বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপের শঙ্কা

34

ডেস্ক রিপোর্ট : করোনা শনাক্ত ও মৃত্যুর হার আবারো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে দিনকে দিন। সংক্রমণের এই ঊর্ধ্বগতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এবার তারা বলছেন, আগামী কিছুদিনের মধ্যেই করোনা পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যেতে পারে।

গতকাল বৃহস্পতিবার একদিনে (২৪ ঘণ্টা) ১৪৩ জন এবং আজ শুক্রবার ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ৬ দিন টানা শতাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলো। এমন মৃত্যুর খবরে দুশ্চিন্তার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তাদের বরাত দিয়ে বিবিসি বাংলা জানায়, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হলেও সম্ভাব্য ‘পিকটাইম’ বা সর্বোচ্চ চূড়া এখনো সামনে আছে। সবচেয়ে খারাপ সেই সময়ে শনাক্ত ও মৃত্যুর হার আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা কমিটির সদস্য আবু জামিল ফয়সাল বলেন, তিন সপ্তাহ আগের অবস্থার পরিণতি হচ্ছে এখনকার সংক্রমণ ও মৃত্যুর চিত্র। একইভাবে এবার লকডাউন শুরুর আগের সপ্তাহে লাখ লাখ মানুষ গাদাগাদি করে শহর ছেড়ে গ্রামে গেছে, তার প্রভাব দেখা যাবে আরো তিন সপ্তাহ পরে।

মৃত্যুর সংখ্যা কমতে দেখলে তা ‘খুব সৌভাগ্যের’ হবে উল্লেখ করেন এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। একই কথা বলেছেন আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এ এস এম আলমগীরও। অতীত ও বর্তমানের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে তিনি বলছেন, চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিকে সর্বোচ্চ চূড়া বা পিকটাইম বলা যাবে না। বরং দিনকে দিন এটি সে দিকেই যাচ্ছে বলে আমার মনে হচ্ছে।

এর আগে গত এপ্রিলে বাংলাদেশি একদল গবেষক আভাস দিয়েছিলেন, জুলাইয়ের দ্বিতীয় সপ্তাহের দিকে করোনা পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ হতে পারে। সম্ভাব্য এই সময়টিতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের পিকটাইম বা সর্বোচ্চ চূড়ায় পৌঁছাতে পারে সংক্রমণ।

বাংলাদেশ কমো মডেলিং গ্রুপের ওই গবেষকরা জানান, করোনা রোগী শনাক্তের সংখ্যাটা দিনে অন্তত ১০-১২ হাজারে পৌঁছালে সেটি হবে পিকটাইম। সে হিসেবে এখনো সেই পরিস্থিতি আসেনি বলেই প্রতীয়মান হচ্ছে।

আইইডিসিআর জানিয়েছে, দেশে করোনা শনাক্তের হার ৩০টির বেশি জেলায় ১০ শতাংশ এবং ২০টির বেশি জেলায় ৩০ শতাংশের বেশি। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ বড় শহরগুলোতে এই হার আরো বাড়তে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও কমলেও নতুন নতুন জায়গায় সংক্রমণ বাড়তে থাকবে, বলেন সংস্থাটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আলমগীর।