শনিবার নড়াইলে ১৬ হাজার করোনা টিকা দেওয়া হবে

26

নড়াইলকণ্ঠ ॥ আগামিকাল শনিবার ০৭ আগস্ট থেকে নড়াইল জেলায় ইউনিয়ন পর্যায়ে করোনার গণটিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে। এ ক্যাম্পেইনে ১৬ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। এ জেলায় ১৮ বছরের ঊর্দ্ধে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টিকা নেওয়ার যোগ্য মানুষ রয়েছেন। ঠিকাদান কার্যক্রম শুরু থেকে এ পর্যন্ত এ জেলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে কয়েকজন জনপ্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেভাবে টিকা নিতে সাড়া পড়েছে, তাতে বেশির ভাগ মানুষ টিকা নিতে এসে ফিরে যাবেন। তাই শনিবার টিকা নিতে আসা মানুষের চাপ সামানো খুব কষ্টকর হতে পারে।

সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিনোফার্মের ওই টিকা আছে মাত্র ১৬ হাজার। ১৬ হাজার মানুষকে শনিবার টিকা দেওয়া যাবে। জেলায় ইউনিয়ন রয়েছে ৩৯টি। প্রতিটি ইউনিয়নে ওই দিন প্রায় সাড়ে তিন’শ মানুষকে টিকা দেওয়ার কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া নড়াইল ও কালিয়া পৌরসভায় ১৮টি ওয়ার্ডে প্রতিটিতে ২০০ জনকে টিকা দেওয়ার প্রস্তুতি আছে।

ইউনিয়নে একটি টিকাদানকেন্দ্র হবে। ইউনিয়ন পরিষদ ভবন যে ওয়ার্ডে, সেখানে হবে ওই টিকাদানকেন্দ্র। ওই কেন্দ্রে সকাল নয়টা থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত টিকা দেওয়া হবে। ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে বয়সীরা টিকা নিতে পারবেন। টিকা নিতে টিকাদানকেন্দ্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি জমা দিতে হবে। প্রথমদিকে বয়স্কদের টিকা দেওয়া হবে।

কেন্দ্রে তিনটি বুথ থাকবে। প্রতিটি বুথে দুজন টিকাদানকারী ও তিনজন স্বেচ্ছাসেবী থাকবেন। টিকা দেবেন ইউনিয়নে নিযুক্ত স্বাস্থ্য সহকারীরা। বিষয়টি মাইকিং করে এবং স্বাস্থ্য সহকারী ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ইউনিয়নগুলোতে টিকা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তি রয়েছেন ১২ হাজারের ওপরে। কোনো কোনো ইউনিয়নে এ সংখ্যা রযেছে প্রায় ২৫ হাজার।

নড়াইল সদরের চন্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজারের ওপরে। তাঁরা টিকা পাওয়ার যোগ্য। সেখানে মাত্র চার’শ টিকা দেওয়া হবে। টিকা নিতে যাতে চাপ সৃষ্টি যাতে না হয় সে কারণে ১টি ওয়ার্ডেকে জানানো হয়েছে। শুধু ওই ওয়ার্ডের মানুষ টিকা নিতে আসবে। তবে পর্যাক্রমে অন্যান্য সকল ওয়ার্ডের মানুষ এ টিকা পাবে বলে কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।

সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সংক্রামক রোগনিয়ন্ত্রণ বিভাগের ডা. সৈয়দ শফিক তমাল বলেন, ১৬ হাজার টিকা আছে, সেটি দিয়ে ইউনিয়ন পর্যায়ে কাল শুরু করা হচ্ছে। এর মধ্যেই হয়তো টিকা এসে যাবে। এলে এটি চলতে থাকবে। এ ছাড়া জেলার নড়াইল সদর হাসপাতাল এবং লোহাগড়া ও কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত টিকা দেওয়া হচ্ছে। করোনা টিকাদান কর্মসূচি অব্যহত থাকবে।