নড়াইল জেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এমপি’র

38

স্টাফ রিপোর্টার॥ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নড়াইল জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলুর বিরুদ্ধে মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ এনেছেন নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি। তিনি একই অভিযোগ এনেছেন কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এস এম হারুন অর রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষের বিরুদ্ধেও।

এমপি মুক্তির অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ইউনিয়নের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের কাছ থেকে আওয়ামী লীগের এই নেতারা টাকা নিয়েছেন। নিজাম উদ্দিন খান নিলু অবশ্য তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

রবিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এমপি মুক্তি এ অভিযোগ আনেন।

সংবাদ সম্মেলনে এমপি কবিরুল হক মুক্তি বলেন, নড়াইলের প্রতিতিটি ইউনিয়নের প্রকৃত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলীয় মনোনয়ন না দিয়ে অর্থের বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াতের লোকদের নৌকা দিয়েছেন চেয়ারম্যান নিলু এবং কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ দুই নেতা। কালিয়াতেও প্রকৃত আওয়ামী লীগের লোকদের বাদ রেখে অর্থের মিনিময়ে দলীয় মনোনয়ন দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

নড়াইল-১ আসন সংসদ সদস্য মুক্তি আরও বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের (নিজাম উদ্দিন খান নিলু) আয়ের উৎস কী?

তৃতীয় ধাপে আগামী ২৮ নভেম্বর দেশের এক হাজার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোট নেওয়া হবে। নড়াইলের ১২টি ইউনিয়নেও এদিন ভোট নেওয়া হবে। এসব ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে দলীয় প্রতীকের বাইরে উন্মুক্ত প্রার্থিতায় নির্বাচন করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি দাবি জানান কবিরুল হক মুক্তি।

সংবাদ সম্মেলনে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোল্যা এমদাদুল ইসলাম, কালিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র এমদাদুল হক টুলু, কালিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র একরামুল হক টুকু, সাবেক মেয়র ফকির মুশফিকুর রহমান লিটন, কালিয়া উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান ইব্রাহীম শেখ, কালিয়া উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক খান রবিউল ইসলাম, যুগ্ম-আহ্বায়ক আশিষ কুমার ভট্টাচার্য্যসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু তার বিরুদ্ধে আনীত মনোনয়ন বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও মনগড়া অভিযোগ করেছেন। কারণ আমরা দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশীদের একটি তালিকা জেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদক ও উপজেলা কমিটির সভাপতি-সম্পাদকের যৌথ স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রে পাঠিয়ে থাকি। কিন্তু চূড়ান্ত মনোনয়ন দেন আমাদের দলীয় প্রধান আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। কাজেই মনোনয়নের বিষয়ে আমাদের কোনো ভূমিকা নেই।