জুলাই মাস থেকে ব্যাপক টিকাদান শুরু হবে-প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

23

ডেস্ক রিপোর্ট : বাংলাদেশের সরকার দেশের সব নাগরিককে বিনামূল্যে করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে- এ প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বলেছেন, টিকা সংগ্রহে যত টাকাই প্রয়োজন হোক না কেন, সরকার তা দেবে।

তিনি আরও বলেছেন, টিকা নিয়ে সমস্যা হবে না। জুলাই মাস থেকে আরও টিকা আসবে। ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু হবে।

আজ মঙ্গলবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২১-২০২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় সংসদ নেতা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, করোনার টিকা নিয়ে যখন গবেষণা চলছিল তখন থেকেই বাংলাদেশ টিকার জন্য যোগাযোগ শুরু করেছিল। ভারতে হঠাৎ সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভারত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এতে বাংলাদেশ সাময়িকভাবে সমস্যায় পড়েছে। কিন্তু এখন টিকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। এখন আর কোনো সমস্যা হবে না। চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্রসহ ভ্যাকসিন উৎপাদনকারী সব কোম্পানির সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ অব্যাহত আছে।

সংসদ নেতা শেখ হাসিনা বলেন, টিকা কেনার জন্য বাজেটে ১৪ হাজার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিমধ্যে এক কোটি ১৪ লাখ ৬ হাজার ডোজ ভ্যাকসিন সংগ্রহ করা হয়েছে। যাঁরা বিদেশ যাচ্ছেন তাঁদের আগে টিকা দেয়ার পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। যাতে বিদেশে গিয়ে তাঁদের কোয়ারেন্টিন করতে না হয়।

স্বাস্থ্য খাতকে সবচেয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, গত বছর আমরা করোনার প্রথম ঢেউ সফলভাবে মোকাবিলা করেছি। সেই অভিজ্ঞতায় দ্বিতীয় ঢেউয়ে আমরা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। মহামারি মোকাবিলা করে জনস্বাস্থ্য ও জনজীবন সুরক্ষিত করতে আমরা সক্ষম হব।

করোনার সংক্রমণ ও অভিঘাত মোকাবিলায় সরকারের নেয়া নানা উদ্যোগের বিস্তারিত তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মহামারির দ্বিতীয় ঢেউয়ের প্রভাব সত্ত্বেও সরকারের পদক্ষেপে আমাদের অর্থনীতি পূর্ণাঙ্গভাবে পুনরুদ্ধারের পথে রয়েছে। জনগণকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যে, জীবন-জীবিকার সুরক্ষা দেওয়া এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন হলে দ্রুততার সঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। মানুষের পাশে আমরা দাঁড়াব।’

এদিকে আজ মঙ্গলবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা জি এম কাদের আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, করোনার কারণে লকডাউন ও ব্যবসা বাণিজ্যে মন্দা দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশে দুর্ভিক্ষের অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে। সেখানেও জীবন বিপন্ন হবে।’

বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, করোনা মহামারির কারণে জীবিকা হারিয়েছে কোটি কোটি মানুষ। তাদের মধ্যে যারা হতদরিদ্র, তাদের না খেয়ে থাকার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আর্থিক ও খাদ্য সহায়তা দিয়ে এসব দরিদ্র ও নব্য-দরিদ্রদের বাঁচিয়ে রাখতে হবে। এখানে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা অনেক বৃদ্ধি করতে হবে।’

জি এম কাদের বলেন, ‘ভ্যাকসিন, ওষুধ, ডাক্তার, নার্স, হাসপাতাল, টেস্টিং ল্যাবরেটরি, টেকনোলজিস্ট, পিপিই, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ইত্যাদির যথেষ্ট পরিমাণ প্রয়োজন জীবন রক্ষার জন্য। নতুনভাবে এসব সুযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। সেজন্য অতিরিক্ত অর্থের দরকার হবে।

‘ডোন্ট টেক করোনা ইজি” : ওবায়দুল কাদের
এর আগে, “আমরা করোনার চেয়ে শক্তিশালী” বলে মন্তব্য করে জনগণকে হাসির খোরাক যুগিয়েছিলেন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের । সেই নেতা সংসদ ভবন এলাকায় তোলা সবুজ কোট-টাই পরা একটি ছবি আজ মঙ্গলবার ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশন লিখেছেন, ‘ডোন্ট টেক করোনা ইজি, অ্যা নিবডি ক্যান বি ইনফেক্টেড।’ অর্থাৎ করোনাকে সহজভাবে নেওয়ার কিছু নেই, এটা যে কাউকে সংক্রমণ করতে পারে।