নড়াইলে জমির ধান উপড়ে ফেলার প্রতিবাদে ধানক্ষেতেই মানববন্ধন

81

স্টাফ রিপোর্টার : একদিকে স্বামীকে পাঠালো কারাগারে অপরদিকে ফসলী জমির ধান উপড়ে ফেললো । যে কারনে কান্না থামছেনা গীতা রানী বালার। এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (১৩ মার্চ) সকালে ধানক্ষেতেই এলাকাবাসীর মানববন্ধন। ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের মুলদাইড় গ্রামে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন মুলদাইড় গ্রামের মোঃ শহিদুল ইসলাম, সুরুচি রায়, বাসন্তী রানী, রেখা রানী বালা, প্রত্যশী বালা প্রমূখ।

বক্তারা বলেন, মুলদাইড় গ্রামের মৃত সুরেন বালার ছেলে শুনিল বালা অসহায় বর্গাচাষী। অপরের জমি চাষ করে সংসার চলে তার। সে তালতলা গ্রামের জাহিদ মুন্সীর মুলদাইড় মাঠের ১৮ শতক জমির ব্লকে ইরিধান আবাদ করেছে। গত ১২ মার্চ তালতলা গ্রামের মাওলানা গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে একদল লোক এসে সেই ধান উপড়ে ফেলে ক্ষতি করে। উক্ত জমি বর্গাচাষ করার অপরাধে গত বুধবার (১০ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে পুলিশ এসে থানায় নিয়ে যেয়ে কোর্টে চালান করে। যে কারনে গীতা বালা সন্তান নিয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন। মানববন্ধনে বক্তারা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সুষ্ঠু সমাধান চেয়েছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাওলানা গোলাম মোস্তফা বলেন, এটা আমার জমি এবং এ জমি নিয়ে আদালতে মামলা চলছে। শুনিল বালা ও ডাবলু জমিটি জবর দখল করে চাসাবাদ করেছে। আমি আ্ইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশ শুনিল বালাকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আমি পুলিশকে জানিয়েই আমার জমি পরিস্কার করেছি।

এ বিষয়ে জাহিদ মুন্সি বলেন, মাওলানা গোলাম মোস্তফা আমার চাচাতো চাচা। অনুমান ৩৬ বছর পূর্বে আমার পিতার মৃত্যুর পর হতে তিনি জোর পূর্বক আমার পিতার জায়গা জমি ভোগ দখল করে আসছিল। আমি ২০০১ সালে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে বিদেশ (কুয়েত) চলে যাই। আমি কুয়েতে থাকাকালীন সদর থানাধীন ১৩৭ নং তালতলা মৌজার খতিয়ান নং- ৮৫ এর সাবেক দাগ নং- ৪৪ এর অধীনে ১৮ শতাংশ ধানী জমি জোর পূর্বক ভোগ দখল করতে থাকে। আমি ২০১৫ সালে বাড়ীতে আসার পর আমি আমার জমি ভোগ দখল করতে থাকি । এরপর থেকে আমার চাচা উক্ত জমি জোর পূর্বক ভোগ দখল করার জন্য আমাকে খুন জখম করার জন্য ষড়যন্ত্র করতে থাকে। যার কারনে আমি জমিটি সুনীল বালাকে বর্গা দেই। শুনিল বালা জমিতে অনুমান ২মাস পূর্বে ইরি ধান বপন করে। গত ১২ মার্চ সকাল অনুমান ১০ টায় বেআইনীভাবে হাতে লাঠি সোটা সহ আমার জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে জমিতে থাকা ধান উপড়ে ফেলে আনুমানিক ২৫ হাজার টাকার ক্ষতি সাধন করেছে

এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ ইলিয়াস হোসেন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং এসআই শোভনকে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শুনিল বালার জামিনের জন্য সহযোগিতা করা হবে।