কালিয়ায় আ’লীগের বর্ধিতসভায় হামলা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

29

স্টাফ রির্পোটার ॥ নড়াইলের কালিয়ায় উপজেলা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় চেয়ার ভাঙচুর ও হাতাহাতি ঘটনায় বর্ধিত সভা পন্ড হয়ে গেছে। শনিবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে কালিয়া পৌর কমিউনিটি সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে। কালিয়া উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ওই বর্ধিত সভা ডাকা হয়েছিল।

কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান কৃষ্ণপদ ঘোষ অভিযোগ করেন, নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য বি এম কবিরুল হক মুক্তির নেতৃত্বে হামলা করা হয়েছে। কৃষ্ণপদ ঘোষ জানান, সভার শুরুতে এমপি সেখানে উপস্থিত হয়ে মঞ্চের সামনের সারিতে বসেন। এমপিকে মঞ্চে আহ্বান করার সঙ্গে সঙ্গে তিনি আমাকে অশ্লীলভাবে গালিগালজ করেন। তাঁর সমর্থকেরা চেয়ার, জানালা-দরজা ভাঙচুর করে। আমাদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় মাউলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিলাস কুমার দাস আহত হন।

সাংসদ বি এম কবিরুল হক বলেন, ‘আমি উত্তেজিত হইনি। মূলত: জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নিজাম উদ্দিন খান নিলু ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণপদ ঘোষ আসন্ন ইউপি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপকভাবে মনোনয়ন বাণিজ্য করছেন। এতে মনোনয়ন প্রত্যাশিরা উত্তেজিত হয়ে বর্ধিত সভায় চেয়ার-টেবিল ছুড়ে মেরেছে।’

দলের নেতা-কর্মীরা জানান, বর্ধিত সভার ব্যানারে ও দাওয়াত পত্রে এমপিদের নাম ছিল না। এতে তিনি ক্ষুব্দ ছিলেন।

এ ঘটনার পর রাত সাড়ে সাতটার দিকে সাংসদের বিরুদ্ধে নিজাম উদ্দিন খান নড়াইলে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন। সেখানে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সাংগঠনিক সম্পাদক দেবাশীষ কুন্ডু ও সরদার আলমগীর হোসেন এবং সদস্য মাহমুদুল হাসান কয়েস, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মলয় কুমার কু-ু, কাজী জহিরুল হকসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে নিজাম উদ্দিন খান নিলু বলেন, ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সাংসদ কবিরুল হক সভায় হামলা করেছেন। একজন দলীয় সাংসদ হয়ে নেতা কৃষ্ণপদ ঘোষকে অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করেছেন। তিনি এভাবে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটান। সন্ত্রাসী কর্মকান্ড করেন। এসব বিষয় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগে জানানো হবে। ওই ঘটনা ঘটিয়ে তিনি এখন অবান্তর কথা বলছেন।’