শিক্ষক জনকের বিরুদ্ধে অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা করলেন মেয়ে মারিয়াম

67

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ‘কলেজ পড়–য়া শাহ্জাদী মারিয়াম বিনতে শাহান। মারিয়ামরা তিন বোন। সে সকলের বড়। পিতা স্থানীয় একটি হাইস্কুলের গণিত শিক্ষক, মা গৃহিণী। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে মারিয়াম সকলকে পরিবার ও তার নিজের সফলতার গল্প শুনানোর কথা ছিলো। কিন্তু বিধি বাম। নারী জাগরণের ঐতিহাসিক এই মহেন্দ্রক্ষণে সে সকল লজ্জা, ঘৃণা, সংকোচ উপড়ে ফেলে বুকে দীপ্ত সাহস নিয়ে নিজের শিক্ষকপিতার বিরুদ্ধে মায়ের ওপর অমানবিক কুৎসিতকার নির্যাতনের বর্ণনা করলেন। হল ভরা মানুষ হতবাক। চোখের পানি সামলাতে পারেনি কেউ।’

সোমবার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে নড়াইলে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্ন্তজাতিক নারী দিবসের আলোচনা সভার মাধ্যমে এ কলেজ পড়–য়া মেয়ে নির্যাতনের ভয়াবহ বর্ণনা দিয়ে তাদের ভরণপোষণ ও নিরাপত্তার দাবি জানান দেশের বিবেকবান ব্যক্তিদের কাছে।

শাহ্জাদী মারিয়ামের পিতা শাহান সরদার সদর উপজেলার মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিতের শিক্ষক। মা ফারজানা বেগম গৃহিনী। বাড়ি নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারিখাদা গ্রামে।

সভায় শাহজাদী মারিয়াম অভিযোগে বলেন, গত শনিবার (৬ মার্চ) রাতে বাবা শাহান শাহ তার তৃতীয় স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে আসে এবং ঘরে তুলতে যায়। এ সময় মা এবং আমরা দু’বোন বাধা দেওয়ায় বাবা তার তৃতীয় স্ত্রী মারিয়া ও আমার দাদু সবদার সরদার মিলে আমার মা ৮মাসের অন্তসত্ত্বা ফারজানাকে কিলঘুষি, লাথি ও মারপিট করতে থাকে। এসময় আমার দু’বোন ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও কিল ঘুষি মারতে থাকে। মা এসময় অচেতন হয়ে যান এব ব্লিডিং হয়। আমার মাকে রাতে নড়াইল সদর হাসপাতালে আনা হলে অবস্থা খারাপ হওয়ায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। আমরা রাতেই খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাই। বর্তমানে আমার মা আল্লাহর রহমতে সুস্থ্য হয়ে উঠেছে।

এ ঘটনার পর আমাদের বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে ঘরে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে আমার বাবা। আমরা এখন কোথায় উঠবো, আমাদের ভরণ-পোষন কিভাবে চলবে তা ভেবে পাচ্ছি না। তাছাড়া নানাভাবে আমাদের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন। আমরা ভয়ে মামলা করতে পারিনি। আমরা এখন নিরাপত্তা চাই।’

জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে নারী দিবসের আলোচনা সভায় জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মোঃ আনিছুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বিশেষ অতিথি পুলিশ সুপার প্রবীর কুমার রায়, নড়াইল পৌর মেয়র আঞ্জুমান আরা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এস,এম, ছায়েদুর রহমান, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রাবেয়া ইউসুফ, জাতীয় মহিলা সংস্থা নড়াইলের চেয়ারম্যান সালমা রহমান কবিতা। অনুষ্ঠানে সরকারী বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তারা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি পরিবারটিকে নিরাপত্তার আশ্বাস দেন।

জানাগেছে, চারিখাদা গ্রামের সবদার সরদারের ছেলে মাইজপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণিত শিক্ষক শাহান শাহ সরদারের সাথে ২১ বছর আগে ঢাকার সূত্রাপুর এলাকার আব্দুল কাদিরের মেয়ে ফারজানার সাথে বিয়ে হয়। তাদের ঘরে তিনটি কন্যা সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে শাহজাদী মারিয়া এইচসি, মেঝো মেয়ে শাহ আফরিন ৯ম শ্রেণীতে এবং ছোট মেয়ে ফাতেমা ৩য় শ্রেণীতে অধ্যায়নরত। বর্তমানে নির্যাতিত ওই নারী ৮মাসের অন্ত:সত্ত্বা।