নড়াইলে ছেলের সাক্ষীতে বোনকে হত্যার দায়ে ভাইয়ের মৃত্যুদন্ড

16

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজের আপণ বোনকে পানিতে ফেলে চুবিয়ে হত্যার দায়ে ভাইকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। সোমবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় নড়াইল জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুন্সী মোঃ মশিয়ার রহমান নড়াইলে মো: রিপন মোল্যাকে মৃত্যুদন্ড আদেশ ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।

সাজাপ্রাপ্ত আসামি মোঃ রিপন মোল্যা নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার নড়াগাতী থানার কালীনগর গ্রামের মকছেদ মোল্যার ছেলে।

এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী নূর মোহাম্মদ মোল্্যা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়, আসামী মো: রিপন মোল্যাকে পেনাল কোডের ৩০২ ধারায় মৃত্যুদন্ডে দন্ডিত করা হলো এবং ২০,০০০/- (বিশ হাজার টাকা মাত্র ) জরিমানা আরোপ করা হলো। মহামান্য সুপ্রীম কোর্ট এর মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে যতক্ষণ পর্যন্ত আসামির মৃত্যু না হয় ততক্ষণ গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলিয়ে রেখে আসামির মৃত্যুদন্ড কার্যকর করতে হবে। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা ইস্যু করা হোক। জব্দকৃত আলামত রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হলো । বিধি মোতাবেক জব্দকৃত আলামত ধ্বংস করা হোক। ফৌজদারী কার্যবিধির ৩৭৪ ধারার বিধানমতে মৃত্যুদন্ডের অনুমোদনের জন্য এই মামলার নথি (যাবতীয় কাগজপত্র) মাননীয় রেজিস্ট্রার জেনারেল, বাংলাদেশ সুপ্রীম কোর্ট , ঢাকা বরাবর প্রেরণ করা হোক । রায়ের অনুলিপি বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নড়াইল বরাবর প্রেরণ করা হোক।

মামলার বিবরণে জানাযায়, মোঃ মকছেদ মকু মোল্যার কন্যা ভিকটিম ফাতেমা বিগত ১০১৯ সালের ২৫ শে নভেম্বর বিকাল ৩টায় নড়াইলের নড়াগাতী থানার কালিনগর গ্রামে নলিয়া নদীর পাড়ে কাপড় পরিস্কার করছিল। আসামি মোঃ রিপন মোল্যা পিছন থেকে গিয়ে ধাক্কা দিয়ে নদীর পানিতে ফেলে চুবিয়ে বাঁশের লাঠি ও ট্যাংগারী দিয়ে ভিকটিম ফাতেমার মাথায় ও শরীরে কয়েকটি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে হত্যা করে। লাশ পানির নিচে কাঁদায় পুতে রাখে। আসামির ছেলে রাশেদ মোল্যা ঘটনাটি দেখে ফেলে। বিকেলে অনেক খোঁজাখুজির পর ফাতেমার লাশ পাওয়া যাচ্ছিল না। একপর্যায়ে রাশেদ মোল্যার বর্ণনা অনুযায়ী নলিয়া নদীর ঘাট থেকে ভিকটিম ফাতেমার লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে ভিকটিম ফাতেমার লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠান। পুলিশ আসামি আসামি মোঃ রিপন মোল্যাকে ধৃত করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আসামি রিপন মোল্যা পুলিশ ও সাক্ষীদের সামনে ভিকটিমকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে। অত:পর এজাহারকারী নড়াগাতী থানায় হাজির হয়ে এই মামলাটি দায়ের করেন।

এ মামলায় আসামি রিপনের ছেলে রাশেদসহ অন্যান্য সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় বিচারক এ দন্ডাদেশ প্রদান করেন।