নড়াইল জেলা যুবলীগের বর্ধিত সভা:২৬ বছর পর সম্মেলনের সিদ্ধান্ত

31

স্টাফ রিপোর্টার : নড়াইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের বর্ধিত সভা উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। দ্রূত সম্মেলনের মধ্যদিয়ে কমিটি করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল হয়। সভার শুরু হওয়ার আগে হাতাহাতিও হয়। বুধবার (২৭ অক্টোবর) দুপুরে নড়াইল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এদিকে দলীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল জেলা আওয়ামী যুবলীগের সর্বশেষ পূর্ণাঙ্গ কমিটি হয় ১৯৯৫ সালে। এরপর থেকে গত প্রায় দুই দশক ধরে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে চলছে সংগঠন। লোহাগড়া, কালিয়া ও সদর উপজেলার কমিটিরও একই অবস্থা। এ নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের মধ্যে। দ্রুত জেলা যুবলীগের নতুন কমিটি করার দাবিতে মূহর্মূহ মিছিল হয়। এর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

জেলা আওয়ামী যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশী সৌমেন বসুর পক্ষে শহরে ব্যাপক শোডাউন হয়। তারা দ্রুত সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি করার দাবি জানান। বর্ধিত সভা শেষে জেলা পরিষদের প্রধান ফটকে দাঁড়িয়ে সম্মেলনের দাবিতে তারা মিছিল করতে থাকেন।

বর্ধিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আল সাইফুল সোহাগ, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী সরোয়ার হোসেন, উপ কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক রওশন জামির, কার্যনির্বাহী সদস্য কাজী বশির আহমেদ, শেখ মো. তরিকুল ইসলাম, ইমরুল হক, শাহীন আহমেদ, সজিবুল ইসলাম, চৈতী রানী বিশ্বাস ও শেখ জসিম উদ্দিন। বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা যুবলীগের আহবায়ক মোঃ ওয়াহিদুজ্জামান।

দলীয় নেতা-কর্মীরা বলছেন, কমিটির এই স্থবিরতায় সংগঠনে বিরোধ বেড়েছে। দুর্বল হয়ে পড়েছে সাংগঠনিক কার্যক্রম। এ অবস্থায় সংগঠনের সম্মেলন করতে আগামী ২৭ অক্টোবর বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।

জেলা যুবলীগের বর্তমান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, ’৯০ দিন পর আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার কথা। অথচ প্রায় দুই দশক ধরে চলছে আহ্বায়ক কমিটি। সংগঠনের বর্তমান কোনো কার্যক্রম নেই। কমিটিতে এখন আহ্বায়কই সর্বেসর্বা। তিনি একা যা মনে চায় তাই করেন। তিনি তৃণমূলে কমিটি করতে পারেননি। সংগঠনের প্রতি তাঁর আন্তরিকতা নেই। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হলে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ কমিটি করতে হবে।’

জানতে চাইলে জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে বিরোধ নেই। বাংলাদেশে যুবলীগের যত কমিটি আছে তার মধ্যে সর্বশেষ কমিটি আমারটি। করোনার কারণে ও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের জন্য সম্মেলন করতে দেরি হয়েছে। তৃণমূলের কমিটিগুলো করে অতি দ্রুত জেলা কমিটি করা হবে।’

প্রধান অতিথি যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুব্রত পাল বর্ধিত সভায বলেন , আগামি বছরের ৩০ জানুয়ারির মধ্যে জেলা সম্মেলন করতে হবে এবং এর আগে সকল ইউনিটের সম্মেলন কমিটি চুড়ান্ত করতে হবে।