রাত পোহালেই ভোট,কে হচ্ছেন লোহাগড়ার মেয়র?

77

স্টাফ রিপোর্টার : রাত পোহালেই লোহাগড়া পৌরসভার ভোটগ্রহণ। কে হচ্ছেন পৌর মেয়র? ঘুমন্ত রাজ্যের স্বপ্ন দ্রষ্টা? না কি নিরেট সৎ, মানবিক, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত রাখতে পারে এমন মানুষ? এ নিয়ে চায়ের দোকানে, রাস্তা-ঘাটে সকল মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ হচ্ছে। পাশাপাশি পাকা মস্তিষ্কের লড়াইও সমান তালে চলছে।

এদিকে নড়াইলকণ্ঠ এর একটি টিম দিন দুয়েক আগে লোহাগড়া পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ খবর নিতে গেলে নাম প্রকাশে অনুচ্ছুক এমন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ জানান, ‘পাঁচ বছর যার ঘুমিয়ে কেটেছে, উন্নয়ন বরাদ্দের টাকা ব্যয় করার মতো যার যোগ্যতা নেই, যার আমলে এ পৌরসভায় যোগযোগ ব্যবস্থার চরম বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে, নাগরিক সেবা নিতে মানুষ দিনের পর দিন বাড়িতে গিয়ে ধন্না দিয়েও দেখা মেলেনি এমন মানুষকে লোহাগড়া পৌরসভাবাসি এ নির্বাচনে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করবে না নিশ্চিত।

এ সময় পৌর ভোটারা আরও জানান, ‘আমরা খুঁজতেছি সৎ, নিরঅহংকার, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত যোগ্য মানুষ। এবার আমরা ঘুমিয়ে স্বপ্ন দেখেন এমন মানুষ নয়, জেগে স্বপ্ন দেখাতে পারেন এমন মানুষকে ভোট দিবে লোহাগড়া পৌরসভার ভোটারা।

মানবাধিকার ও উন্নয়ন কর্মী আবদুল হাই প্রতিনিধিকে জানান, জেনে বুঝে সৎ যোগ্য ব্যক্তিকে ভোট দিবেন, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত লোহাগড়া পৌরসভা গড়তে লোহাগড়া পৌরসভার ভোটারদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন তিনি। ভোট আপনার সিদ্ধান্তও আপনার।

উল্লেখ্য, ০২ নভেম্বর লোহাগড়া পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন তিন প্রার্থী। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, দলের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম এবং বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির প্রার্থী মইন হাছান কাজল।

এছাড়া কাউন্সিলর পদে ৪০ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ১২ জন নারী প্রার্থী মাঠে আছেন। এখানে ভোটার সংখ্যা ২৩ হাজার ৭৩৭। এর মধ্যে নারী ভোটার ১২ হাজার ১৬০ এবং পুরুষ ভোটার ১১ হাজার ৫৭৭ জন। লোহাগড়া পৌরসভায় ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

যা নড়াইল জেলার ক্ষেত্রে প্রথম ইভিএম পদ্ধতি। এদিকে ভোটারসহ পৌরবাসীর অভিযোগ, ২০০৩ সালে প্রতিষ্ঠিত পৌরসভায় তেমন কোনো উন্নয়ন নেই। সামান্য বৃষ্টি হলেই লোহাগড়া বাজার, থানা রোডসহ বিভিন্ন এলাকা পানিবন্ধী হয়ে পড়ে। বেশির ভাগ পাকা সড়কই ভাঙ্গাচেরা।

এছাড়া কাঁচা রাস্তার সংখ্যা বেশি। বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম তেমন কোনো উন্নয়ন করেননি। অফিসিয়াল কাজেও পৌরবাসী তার সঙ্গে ঠিকমত দেখা করতে পারেননি। তিনি জনগণ থেকে দুরে থেকেছেন। লোহাগড়ার সরকারি-বেসরকারি তেমন কোনো কর্মসূচীতে তাকে পাওয়া যায়নি।

এমনকি নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা লোহাগড়া পৌর এলাকার উন্নয়ন কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরগুলোতে যোগাযোগ রক্ষা করলেও ওইসব কাজে বর্তমান মেয়রের তেমন একটা সহযোগিতা পাননি। তাই এবারের নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মসিয়ূর রহমানকে বিজয়ী করতে চায় পৌরবাসীসহ দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা।

এ লক্ষ্যে ব্যাপক গণসংযোগসহ প্রচার-প্রচারণা চালিয়েছেন নৌকা প্রতীকের সমর্থকেরা। প্রচারণার শেষ দিকেও মাঠে ছিলেন সবাই। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে জয়পুর এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী সৈয়দ মসিয়ূর রহমানের পক্ষে নির্বাচনী সভা অনুষ্ঠিত হয়।

লোহাগড়া পৌর আ’লীগের সভাপতি কাজী বনি আমিনের সভাপতিত্বে নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখেন-জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সৈয়দ আইয়ুব আলী, লোহাগড়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি সিকদার আব্দুল হান্নান রুনু, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মুন্সি আলাউদ্দিন,

মেয়র প্রার্থী উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মসিয়ূর রহমান, যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চৈতী রানী বিশ্বাস, বিউটি বেগম, লোহাগড়া উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক শেখ সিয়ানুক রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সিকদার নজরুল ইসলাম, ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক কাইয়ুম খান চুন্নু,পৌর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, মল্লিকপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিকদার মোস্তফা কামাল, জয়পুর ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সাহাবুদ্দিন সাবু, যুবলীগ নেতা সদরউদ্দিন শামীম, প্রধান শিক্ষক এস এস হায়াতুজ্জামানসহ অনেকে।

বক্তারা বলেন, সৈয়দ মসিয়ূর রহমান যোগ্য মেয়র প্রার্থী। জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী তাকে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। ২ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে বিজয়ী করতে হবে। বর্তমান মেয়র আশরাফুল আলম জনবিচ্ছিন্ন জনপ্রতিনিধি। বিগত পাঁচ বছর কোনো উন্নয়ন করতে পারেননি।

তার বিরুদ্ধে মাদকাসক্তসহ বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে। তাই এবারের নির্বাচনে ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে তাকে প্রতিহত করতে হবে। এদিকে, রোববার বিকেলে জগ প্রতীকের প্রার্থী আশরাফুল আলম তার নির্বাচনী ইশতেহারে পৌরসভার উন্নয়নসহ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির বিষয়ে কথা বলেন।

তিনি নির্বাচিত হলে পৌর এলাকায় আরো উন্নয়ন করবেন বলে জানান। ২১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেন তিনি। লোহাগড়া নির্বাচন কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন বলেন, সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে সব ধরণের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এবারই প্রথম ইভিএম পদ্ধতিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১১টি।