মহাজন ও শাল্লায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতনের সুষ্ঠু তদন্তের দাবীতে নড়াইলে মানববন্ধন

59

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাস রুখে দাঁড়াও’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে ‘সুনামগঞ্জের শাল্লা ও নড়াইলের মহাজনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই’ দাবী চেয়ে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ)।

আজ বুধবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় নড়াইল আদালত সড়কে এ মানববন্ধন পালিত হয়। হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) নড়াইল জেলা কমিটি উদ্যোগে ও আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এর সহযোগিতায় এ মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক, পেশাজীবী সংগঠনের অংশ নেয়।

এ সময় বক্তব্য রাখেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোস, জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অ্যাডভোকেট নজরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট হেমায়েতুল্লাহ হিরু, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি ও নড়াইল পৌর আওয়ামীলেিগর সভাপতি মলয় কুমার কুন্ডু, জেলা হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার্স ফোরাম (এইচআরডিএফ) এর সভাপতি অ্যাডভোকেট বীরমুক্তিযোদ্ধা এস এ মতিন, সাধারণ সম্পাদক কাজী হাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ গণশিল্পী সংস্থার আহবায়ক সহকারি অধ্যাপক মলয় কান্তি নন্দী, বাংলাদেশ হিন্দু যুব পরিষদের রাজিব বিশ্বাস, বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সদরের সভাপতি অমিত সাহা রাজা, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আশিষ কুমার বিশ্বাস, বাপা’র শাহ আলম, পঙ্কজ ঘোষ, নিখিল চন্দ্র সরকার প্রমুখ।

নড়াইলের মহাজনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা :
অমিত বিশ্বাসের পরিবারের পরিচিতি ও ঘটনার প্রেক্ষাপট :
কালিয়ার নড়াগাতী থানার মাওলী ইউনিয়নের উত্তর মহাজন গ্রামের মৃত রতন বিশ্বাসের ছেলে অমৃত বিশ্বাস একজন রংমিস্ত্রি। তারা ৬ ভাই , এক বোন। বড় বোন কমলা বিশ্বাস, বড়ভাই মহানন্দ (৬০), ২য় ভাই সনদ বিশ্বাস (৫৮), ৩য় গৌরঙ্গ বিশ্বাস (৫৫), ৪র্থ নিত্যানন্দ বিশ্বাস, ৫ম ও ৬ষ্ঠ দুইজন জমজ, এর একজনের নাম অমিত বিশ্বাস (অধ্যহিত) ও বিদ্যহিত বিশ্বাস (৩৫)। মহাজন গ্রামে পাঁচ শতক জমির ওপর তারা ভিন্ন ভিন্ন ঘর করে বসবাস করে। ভাইদের মধ্যে অমিত রংমিস্ত্রির কাজ করে পরিবার চালায়। ছোট ভাই বিদ্যহিত বিশ্বাস লোহাগড়া বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে কাজ করে।

ঘটনার তথ্য সূত্র ও বিবরণ :
সোস্যাল মিডিয়ার সূত্র ধরে ২৩ মার্চ তারিখে তথ্যানুসন্ধানের জন্য এইচআরডিএফ নড়াইল জেলা কমিটির পক্ষ থেকে ৯জন কালিয়ার নড়াগাতি থানার মহাজন গ্রামে মৃত্যু অনিল বিশ্বাসের বাড়িতে উপস্থিত হলে নির্যাতিত ব্যক্তি ও তার পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা হয়।

হিউম্যান ডিফেন্ডার্স ফোরাম -এইচআরডিএফ নড়াইলের অনুসন্ধান টিমকে ক্ষতিগ্রস্থ অমিত বিশ্বাস ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন রবিবার ২১ মার্চ ২০২১ রাতে অমিতের বাড়ীর উত্তর পাশে মামা মধুমঙ্গল বিশ্বাসের বাড়ী। ঐ রাতে অমিতের মামাত ভাই নিমাই বিশ্বাসের ছেলে অয়ন বিশ্বাসের (০৩) জন্মদিন ছিল। জন্মদিন উপলক্ষে সেখানে গানবাজনা চলে প্রায় রাত ১টা কি দেড়টা পর্যন্ত। সেখানে অমিত উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনার আাগের দিন ২০ মার্চ শনিবার অমিত বিশ্বাসের ছেলে প্রিতম বিশ্বাস (১৮ মাস) এবং মেয়ে প্রত্যাশা বিশ্বাস (১২) পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ে তাদের নিয়ে স্ত্রী ফরিদপুর বাবার বাড়িতে বেড়াতে যায়। অমিতের মামাতো ভাইয়ের ছেলের জন্মদিন অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে সেদিন বাইরে বাজাওে সময় কাটায় প্রায় রাত ১২/১টা পর্যন্ত। এরপর সে বাড়িতে যেয়ে ঘরে ঘুমিয়ে পড়ে।

আমিত বিশ্বাস জানান, রাত আনুামনিক ৩টার (রবিবার ২১ মার্চ) দিকে মুখে কালো কাপড় বাঁধা ৭/৮ জন লোক ঘরে ডুকে তার (অমিত) মুখ-হাত বেঁধে ফেলে মারধর করতে থাকে। মুখবাঁধা দূর্বৃত্তদের হাতে থাকা একটি সাদা বোতলে পানিয় কি যেন (অমিত) ঘরে ছিটাতে থাকে। এরপর আগুণ দাউ দাউ করে জ্বলে উঠে এবং কিছু সময়ের মধ্যেই (অমিত বিশ্বাস) ঘর ও ঘরে থাকা সকল মালামাল পুড়ে ভষ্ম হয়ে যায়।

গত ২২ মার্চ সোমবার রাতে নড়াগাতী থানায় এ ঘটনায় একটি এজহার দাখিল হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মহাজন বাজারের পলিথিন ব্যবসায়ী প্রসেন বিশ্বাসকে নড়াগাতী থানা পুলিশ আটক করেছে।

ঘটনাস্থল পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার বিশ্বাস ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রোখসানা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।

সুনামগঞ্জের শাল্লা:
১৫ মার্চ হেফাজত ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক সুনামগঞ্জের দিরাইয়ে সমাবেশে ‘সম্প্রদায়িক উসকানিমূলক’ বক্তব্য দেন। এতে সংক্ষুব্ধ হয়ে শাল্লা উপজেলার নোয়াগাঁও গ্রামের ঝুমন দাস ফেসবুকে সমালোচনামূলক পোস্ট দেন। এর জেরে ১৭ মার্চ গ্রামটিতে তাণ্ডব চালানো হয়।