সাতক্ষীরার শ্যামনগরে মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুর, ১১ জনকে পিটিয়ে জখম গ্রেপ্তার-১

50

মাধব দত্ত, সাতক্ষীরা ঃ কলেজ ছাত্রীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ফুলতলা গ্রামে দু’টি বাড়ি, একটি মন্দির ও প্রতিমা ভাঙচুরসহ ১১জনকে পিটিয়ে জখম করার ঘটনায় পুলিশ এক হামলাকারিকে গ্রেপ্তার করেছে।

বুধবার রাত ৯টার দিকে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতের নাম মোঃ ইউসুফ গাজী (২০)। সে শ্যামনগর উপাজেলার বংশীপুর গ্রামের মনু গাজীর ছেলে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, একাদশ শ্রেণীর কলেজ ছাত্র বিপ্লব মন্ডল তার সহপাঠী পূজা মন্ডলকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফুলতলা গ্রামে রাস মন্দিরের পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় উত্যক্ত করছিল। মিলনসহ স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাতে আপত্তি জানায়। সেখান থেকে ফিরে যেয়ে ক্ষুব্ধ পল্লব মন্ডল রাত ৯টার দিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য আকবর আলীসহ মুনসুর সরদারের গ্যারেজ ও ঈশ্বরীপুর এলাকার সন্ত্রাসী আলীম গাজী, আলীম মোড়ল, রবিউল, কুদ্দুস, ইউছুফ গাজী, আলম গাজী, আয়জুল, খোকন, মিলন, ইয়াকুব, সুজন, সাইদুলসহ ৭০/৮০ জন সন্ত্রাসী বৈদ্যুতিক তার বিচ্ছিন্ন করে শীতলা মন্দির, শীতলা প্রতিমা ও রাসমনি মন্দির ভাঙচুর করে। বাধা দেওয়ায় সুভাষ বাউলিয়া ও নগেন বাউলিয়ার বাড়িতে হামলা চালিয়ে মোটর সাইকেল, ল্যাপটপ, আসবাবপত্র ভাঙচুর করে। সুভাষ বাউলিয়াার দু’ মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়। পিটিয়ে জখম করা হয় নগেন্দ্র বাউলিয়া (৬০), সুভাষ বাউলিয়া (৪২), গোবিন্দ বাউলিয়া (৪০), যতীন বাউলিয়া (৩৮), মিলন বাউলিয়া (২০), নিত্যানন্দ বাউলিয়া (১৮), মমতা বাউলিয়া (২৫) ও তপন বাউলিয়া (৪৮)সহ ১১জনকে। রাতেই তাদেরকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। প্রতিবাদে বুধবার সকাল ১১টায় ফুলতলা মোড়ে বিক্ষো মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বর্বোরচিত এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের অবিলম্বে তারা গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক রিপন মল্লিক জানান, ফুলতলায় প্রতিমা , মন্দির ও ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় গোবিন্দ বাউলিয়া বাদি হয়ে ইউপি সদস্য আকবর আলীকে প্রধান আসামী করে ১১জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০/৫০জনকে আসামী করে বুধবার থানায় একটি মামলা(২৫নং) করেন । এ মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর বুধবার রাত ৯টার দিকে ইউসুফ গাজীকে তার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বৃহষ্পতিবার বিকেলে আদালতে পাঠানো হবে। অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।