বাঁশখালী হত্যাকান্ডের বিচারের দাবিতে উত্তাল উপকূল

19

চট্রগ্রামের বাঁশখালীতে এসএস কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের শ্রমিকের ন্যায্য দাবির সমাবেশে পুলিশ ও এসএস পাওয়ার লিমিটেডের অস্ত্রধারীদের গুলিতে ৭ জন শ্রমিক নিহত ও ৫০ জনের বেশি গুরুতর আহত হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং শ্রমিকদের ন্যায় বিচার ও ক্ষতি পূরণের দাবিতে সাতক্ষীরার শ্যামনগরে অবরোধ কর্মসূচী পালন করেছে উপজেলার শিক্ষার্থী ও তরুণরা।

বুধবার (২৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপকূলীয় শ্যামনগর উপজেলার পাতাখালি বাজারে এলাকার সোচ্চার জনগণ, স্থানীয় শিক্ষার্থীরা এবং জলবায়ু যোদ্ধারা স্ট্রাইকে অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশবাদী সংগঠন ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিস ও বাংলাদেশ ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এক্সটারনাল ডেট (বিডব্লিউজিইডি) এই প্রতিবাদ কর্মসূচীর আয়োজন করে। ইয়ুথনেট ফর ক্লাইমেট জাস্টিসের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুহতারাম বিল্লাহ সভাপতিত্বে স্ট্রাইকে বক্তব্য রাখেন সংগঠনটির সাতক্ষীরা জেলা সমন্বয়ক ও সাতক্ষীরা স্টুডেন্ট সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক শাহিন বিল্লাহ, শাহরিয়া সুলতানা, তৈয়েবুর রহমান প্রমুখ।

এসময় সংক্ষুব্ধ তরুণরা বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্রে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে শ্রমিকরা দাবি জানিয়ে আসলেও মালিকপক্ষ বারবার এড়িয়ে গেছে এবং তাদের উপর নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছে। গত ১৭ তারিখ তাদের ন্যায্য বেতন-বোনাসের দাবিতে আন্দোলনের এক পর্যায়ে মালিকপক্ষ তাদের উপর চড়াও হয়। পরে মালিকের নির্দেশে পুলিশ এসে শ্রমিকদের উপর নির্বিচারে গুলি চালায়। শ্রমিকদের দাবি নিয়ে কথা বলার অধিকার ন্যায়সম্মত। ফলে তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে গড়ে উঠা গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তাদের উপরে হামলা করার অধিকার কারো নেই।

বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার বিচার, শ্রমিকদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, করোনাকালে জনগণের চিকিৎসাসেবা, খাদ্য নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিবে হবে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্নের জন্য দায়ী কয়লা ভিত্তিক সকল কেন্দ্র বন্ধ ঘোষণার জন্য আহ্বান জানান তারা।