকে বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস হিসেবে পালন করা হয়। আজ হলো ৩০ তম আন্তর্জাতিক ও ২৩ তম জাতীয় প্রতিবন্ধী দিবস। ১৯৯২ সাল থেকে এই দিবসটি পালিত হয়ে আসছে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে। শারীরিকভাবে অসম্পূর্ন মানুষদের প্রতি সহমর্মিতা ও সহযোগীতা প্রদর্শন ও তাদের কর্মকান্ডের প্রতি সম্মান জানানোর উদ্দেশ্যেই এই দিবসটির সূচনা হয়।

বিশ্বজুড়ে প্রতিবন্ধী দিবসের অনুগামিতার পিছনে আছে এক ঘটনাবহুল জীবনস্মৃতি। ১৯৫৮ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে বেলজিয়ামে এক সাংঘাতিক খনি দুর্ঘটনায় বহু মানুষ মারা যান। আহত পাঁচ সহস্রাধিক ব্যক্তি চিরজীবনের মতো প্রতিবন্ধী হয়ে পড়েন। তাদের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। তাদের প্রতি সহমর্মিতায় ও পরহিতপরায়ণতায় বেশ কিছু সামাজিক সংস্থা চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের কাজে স্বতঃপ্রবৃত্তভাবে এগিয়ে আসে। এর ঠিক পরের বছর জুরিখে বিশ্বের বহু সংগঠন সম্মিলিত ভাবে আন্তর্দেশীয় স্তরে এক বিশাল সম্মেলন করেন। সেখান থেকেই প্রতিবন্ধকতা সম্পর্কে বিস্তারিত সব তথ্যের হদিশ মেলে। সেখানে সর্বসম্মতভাবে প্রতিবন্ধী কল্যাণে বেশকিছু প্রস্তাব ও কর্মসূচি গৃহীত হয়। খনি দুর্ঘটনায় আহত বিপন্ন প্রতিবন্ধীদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য বিশ্ব প্রতিবন্ধী দিবস পালন করতে আহ্বান জানানো হয়। সেই থেকেই কালক্রমে সারা পৃথিবীর প্রতিবন্ধী মানুষের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়ানোর দিন হয়ে উঠেছে।