হাসপাতালের ৪৮লক্ষাধিক টাকা আত্মাসাতের দায়ে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

273

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইল সদর হাসপাতালের ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২ টাকা আত্মাসাতের ঘটনায় হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকীর বিরুদ্ধে সদর থানায় দুর্নীতির অভিযোগ এনে মামলা হয়েছে। অভিযোগটি সদর থানার ওসি মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জিডি হিসেবে গ্রহণ করে যশোর দুর্নীতি দমন কমিশন-দুদক অফিসে প্রেরণ করেছেন।

আজ বুধবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর বাদি হয়ে সদন থানা এ অভিযোগ করেন।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৩৪টি জাল চালানে ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২ টাকা আত্মসাতের অস্তিত্ব প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় সদর হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা খানম লাকীকে দায়ী করা হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় ফের নতুন করে খুলনা বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মাগুরা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. স্বপন কুমার কুন্ডুকে প্রধান করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিট গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, জাহান আরা খানম লাকির বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই থেকে গত মার্চ মাস পর্যন্ত হাসপাতালের রোগীদের কাছ থেকে ৯টি বিষয়ের ওপর ইউজার ফি গ্রহণ করেন। সেগুলি প্যাথলজী(১), রেডিওলজি(১১), আল্ট্রাসনো(২১), ইসিজি(৩১), কেবিন(৪১), এ্যাম্বুলেন্স(৫১), আউটডোর (টিকিট রুম-৬১), জরুরী বিভাগ (৭১)।

২১ মাসের ৭০ লাখ টাকা সোনালী ব্যাংকে জমা না দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের ৫ চিকিৎসককে সদস্য করে গত ৭ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। পরে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৪৮ লক্ষাধিক টাকা আতœসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত ইতিপূর্বে সদর হাসপাতালে ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার ইউজার ফি আতœসাতের ঘটনায় পূর্বের হিসাবরক্ষক মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলাটি দুদকে বিচারাধীন রয়েছে।

নড়াইল সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার মো. আবু সেলিম জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে যে ৪৩টি চালান প্রদর্শন করেন তার মধ্যে ৯টি চালান সঠিক এবং বাকি চালানের সিল ও স্বাক্ষর জাল। এসব চালানে মোট ১৩লাখ ১২হাজার ৫২০টাকা ব্যাংকে জমা পড়েছে। বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে গত সোমবার লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটির সদস্য সচিব ডাঃ আ.ফ.ম মশিউর রহমান বাবু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে ৩৪টি জাল চালান এবং ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২টাকা আতœসাৎ হয়েছে বলে প্রমান পাওয়া গেছে এবং এ ঘটনায় হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহান আরা লাকিকে দায়ি করা হয়েছে।

সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুর শাকুর বলেন, ৪৮ লাখ ১৭ হাজার ৯১২টাকা আতœসাতের ঘটনায় বুধবার দুপুরে সদর থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলা নং-৬৫৩, তারিখ: ১৪/০৪/২০২১।

এ ব্যাপারে সদর থানার ওসি মোঃ ইলিয়াছ হোসেন জানান, সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস শাকুর টাকা আতœসাতের ঘটনায় একটি অভিযোগ পাঠিয়েছেন। আমরা এটিকে জিডি হিসেবে গ্রহণ করে অভিযোগটি দুদুকে পাঠিয়েছি।