দৈনিক ইজিবাইক চালানোর দাবীতে নড়াইলে অবস্থান ধর্মঘট:ডিসি’র নিকট স্মারকলিপি প্রদান

87

স্টাফ রিপোর্টার: প্রশাসনের একদিন পর একদিন বেঁধে দেয়া নিয়মের বাইরে ইজিবাইক চালালে জরিমানা আদায় করা হচ্ছে। এই জরিমানা বন্ধ করতে হবে এছাড়া বাস মালিক সমিতির নানা নির্যাতন বন্ধসহ দৈনিক গাড়ি চালানোর দাবীতে বুধবার ও বৃহস্পতিবার অর্ধবেলা পর্যন্ত ইজিবাইক চালনা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে ইজিবাইক চালকেরা।

বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে নড়াইল সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও পুরাতন বাসর্টামিনাল এলাকায় সকল ইজিবাইক বন্ধ রেখে রাস্তায় নেমে ধর্মঘট করে ইজিবাইক চালকরা। ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষের ।

এর ধারবাহিকতায় আজ বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্ব) সকাল ১০টায় পুনরায় নড়াইল জেলা ইজিবাইক বহুমুখী সমবায় সমিতির উদ্যোগে দৈনিক ইজিবাইক চালানোর দাবীতে লাগাতার বিক্ষোভ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করেছে। এ সময় জেলা শিল্পকলা একাডেমি চত্বরে প্রায় দুইহাজার ইজিবাইক চালকগাড়িসহ জমায়েত হয়। এখান থেকে ইজিবাইক চালকরা নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার মামা বাড়ীর সামনে এবং এমপি’র শহরের বাড়ির সামনে গিয়ে অবস্থান নেয় চালকরা। তারপর তারা তাদের দাবী নিয়ে জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে।

ইজিবাইক চালকদের দাবী, নড়াইল পৌরসভায় ৩’শ গাড়ি আছে, অথচ পৌরকর্তৃপক্ষ অনৈতিকভাবে প্রায় ১ হাজার ইজি বাইক নিবন্ধন দিয়েছে। এখন পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে দৈনিক গাড়ি না চালিয়ে দু’ভাগে একদিন বাদে চালানোর নিয়ম করেছে। এতে করে ইজিবাইক চালকদের সংসার চলছে না, উপরন্ত নিয়ম ভাংগলে ইজিবাইক প্রতি আড়াই হাজার টাকা জরিমানা করা হচ্ছে।

ইজিবাইক চালকরা অভিযোগ করেন, পৌরকর্তৃপক্ষের যোগসাজসে পুলিশ আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করছে। শহরের ঢুকতে গেলে বিভিন্নস্থানে বাঁধা দেওয়া হয়। নানান অজুহাতে ইজিবাইক চালকদের গাড়ির চাবি নেয়ে যায়, পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে আটকে রাখে এমনকি ২ থেকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করে পুলিশ। সারাদিন কাজ করে যা আয় হয় তাই দিয়ে জরিমানা দিয়ে বাড়ি চলে যেতে হয়। পরিবার নিয়ে অনেক সময় খেয়ে না খেয়েও দিন পার করতে হয়।

নড়াইল সদর বহুমুখি ইজিবাইক সমবায় সমিতির সভাপতি ইসমাইল সিকদার বলেন, নড়াইলে পুলিশের হয়রানির প্রতিবাদে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে শ্রমিকরা। আমাদের দাবী না মানলে লাগাতার আন্দোলন করে যাবো। গ্রাম থেকে আসা ইজিবাইকের কোন স্টান্ড নাই। তারা কোথাও দাঁড়াতে পারে না। নানাভাবে নির্যাতন করা হয়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই।

পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় বলেন, সাতদিনের মধ্যে জেলার আইন শৃংখলা সভায় পৌরসভায় দুই রং এ ইজিবাইক চালানোর কথা বলা হয়েছে। একেক দিন একক রং এর গাড়ি চলবে। প্রতিদিন ৩’শ গাড়ি চলাচল করবে। সেই সিদ্ধান্ত পুলিশ বাস্তবায়ন করছে। ইজিবাইক সমিতির নেতাদের সাথে কথা বলে ৭ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। সিদ্ধান্তের বিষয়ে জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলে সমাধান করা হবে।