নড়াইল শহরে যত্রতত্র অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক,নেই কোন নির্দেশক চিহ্ন,ঘটছে দুর্ঘটনা

33

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইল পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে যত্রতত্র অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন করায় পথচারীদের দুর্ভোগ যেন আরো বেড়েছে। আবাসিক এলাকার সড়কগুলিতে নিয়মনীতি না মেনেই প্রভাবশালীদের চাপে বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সামনে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এসব গতিরোধক স্থাপন করা হলেও কোন নির্দেশক চিহ্ন না থাকায় মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনায় পড়ছে এসব রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনগুলি। আবার রাতে চলাচলের সময় পথচারীদেরও পড়তে হয় বিড়ম্বনায়।

জানাগেছে, নড়াইল পৌরসভার অভ্যন্তরীণ সড়কগুলিতে অন্তত ৩০টির বেশি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এর অধিকাংশ গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে এবং অপ্রয়োজনীয় স্থানে।

পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের মহিষখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর পর্যন্ত মাত্র আধা কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে ৬টি গতিরোধক। এর মধ্যে অধিকাংশ গতিরোধ অপ্রয়োজনীয়ভাবে স্থাপন করা হয়েছে। নড়াইল পৌর কেন্দ্রীয় ঈদগাহের সামনে ফাঁকা জায়গায় অপ্রয়োজনীয়ভাবে একটি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া পুরাতন রেজিষ্ট্রি অফিস থেকে নড়াইল আদালত সড়কেও অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক রয়েছে।

পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের বরাশুলা এতিমখানা রোডে মাত্র ১৫০ মিটার সড়কের ভেতর স্থাপন করা হয়েছে ৪টি গতিরোধক। যার ২টি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে হলেও বাকি দুইটি অপ্রয়োজনীয়ভাবে প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে।
পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের আলাদাতপুর এলাকার পাসপোর্ট অফিস সড়কে ১০০ মিটারেরও কম জায়গায় পরপর ৩টি গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। সবগুলি প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে।

এছাড়াও পৌরসভার পানি মসজিদ হতে পাসপোর্ট অফিস সড়কেও ৫টি গতিরোধক রয়েছে।

পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের ডুমুরতলায় নবনির্মিত মাহাতাব উদ্দিন বেগ সড়কে স্থাপন করা হয়েছে ৩টি গতিরোধক। যার একটি মসজিদের সামনে হলেও বাকি দুইটি প্রভাবশালীদের বাড়ির সামনে স্থাপন করা হয়েছে।

এসব গতিরোধকের অধিকাংশই যেখানে স্থাপন করা হয়েছে সেখানে নেই কোনো গুরুত্বপূর্ণ মোড় বা স্থাপনা। রাস্তা নির্মাণের সময় স্থানীয় প্রভাবশালীরা ঠিকাদারদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে নিজেদের বাড়ি বা দোকানপাটের সামনে স্থাপন করেছেন এসব অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক। তাছাড়া এসব গতিরোধকের গায়ে নেই কোনো চিহ্ন। ফলে রাতের বেলায় পথচারীরা পড়ছেন বিড়ম্বনায়। যত্রতত্র এসব গতিরোধক স্থাপনের ফলে ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও।

মোটরসাইকেল চালক পৌরসভার মহিষখোলা এলাকার বাসিন্দা মাফুদুল হক লিখন বলেন, এসব গতিরোধক স্থাপন করা হলেও সেখানে রঙ দিয়ে কোন চিহ্ন দেওয়া হয়নি। যার কারণে দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রনের চেয়ে দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। অনেকেই দ্রুতগতিতে যানবাহন চালিয়ে এসে গতিরোধকে এসে জোরে ধাক্কা লাগছে। যার কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।’

গণমাধ্যমকর্মী আনিচুর রহমান বলেন, সরকারি নিয়ম না মেনেই পৌরসভার অধিকাংশ সড়কে গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। ঠিকাদারকে ম্যানেজ করে প্রভাবশালীরা ইচ্ছামতো তাদের বাড়ির সামনে গতিরোধক স্থাপন করেছে। অধিকাংশ গতিরোধকগুলিতে রঙ দিয়ে চিহ্ন দেওয়া হয়নি। যার কারণে মাঝেমধ্যেই দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।’

নড়াইলের সামাজিক সংগঠন ঊষার আলো সমাজ কল্যাণ সংঘের সভাপতি মিনহাজুল ইসলাম বলেন, সাধারণ জনগণের চলাচলের রাস্তায় ২/৩জন প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজ স্বার্থে যেখানে সেখানে গতিরোধক স্থাপন করতে পারেন না। গাড়ির গতি সীমিতকরণে গতিরোধকের প্রয়োজন অবশ্যই রয়েছে। তবে, অপরিমাণ গতিরোধক স্থাপন কাম্য নয়। পৌর মেয়রের উচিৎ অবিলম্বে এসব অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক উচ্ছেদ করা এবং গতিরোধক দেয়ার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করা।

এ বিষয়ে নড়াইল পৌরসভার মেয়র আঞ্জুমান আরা বলেন, নতুন নির্মাণ করা সড়কগুলোর অনেক জায়গায় অপ্রয়োজনীয় গতিরোধক স্থাপন করা হয়েছে। এটা স্থানীয় কিছু লোকেরা করেছে। যেহেতু এটা করা হয়ে গেছে তাই এখন তো আর ভেঙে দিতে পারছি না। সেক্ষেত্রে বর্ষা মৌসুম শেষ হলে গতিরোধকগুলোর ওপর আমরা রঙ করে দিবো।