কালিয়ায় স্বামীর ইন্ধনে গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগ

50

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বামীর ইন্ধনে নড়াইলের কালিয়ায় এক গৃহবধুকে দলবেধে গণধর্ষণ করার অভিযােগ পাওয়া গেছে । ভুক্তভোগী নিজে বাদি হয়ে গত রবিবার রাতে ঘটে যাওয়ার ঘটনায় সোমবার রাতে (২১ জুন ) স্বামী আতাউর রহমানসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে কালিয়া থানায় মামলা দায়ের করেন । পুলিশ ৪ ধর্ষককে গ্রেফতার করেছে । অপরদিকে সেনাসদস্য স্বামী আতাউর রহমানকে যশাের সেনাসিবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কারিয়া উপজেলার সালামাবাদ ইউনিয়নের বিলবাউচ গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে। সে বর্তমানে যশাের সেনানিবাসে কর্মরত। আতাউর রহমানের সঙ্গে প্রায় ১০ বছর আগে ওই গৃহবধুর বিয়ে হয়। ইতিমধ্যে তাদের ঘরে জন্ম নিয়েছে ৩টি সন্তান । কিছুদিন ধরে স্বামীর সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হলে স্বামী তাকে নানাভাবে নির্যাতন করে আসছিল। এরই মধ্যে ওই গ্রামের জাফর শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ ওই গৃহবধূকে নানাভাবে উত্যক্ত করতে থাকে। গত রবিবার রাত ২ টার দিকে রিয়াজসহ স্থানীয় ৪ যুবক ওই বাড়িতে হানা দিয়ে তাকে ডেকে তােলে এবং দরজা খুলতে বলে । কিন্তু গৃহবধূ দরজা খুলতে রাজি না হলে তখন ধর্ষকরা তার স্বামীকে মােবাইল ফোনে জানায় । তার স্বামী তাকে সেনানিবাস থেকে মােবাইল ফোনে দরজা খােলার নির্দেশ দিলে গৃহবধু ঘরের দরজা খুলে দেয়। এরপর ধর্ষকরা ঘরে ঢুকে তার সন্তান ও প্রতিবেশী পারভেজ মােল্যাকে মারপিট করে ঘর থেকে বের করে দেয় । পরে তারা দরজা আটকে গৃহবধুকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণদৃশ্যের ভিডিও ধারণ করে যশােরে থাকা স্বামী আতাউরের মােবাইল ফোনে পাঠাতে থাকে বলে অভিযােগ করা হয়েছে । ঘটনায় ভুক্তভােগী বাদি হয়ে সােমবার রাতে স্বামী আতাউর রহমানসহ একই গ্রামের জাফর শেখের ছেলে রিয়াজ শেখ (২৪), ফিরােজ হােসেনের ছেলে মিল্লাত হােসেন (২৮), মত খােকা মােল্যার ছেলে দীন মহমদ কালু (২২) ও ইমরুল মােল্যার ছেলে তালহা জোবায়ের আশিককে (২১) আসামী করে মামলা দায়ের করে । অপরদিকে ঘটনার পর আতাউর রহমান ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে। তখন স্ত্রীর অভিযােগে ও ওই মামলার আসামী হও কারণে পুলিশ তাকে হেফাজতে নেয়। পরে শাের সেনাসিবাসে হস্তান্তর করা হয়। কালিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেখ কনি মিয়া বলেন, গৃহবধুকে ধর্ষণের ঘটনায় ৪’জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানাে হয়েছে। স্বামী আতাউরকে যশাের সেনানিবাসে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডাক্তারী পরীক্ষার জন্য ওই গৃহবধুকে নড়াইল সদর হাসপাতালে পাঠানাে প্রেরণ করা হেয়।