‘চাঁচুড়ী-পুরুলিয়া উপজেলা’ বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ

74

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নড়াইলে প্রস্তাবিত ‘চাঁচুড়ী-পুরুলিয়া উপজেলা’ বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধন এবং সমাবেশ থেকে আটটি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা পরিষদ গঠনের দাবি জানান এলাকাবাসী।

শনিবার (০৬ মার্চ) সকাল ১১টার দিকে চাঁচুড়ী বাজারের সামনে নড়াইল -কালিয়া সড়কে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় বক্তারা বলেন, নবগঙ্গা নদীর পশ্চিমতীর দীর্ঘ দিন ধরে অবহেলিত রয়েছে। ভৌগলিক কারণে কালিয়া ও নড়াইল সদর উপজেলার দূরত্ব বেশি থাকায় এ এলাকার মানুষ সরকারি মৌলিক সেবা পেতে প্রতিনিয়ত বিড়ম্বনার স্বীকার হচ্ছে। অবকাঠামোগত কোনও উন্নয়ন নেই। সে কারণে নড়াইল সদরের শিংগাশোলপুর ও বিছালি ইউনিয়ন এবং কালিয়া উপজেলার মাউলী, বাবরা-হাচলা, চাচুড়ী, পুরুলিয়া, পাঁচগ্রাম, ও পীরলিসহ মোট আটটি ইউনিয়ন নিয়ে এ উপজেলা পরিষদ গঠনের দাবি করেন তারা।

বক্তারা আরো বলেন, এখানে একটি উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এ এলাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, আইন-শৃংখলা পরিস্থিতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষি, স্বাস্থ্য সেবাসহ বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন সহজতর হবে। প্রস্তাবিত চাঁচুড়ি-পুরুলিয়া উপজেলা গঠনের বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক থেকে খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে বিবেচনাধীন রয়েছে। এরপর সচিব কমিটিতে পাশ হলে নিকার (ঘওঈঅজ)-এর বৈঠকে যাবে এবং প্রধানমন্ত্রী বিষয়টির ফয়সালা করবেন।

পুরুলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী মোল্যার সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, চাঁচুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম হীরক, অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক আলী আকবর হোসেন, কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক সম্পাদক এম জাকাতুর রহমান, কালিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, চাঁচুড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারই সম্পাদক মুন্সী লুৎফর রহমান, ব্যবসায়ী আবুল কালাম, জামিরুল ইসলাম, সাবু প্রমুখ।

উল্লেখ্য, নবগঙ্গা ও চিত্রা নদী কর্তৃক বিভক্ত প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত কালিয়া উপজেলার চাঁচুড়ী, পুরুলিয়া, বাবরা-হাচলা, পেড়লী, মাউলী ও পাঁচগ্রাম এই ৬টি ইউনিয়নের সঙ্গে সদর ও কালিয়া উপজেলার আর্থ-সামাজিক এবং যোগাযোগ ব্যবস্থা বেশ নাজুক। এখানকার আইন-শৃংখলা পরিস্থিতিও ভালোনা। দাঙ্গা-মারামারি প্রায় লেগেই থাকে। এ কারনে এখানকার ৬টি ইউনিয়ন নিয়ে এলাকার মানুষ ২০১১ সাল থেকে একটি নতুন উপজেলার দাবি করে বিভিন্ন সময় সভা সমাবেশ, সংবাদ সম্মেলন ও মিছিল মিটিং করে আসছেন। বিষয়টি অনেক দূর পর্যন্ত এগোলেও তা সফলতার মুখ দেখেনি।