অর্থসঙ্কটে চিকিৎসা হচ্ছে না হতদরিদ্র তরুণ শহীদুলের

47

স্টাফ রিপোর্টার ॥ হতদরিদ্র পরিবারের সন্তান দিনমজুর শহীদুল। বাবা ভ্যান চালক। পরিবারের স্বচ্ছলতা ফিরিয়ে আনতে নিজে গ্রামের একটি ইট ভাটার গাড়িতে কাজ করতো। সংসারের খরচ যোগাতে ভ্যান চালক বাবাকে সহায়তা করতো। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। বিশ বছরের টগবগে তরুণ শহীদুল এখন বিছানায় শুয়ে মরার মত বেঁছে আছে। কে করবে তার দেখাশোনা, আর কারই বা ভালো লাগে এভাবে বিছানায় শুয়ে থাকতে ।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের লোহাগড়া-মিঠাপুর সড়কের ব্রাহ্মণডাঙ্গা বাজারের মোড়ে নাটাই গাড়ি উল্টে গিয়ে মারাত্মক আহত হয় নাওরা গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে শহীদুল। গত ৫ জানুয়ারি মঙ্গলবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ইট বহনকারী নাটাই গাড়িতে সে চালক হিসাবে কাজ করত। সড়ক দুর্ঘটনায় তার বাম পায়ের উরুতে এবং হাঁটুর নিচে ভেঙ্গে যায়। মিজানুর রহমানের দুই ছেলে এক মেয়ে। মিজান এবং তার বড় ছেলে ভ্যান চালায়ে সংসারের খরচ যোগাড় করেন। অভাবের সংসারে যে যেমন পারে আয় করতে চেষ্ট করে। দুর্ঘটনার দিন নড়াইল সদর হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করে। সেখানে প্রায় ১৪দিন বিনা চিকিৎসায় হাসপাতালের মেঝেতে থাকতে হয়েছে। চিকিৎসকরা একেক সময় একেক কথা বলেন।

খুলনা থেকে যশোর অর্থোপেডিক ও ট্রমাটলজীতে আনা হলে চিকিৎসক বলেন অপারেশন করতে হলে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা লাগবে। তাহলে তার পা ধীরে ধীরে ঠিক হতে পারে বলে আশ্বাস দেন ওখানকার চিকিৎকরা। কিন্তু কোথায় পাবে এতো টাকা ভ্যান চালক পিতা। তিন বেলা যাদের ঠিকমত আহারই জোটে না সেই পিতার পক্ষে কি করে সম্ভব ছেলের চিকিৎসা করা।

সর্বশেষ ঢাকা শেখ হাসিনা জাতীয় ইনষ্টিটিউট অব বার্ন এন্ড প্লাষ্টিক সার্জরীতে নেয়া হয়েছিল। টাকার অভাবে কোথাও কোনো চিকিৎসা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তার পিতা মিজানুর রহমান। এ পর্যন্ত প্রায় দেড়লক্ষ টাকা খরচ হয়েছে স্থানীয় জনগণের নিকট থেকে সাহায্য সহযোগিতা নিয়ে। দেশের বিত্তবান লোকদের নিকট ছেলের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সাহায্যের আবেদন করেন তিনি। তার বিকাশ নং ০১৯৩৬১১৮০৩৯