নড়াইল সদর হাসপাতালের অর্থ-আত্মসাতের সুষ্ঠু তদন্ত ও শাস্তির দাবীতে ছাত্রলীগের মানববন্ধন

100

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইল সদর হাসপাতালের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িতদের অবিলম্বে সঠিক তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবীতে নড়াইলে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দুর্নীতি বিরোধী প্লাকার্ডসহকারে শনিবার (১০ এপ্রিল) সকাল ১১টায় সদর হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধ অনুষ্টিত হয়।

মানববন্ধনে সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সিদ্ধার্থ সিংহ পল্টুর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাবেক নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ নিলয় রায় বাধন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌর আওয়ামীলীগের সাংগাঠনিক সম্পাদক সরদার আলমগীর হোসেন, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মিথুন বিশ্বাস রাজু, সহ-সভাপতি সন্দিপ মজুমদার, সহ-সভাপতি মেহেদী হাসান, সহ-সভাপতি আশিক দাশ, জেলা ছাত্রলীগের ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক আল আমিন, উপ-প্রচার সম্পাদক নাসিম সিকদার রাজ, শাহাবাদ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তারিকুজ্জামান, ছাত্রলীগ নেতা মুজাহিদ, বাপ্পি, টাইগার, নাহিদ প্রমুখ।

নড়াইল জেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হাসপাতালের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের সাথে জড়িতদের পিছনের ইতিহাস খুঁজে বের করতে নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে, এর সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। বক্তারা আরো বলেন এর আগেও এই হাসপাতাল থেকে ১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকা আত্মসাতের দায়ে দুদকে মামলা হয়েছে। এধরনের ঘটনা এ সরকারের আমলে নড়াইলে আর ঘটতে দেয়া হবে না। দুর্নীতি ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ সব সময় মাঠে আছে এবং থাকবে।

জানাগেছে, জাহান আরা খানম লাকি ২০১৯ সালের ১৮ জুলাই নড়াইল সদর হাসপাতালে হিসাবরক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। হাসপাতালের রোগী ভর্তি ফি, ওটি চার্জ, চিকিৎসা ফি, প্যাথলজি, অ্যাম্বুলেন্স, কেবিন ফিসহ বিভিন্ন খাতের টাকা প্রতি মাসে একবার করে সোনালী ব্যাংক প্রধান শাখায় জমা দেওয়ার কথা। তবে ২১ মাসের ৭০ লক্ষাধিক টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। ওই টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে। হিসাবরক্ষকের কাছে ব্যাংকে অর্থ জমা দেওয়ার যেসব চালান রয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে এসব চালান জাল।

এদিকে কয়েকটি মিডিয়ায় হাসপাতালের টাকা আত্মসাতের ঘটনা প্রকাশ হওয়ার পরপরই জেলা প্রশসাক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান ও পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায় সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন। এ সময় এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুস শাকুরের কাছে জানতে চান, কেন এতদিন টাকার বিষয়টি খোঁজ-খবর নেননি।

এদিকে এ বিষয়টি তদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. আকরাম হোসাইনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে। সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার কথা।

এ ঘটনায় হিসাবরক্ষককে স্টেশন ত্যাগ করতে নিষেধ করা হয়েছে এবং তার দায়িত্ব থেকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নড়াইল সদর হাসপাতালের ইউজার ফিয়ের ৭০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ঘটনা অনুসন্ধান করবে দুদক। অনুমোদন পেইলেই এ সপ্তাহেই অনুসন্ধানে নামবে দুদক।