দেশে ৬মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন বৃদ্ধি পেয়েছে:আসক

62

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশে গত ৬ মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘন বৃদ্ধি পেয়েছে। গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা নির্যাতন এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় এপ্রিল-জুন এ ৩মাসে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গতকাল বুধবার ৩০ জুন মানবাধিকার সংখ্যাগত প্রতিবেদনে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর (জানুয়ারি-জুন ২০২১) প্রতিবেদেনটি হুবহু নিম্নে উল্লেখ করা হলো:
‘দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে গত ৪ এপ্রিল থেকে সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করা হয়। লকডাউন চলাকালে জনজীবনে নানা সঙ্কট দেখা দিলেও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। বিশেষত রাষ্ট্রীয় বাহিনীর হেফাজতে মৃত্যু কিংবা বিনা বিচারে হত্যা, গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা নির্যাতন এবং নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ঘটনা বছরের প্রথম তিন মাসের তুলনায় উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।’

‘২০২১ সালের গত ছয়মাসের (জানুয়ারি-জুন)মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনা পর্যালোচনায় দেখা যায়, এ সময়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছে। গত ১ মে ফরিদপুরে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে রিমান্ডে থাকা অবস্থায় মারা যায় আবুল হোসেন মোল্লা (৪৮) নামের এক নাগরিক। চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে গোয়েন্দা পুলিশের অভিযানে আটকের পর ৩০ এপ্রিল সানাউল হক বিশ্বাস নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়, ২৯ এপ্রিল নওগাঁ জেলার পত্নীতলায় পারিবারিক বিরোধ মেটাতে থানায় ডেকে এনে ওসি সামসুল আলম শাহ’র মারধরে অসুস্থ্ হয়ে মারা যান হামিদুর রহমান। অন্যদিকে ভোলার চরফ্যাশন থানা পুলিশ এক নারীকে আটকের পর স্বীকারোক্তি আদায়ে ৭ এপ্রিল রাতে থানার একজন এস আই—এর কক্ষে ঐ নারীকে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া যায়। এসময় থানার ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল বলে গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী নারী। কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০ মে মারা যান সোনারগাঁ উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সহসভাপতি ও খেলাফত মজলিসের উপজেলার সভাপতি মাওলানা ইকবাল হোসেন (৫৫)। খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারে মারা যান মিলন বিকাশ ত্রিপুরা নামে এক ব্যক্তি, তার মাথা ও গলায় আঘাতের চিহ্ন ছিল বলে অভিযোগ করে পরিবার।এছাড়া গত ছয় মাসে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধে’র মাধ্যমে বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। মিরপুরের শাহীন উদ্দিন হত্যা মামলার দুই আসামী মানিক ও মনির গ্রেফতারের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়। মে মাসের ১৭ তারিখ খিলক্ষেত এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ‘গোলাগুলি’তে রাসেল ও এনামুল নামে আরও দুজন নিহত হয় বলে দাবী করে পুলিশ। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে ১৩ মে রাতে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুতকেন্দ্রে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষে গুলিতে নিহত হয় সাত জন শ্রমিক। ’

‘এ সময়কালে ‘নিখোঁজ’ বা গুমের শিকার হন বেশ কয়েকজন। ধর্মীয় বক্তা আবু ত্বহা মোহাম্মদ আদনান ‘নিখোঁজ’ হওয়ার ৮ দিন পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার সংবাদে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ দূর হলেও এ ধরণের ঘটনা অস্বস্তিকে দূর করতে পারেনা। অন্যদিকে গত তিন মাসে গুম বা নিখোঁজ হওয়া অনেকের সন্ধান পাওয়া যায়নি। গত ২ জুন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যের পরিচয় দিয়ে নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার এলাকা থেকে স্থানীয় পাঁচরুখী গ্রামের বাসিন্দা মো. নোমান, মো. নাছিম ও বগুড়ার শহিদুল ইসলামকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এখন পর্যন্ত তাদের কোন সন্ধান দিতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আটক বা গ্রেফতারের কথাও স্বীকার করেনি কোন বাহিনী। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি-মহলের হুমকীসহ তাদের হাতে লাঞ্ছিত ও নির্যাতনের শিকার হন গণমাধ্যমকর্মীগণ। প্রথম আলোর জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক রোজিনা ইসলামকে গত ১৭ মে সচিবালয়ের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ৫ ঘন্টা আটকে রেখে নিগৃহীত করা হয় এবং পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় তথ্য চুরির অভিযোগে মামলা দেয়া হয়। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গত ৩ এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার খবর সংগ্রহ করা এস টিভির নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি হাবিবুর রহমানকে ৫ এপ্রিল তার বাড়িতে ঢুকে মারধর করে হেফাজতের সমর্থকেরা।’

‘বিতর্কিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সংবাদকরমীসহ বিভিন্ন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেফতারের ঘটনা ঘটেছে। ২০ এপ্রিল খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেকের করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় গ্রেফতার করা হয় এনটিভির ব্যুরো প্রধান আবু তৈয়বকে। ২২ এপ্রিল দুপুরে রংপুর সিটি পার্ক মার্কেটের সামনে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন সময় টিভির রংপুর প্রতিনিধি রতন সরকার। পরে তিনি এই হামলার জন্য মেয়রকে দায়ী করে বক্তব্য দেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। এরই প্রেক্ষিতে ২৫ এপ্রিল ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে রতন সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেন মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা।’

‘স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনের বিরোধীতাকারী হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীসহ কয়েক শতাধিক ব্যক্তি গ্রেফতার হয়েছেন। উল্লেখ্য, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজতে ইসলামের গত ২৬ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত ডাকা বিক্ষোভ ও হরতাল কর্মসূচীকে কেন্দ্র করে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ দেশের কয়েকটি স্থানে ব্যাপক সহিংসতা ও সংঘর্ষে কমপক্ষে ১৪ জন নিহত এবং শতাধিক আহত হয়। হেফাজতে ইসলামের কর্মী সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবে প্রায় ধ্বংসস্তুপে পরিণত হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর। ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর স্মৃতি বিজড়িত সংগীত ও সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্র, ভূমি অফিস, পুলিশ ষ্টেশন, পুলিশ ফাঁড়ি, সিভিল সার্জন কার্যালয়সহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। বিগত তিন মাসে নারীর প্রতি সহিংসতার ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে ধর্ষণ, হত্যা, যৌন নিপীড়ন ও পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা বরাবরের মতোই ঘটে চলেছে। পাশাপাশি মাদ্রাসাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছেলে শিশুরা বলাৎকারের শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। করোনা মহামারীকালে ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের বিভিন্ন ঘটনায় গ্রাম্য মাতবরদের বেআইনী সালিশীর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে সালিশ ফতোয়ার মাধ্যমে গ্রামছাড়া করার ঘটনাও ঘটেছে। এ সময়কালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘর ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ভারতীয় সীমান্তে বিএসএফ সদস্যদের নির্যাতন ও গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাও বন্ধ হয়নি। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার জগৎবেড় ইউনিয়ন সীমান্তের ওপারে ২৯ জুন ২০২১ তারিখে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে রিফাত হোসেন নামের এক যুবক নিহত হন। অন্যদিকে বিরোধী দল বিএনপি, বামজোট, প্রগতিশীল ছাত্রজোটসহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের বিভিন্ন কর্মসূচীতে পুলিশি বাধার ঘটনা ঘটেছে।’

বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগ
গত ছয় মাসে প্রধান প্রধান জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে দেখা গেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হেফাজতে এবং ‘ক্রসফায়ারে’ মোট ৩২ জন মারা গেছেন। এর মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে ‘ক্রসফায়ার’/বন্দুকযুদ্ধ/গুলিবিনিময়/এনকাউন্টারে নিহত হন ২০ জন। এ সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ৯ জন ও নির্যাতনে ৩ জন মারা যান।

কারা হেফাজতে মৃত্যু
এই ছয় মাসে কারাগারে অসুস্থতাসহ বিভিন্ন কারণে মারা যান ৪১ জন। এর মধ্যে কয়েদি ১৩ জন এবং হাজতি ২৮ জন।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ/গুম (পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি)
গত ছয় মাসে দেশের জাতীয় দৈনিকসমূহে প্রকাশিত খবরের ভিত্তিতে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে অপহরণ/গুমের শিকার হন ৬ জন। এর মধ্যে পরবর্তী সময়ে ৩ জনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, নিখোঁজ রয়েছেন আরও ৩ জন।

সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানি
গত ছয় মাসে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে ১২০ জন সাংবাদিক বিভিন্নভাবে নির্যাতন, হামলা-মামলা ও হয়রানির শিকার হয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নির্যাতিত সাংবাদিকদের মধ্যে ১৮ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে আক্রান্ত হন, নির্বাচনী সহিংসতায় ১৩ জন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আগমন উপলক্ষ্যে বিক্ষোভ ও সহিংসতায় ১৮ জন সাংবাদিক আহত হন, অন্যরা স্থানীয় প্রভাবশালী মহল, ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সন্ত্রাসীদের দ্বারা আক্রান্ত হন। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ১ জন সাংবাদিক।

নারী নির্যাতন ও হত্যা
গত জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত যৌন হয়রানি ও সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা, পারিবারিক নির্যাতন, যৌতুকের জন্য নির্যাতন, গৃহকর্মী নির্যাতন, এসিড নিক্ষেপসহ নারী নির্যাতনের বহু ঘটনা ঘটেছে। তবে সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী ধর্ষণ, হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনার সংখ্যা ও এর ভয়াবহতা বৃদ্ধি পেয়েছে।

ধর্ষণ ও হত্যা
এ সময়কালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৭৬৭ জন, যার মধ্যে একক ধর্ষনের শিকার হন ৬১১ জন এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ১৫৬ নারী। ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হন ২৪ জন এবং আত্মহত্যা করেছেন ৫ নারী। এছাড়াও ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ১৬৬টি।

যৌন হয়রানি ও সহিংসতা
গত ছয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ৬৪ নারী, যৌন হয়রানীর শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৭ নারী। যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ৫৭ জন পুরুষ যাদের মধ্যে ৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এ সময় প্রতিবাদ করতে গিয়ে ২ নারী হত্যার শিকার হয়েছেন।

পারিবারিক নির্যাতন ও হত্যা
গত ছয় মাসে পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩৫০ নারী। যাদের মধ্যে স্বামী, স্বামীর পরিবার এবং নিজ পরিবার কর্তৃক হত্যার শিকার হন ২১০ নারী এবং পারিবারিক নির্যাতনের ফলে আত্মহত্যা করেছেন ৭৮ নারী।

যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যা
যৌতুককে কেন্দ্র করে নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছেন মোট ১২১ নারী। যৌতুকের জন্য নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে ৪১ জনকে এবং নির্যাতনের শিকার হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন নারী। এর মধ্যে যৌতুকের কারণে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৭১ জন।

শিশু নির্যাতন ও হত্যা
গত ছয় মাসের শিশুর প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন সংক্রান্ত পরিসংখ্যানও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এ সময়কালে ৭২২ শিশু শারীরিক ও যৌন নির্যাতনসহ নানা সহিংসতার শিকার হয় এবং হত্যার শিকার হয়েছে ৩১৭ শিশু। সব মিলিয়ে মোট ১০৩৯ শিশু নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়েছে। যাদের মধ্যে ৪২০ শিশু ধর্ষণ, আত্মহত্যা করেছে ৫১ শিশু, বলাৎকারের শিকার হয়েছে ৫০ জন ছেলে শিশু, উত্যক্তকরণ, শিশু গৃহকর্মী নির্যাতন, শিক্ষক কর্তৃক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছে আরও ২০৯ শিশু।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন
এ সময়ের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাসস্থানে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে ৯৯টি, ৪৩টি প্রতিমা, পারিবারিক মন্দির ও পূজামন্ডপে হামলা হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছেন ৩ জন। দখল/দখল চেষ্টা এবং উচ্ছেদ/ উচ্ছেদ চেষ্টার শিকার হয়েছে ৬ জন। এছাড়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের পরিবার ও বাড়িঘরে হামলা হয়েছে ১টি।

সীমান্ত সংঘাত
এ সময়ে ভারত সীমান্তে নিহত হয়েছেন ৬ জন। এর মধ্যে ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর গুলিতে ৪ জন, শারিরিক নির্যাতনে ১ জন এবং বিএসএফ-এর ধাওয়া খেয়ে পানিতে ডুবে ১ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন ৪ জন এবং অপহরণের শিকার হয়েছেন ৩ জন যাদের মধ্যে দুজন পরবর্তীতে ফেরত এসেছে।

রাজনৈতিক সংঘাত
গত ছয় মাসে প্রধান প্রধান জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যের ভিত্তিতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে মোট ২৬৩ টি। এতে নিহত হয়েছেন ৫৪ জন এবং আহত হয়েছেন ৩৬৪০ জন। এর মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সহিংসতা ও সংঘর্ষের ১৪২ টি ঘটনায় আহত হয়েছে ১৫৯৪ জন এবং নিহত হন ২৪ নাগরিক।

গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যা
এ সময়ের মধ্যে ২৫ জন গৃহকর্মী নির্যাতন ও হত্যার শিকার হন। যাদের মধ্যে হত্যার শিকার হয়েছেন ১০ জন ও ১৫ জন গৃহকর্মী ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনসহ বিভিন্ন ধরণের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

সালিশ ও ফতোয়া
এ সময়ে সালিশ ও ফতোয়ার ঘটনা ঘটেছে ৮টি। এছাড়া এসিড সন্ত্রাসের শিকার হন ১১ নারী।

গণপিটুনি
এ সময়কালে গণপিটুনির ঘটনায় মারা গেছেন মোট ১৯ জন।
আসক মনে করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে আইনের শাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা অত্যাবশ্যকীয়। অন্যথা বিচারহীনতার অপসংস্কৃাত প্রতিষ্ঠা পেয়ে যায় এবং এ ধরণের মানবাধিকার লঙ্ঘনজনিত ঘটনা বৃদ্ধি পেতে থাকে। করোনার এ সংকটকালীন সময়ে আসক সরকারের কাছে নাগরিকের সব ধরনের মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার দ্রুততার সাথে নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছে।

(উল্লেখ্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ সংখ্যাগত প্রতিবেদনটি ১০টি জাতীয় দৈনিক ও বিভিন্ন অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত সংবাদ ও আসক-এর নিজস্ব উৎস থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে।)