কমরেড বিমল বিশ্বাসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান: সৈয়দ মঞ্জুর রহমান

29

সৈয়দ মঞ্জুর রহমান : বাংলাদেশের বর্ষিয়ান কমিউনিষ্ট নেতা সমসাময়িক কালে বাংলাদেশের বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব কমরেড বিমল বিশ্বাসের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি আমার সাথে একান্ত আলাপচারিতায় বারবার যা বলেছেন এবং আমার কাছে অন্যেরা অনেকেই জানতে চেয়েছেন তাই সংক্ষেপে আলাপচারিতার মর্মার্থ তুলে ধরছি-তাঁর দীর্ঘ ৫৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন ১৯৮৩ সাল থেকে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ ,কমিউনিস্ট লীগ , বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের সব মিলে ৭ বছর সাধারণ সম্পাদক ছিলেন পরবর্তীতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ১০ বছর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনৈতিক জীবনের নানা সাফল্য ,সমস্যা , সংকট, বাংলাদেশের অতীত -বর্তমান, রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেছেন, শোষিত-নিপীড়িত মেহনতি মানুষের স্বার্থে জীবনের শুরু থেকে আত্মনিয়োজিত ছিলেন। সবশেষে ওয়ার্কার্স পার্টির শ্রমিক শ্রেণীর আদর্শ মার্কসবাদ – লেনিনবাদের দৃষ্টিতে রাজনৈতিক লাইন পরিচালিত না হওয়ায় তিনি ওই পার্টি থেকে প্রত্যাহার পত্র দিয়ে সুনির্দিষ্ট পাঁচটি পয়েন্টে অনেক কথাই বলেছিলেন, তন্মধ্যে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন আমার এই বয়সে শারীরিক, আর্থিক যে অবস্থা এসে দাঁড়িয়েছে আমি এই পার্টিতে থেকে আমার করার কিছুই নেই । যদি পারি আমার গ্রামে কিছু মার্কসবাদী কর্মী তৈরি করা এবং আমার জীবনের অভিজ্ঞতালব্ধ প্রয়োগ ও তত্ত্বগত জ্ঞানের নিরীখে বই লেখার কাজে আত্মনিয়োগ করবো। ওয়ার্কার্স পার্টি অত্যন্ত অযৌক্তিক ভাবে তাকে বহিঃষ্কার করলে তিনি বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী গঠনের কাজে উদ্যোগী ভুমিকা নেন।

ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী ,সিপিবি এবং ইউনাইটেড কমিউনিষ্ট লীগের সাথে ঐক্যের ঘোষণা দিয়েছিল । পরবর্তীকালে ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগের পক্ষের তারা বলেন, আর যাইহোক সংশোধনবাদী সিপিবির সাথে ঐক্যের প্রশ্নই আসে না। তখন ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদীর মধ্যে ঐক্যের প্রশ্নে দুইটি মতামত বেরিয়ে আসে যার একটির মর্মার্থ হচ্ছে – কার্যত কোনো ঐক্য নয়।আরেকটি মতামত কমরেড নূরুল হাসানের নেতৃত্বে ঐক্য করার জন্যে নানা ধরনের চেষ্টা গ্রহণ করা । বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে ২০০২ সাল থেকে একটি শক্তিশালী মতামত ক্রিয়াশীল ছিল যে, চীনাপন্থীদের সাথে কোনো ঐক্য নয়। ২০০২ সালে ওয়ার্কার্স পার্টি ও সিপিবির ঐক্যে প্রচেষ্টার বিপক্ষে দৃড়ভাবে অবস্হান নিয়ে সেই ঐক্যের উদ্যোগ ভন্ডুল করে দেন কমরেড হায়দার আকবর খান রনো, পরবর্তীতে আবার কমরেড হায়দার আকবর খান রনোরই নেতৃত্বে ওয়ার্কার্স পাটির একটি ক্ষুদ্রাংশের সাথে ২০১০ সালে সিপিবি ঐক্য ও করেছিল।

এবারের ঐক্য প্রচেষ্টার ব্যাপারে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সকলেই একমত নন। তাছাড়া তাদের অভ্যন্তরীণ সংকটও বাইরে প্রকাশিত। যখন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি দাবি করছে বহুধা বিভক্ত কমিউনিস্টদের ঐক্য ও সকল বামপন্থীদের ঐক্য আজ সময়ের দাবি। শুধু তাই নয় দেশি বিদেশি শক্তি কমিউনিস্ট ও বামপন্থীদের এই ঐক্যকে ছিন্নভিন্ন করে নিশ্চহ্ন করতে চাইছে ও আগ্রাসী হয়ে উঠছে এবং শ্রেনীস্বার্থেই তারা ভবিষ্যতে আরও আগ্রাসী হবে তখন দুর্ভাগ্যবশত কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরা ঐক্যের গুরুত্বকে উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। এমতাবস্হায় একদিকে কমরেড বিমল বিশ্বাসের বিপর্যস্ত আর্থিক পরিস্থিতি এবং বয়সের দিক থেকে ৭৫ বয়স হয়ে গিয়েছে । তিনি নীতিগত ভাবে মনে করেন, তাঁর রাজনীতির থেকে অবসর গ্রহণ করা উচিত। এই বয়সে তাঁর এখনো যেটুকু যোগ্যতা আছে সেই যোগ্যতা দিয়ে তিনি কিছু বই লিখে যেতে পারলে সেটি ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।কোনো দলের কোনো গুরু দায়িত্বপূর্ণ পদে যাওয়া উচিত নয়। এমনকি পার্টির সদস্য থাকাও সমীচিন নয়।