সাংবাদিক খায়রুলের প্রচেষ্টায় ভারত থেকে ফিরলেন নিখোঁজ সমীর ও শালিনতারা

111

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ সমীর কুমার মজুমদার ও শালিনতারা বেগম নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিক ভারত থেকে নিজ দেশে ফিরে এসেছেন। গত শুক্রবার (১২ মার্চ) দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে তারা দেশে ফেরেন।  

এ সময় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় হতে ত্রিপুরাস্থ আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারি হাইকমিশনার জোনায়েদ হোসেন ও আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর এ আলম নিখোঁজ হওয়া শালিনতারা বেগম ও সমীরকে স্ব স্ব পরিবারের স্বজনদের নিকট হস্তান্তর করেন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া নবিনগরের বীরমুক্তিযোদ্ধা রেজাউল ইসলাম ফারুক, মো হান্নান মেম্বর, যুবলীগ নেতা বাবুল হোসেন, শালিনতারা বেগমের বড় ভাই ফজলুল হক ও জয়নাল আবেদীন সেলিম, সমীর মজুমদারের ছোট ভাই অসিম মজুমদারসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

শালিনতারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামের আসমত আলীর মেয়ে।

সমীর কুমার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের শশধর মজুমদারের ছেলে ও শালিনতারা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার গুড়িগ্রামের আসমত আলীর মেয়ে। সমীর কুমার প্রায় ১২ বছর, শালিনতারা ৫ বছর যাবত ভারতের আগরতলায় ছিলেন।

সমীর কুমার ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কুমারকান্দা গ্রামের শশধর মজুমদারের ছেলে

ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যেরর আগরতলাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, ওই দুজন আগরতলার মডার্ণ সাইক্রিয়াটিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বাংলাদেশের নড়াইলের মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক সৈয়দ খায়রুল আলম ওই দুজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অবহিত করেন। এ বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিটগর ইউনিয়নের গুড়িগ্রাম থেকে ২০০৮ সালের জানুয়ারিতে মানসিক ভারসাম্যহীন শালিনতারা বেগম নিখোঁজ হন। অন্যদিকে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার ঝুমারকান্দা গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন মানসিক ভারসাম্যহীন সমীর মজুমদার।  

বিগত দুই বছর আগে নড়াইলের সাংবাদিক সৈয়দ খায়রুল আলম আগরতলা গিয়ে এদের খোঁজ পান। এ সময় তিনি আগরতলায় বসেই মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নিখোঁজদের পরিবারের সাথে কথা বলিয়ে দেন। এভাবেই তাদের পরিবার প্রথম খোঁজ পান শালিনতারা ও সমীরের।

শালিনতারা ও সমীর

এরপর থেকেই সৈয়দ খায়রুল আলম শালিনতারা ও সমীরকে দেশে ফিরে আনতে দুই দেশের সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চিঠিপত্র আদান-প্রদান করতে শুরু করেন। একপর্যায় তার যোগাযোগের সফল সমাপ্তি হয় গত শুক্রবার ১২ মার্চ। দীর্ঘ ১২ বছর এবং ৫ বছর পর এদিনে সমীর ও শালিনতারাকে দেশে ফিরে আনতে সফল হন। দির্ঘবছর অন্যরকম এক জীবন-যাপন থেকে সীমান্ত পেরিয়ে ফিরে আসেন নিজ মাটিতে শালিনতারা বেগম ও সমীর মজুমদার।

জানাগেছে, প্রতিবেশি দেশ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের মডার্ন সাইক্রেটিক হসপিটালে (মানসিক হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরো অনেকেই। তারা সুস্থ আছেন এবং তারাও তাদের স্বজনদের কাছে ফিরে যেতে চায়।  

নিখোঁজ হওয়া শালিনতারা বেগম ও সমীরকে ফিরে পেয়ে তার  বড় ভাই জয়নাল আবেদীন এবং সমীর মজুমদারের ছোট ভাই অমির মজুমদার অসিম বলেন, আমরা দির্ঘ একযুগেরও বেশি সময় ধরে অনেক খোঁজাখুঁজি করে কোন সন্ধান মেলাতে পারিনি। হঠাৎ দুই মাস আগে ভারত থেকে নডাইলের খাযরুল আলম ভাইয়ের সাথে ফোনে আমার বোনের সাথে কথা বলিয়ে দিলে আমরা নিশ্চিত হলাম সে বেঁচে আছে এবং আগরতলা আছে। তিনি সকল যোগাযোগ করে আজ হারিয়ে যাওয়া স্বজনদের বুকে পেয়ে আমি আমার পরিবার খুশি।

এ সময় ভারতের ত্রিপুরাস্থ আগরতলায় বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনার জোনায়েদ হোসেন বলেন, ত্রিপুরা রাজ্যের আগরতলা শহর থেকে ২০১৩ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর এবং ২০০৮ সালের ১৯ জানুয়ারি রাজ্যের পুলিশ তাদেরকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আটক করে এবং আদালতের নির্দেশে আগরতলা নরসিংগড় মডার্ন সাইক্রেটিক হসপিটালে (মানসিক হাসপাতাল) ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তারা এতদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ায় ত্রিপুরাস্থ বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনের সহায়তায় (১২ মার্চ, শুক্রবার দুপুর) নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হলো।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া নো-ম্যান্সল্যান্ড এলাকায় শালিনতারা ও সমীরকে তাদের পরিবারে নিকট হস্তান্তরের সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সহকারী কমিশনের প্রথম সচিব (স্থানীয়) এস এম আসাদুজ্জামান, আখাউড়া বিজিবি কোম্পানি কমান্ডার জাহাঙ্গীর আলম, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা মোর্শেদুল হক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান, মর্ডান সাইক্রেটিক হসপিটালের চিকিৎসক, সাংবাদিক কবি সৈয়দ খায়রুল আলম, নিসরাপ নড়াইল কমিটির সভাপতি আকতার হোসেন কিংকু প্রমুখ।