দীপক চৌধুরী: ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যাচার, করোনা নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রীর সুদক্ষ কর্মপরিকল্পনা ও তাঁর সাফল্য

46

দীপক চৌধুরী: করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মানুষের মধ্যে ছড়ানো সবরকম বিভ্রান্তি, অপপ্রচার ও মিথ্যাচার প্রমাণ হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ‘ভ্যাকসিন’ নিয়ে যেখানে এখন হাহাকার চলছে সেখানে এদেশে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার কূটনৈতিক দক্ষতায় দ্রুতসময়ে ‘ভ্যাকসিন’ এসেছে, নিচ্ছেন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তাঁর সুদক্ষতা ও সাফল্য প্রমাণ হয়েছে। তাঁর কার্যক্রম নিয়ে অবাস্তব নানা সমালোচনা হয়েছে। সমালোচনার ঊর্ধে উঠে কাজ করে গেছেন শেখ হাসিনার সৈনিকরা। এখন মৃত্যুহারও নিয়ন্ত্রণে। কোভিড-১৯-এর বিশ্বপরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশ অনেক দেশের চেয়ে ভাল আছে। আমাদের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক। সারবিশ্বে ২০২০-এ করোনাভাইরাস আক্রমণ শুরু করে। গত বছর মার্চে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। বিশ্বের অন্য দেশের মতো বাংলাদেশও করোনার বিরুদ্ধে লড়াই শুরু হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, সংবাদকর্মীসহ এদেশের নিরাপত্তারক্ষীরা যেভাবে জীবনবাজি রেখে মানুষের জন্য কাজ করেছেন তা বিশ্বের জন্য বিস্ময়। বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. বেনজীর আহমেদ, ডিএমপির কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলামসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নিজে দায়িত্ব নিয়ে ‘মনিটর’ করছেন। কী এক ভয়ঙ্কর দুঃসময় গেছে। শেখ হাসিনার নির্দেশে পুলিশের কার্যক্রম আরো গতিশীল করতে নানারকম কার্যক্রম গ্রহণ করেছেন তাঁরা। এক্ষেত্রে আইজিপি বেনজীর আহমেদের দক্ষতা দেখা গেছে।

করোনাকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে পেশাদারিত্ব ও আন্তরিকতার মাধ্যমে সেবা দিয়েছেন অকুতোভয় পুলিশ সদস্যরা। এ দায়িত্ব পালনকালে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে ৮৫জন পুলিশ সদস্য মানুষের সেবা করতে গিয়ে জীবন দিয়েছেন। তাঁরা আত্মোৎসর্গ করেছেন। করোনায় ১৯ হাজার পুলিশসদস্য আক্রান্ত হয়েছেন। এটা কিন্তু আমাদের মনে রাখা দরকার। সরকার পরিচালনায় দক্ষতা, দেশপ্রেম, সততা ও সকল প্রয়োজনীয়তা বঙ্গবন্ধুকন্যার কারণেই সম্ভব হয়েছে। এখন বিশ্বের বিশেষজ্ঞরা ধারণা দিচ্ছেন, কেবল ভ্যাকসিনই এই ভাইরাসকে রুখে দিতে পারে। সরকার যথেষ্ট টাকা দিয়ে ভ্যাকসিন এনেছে এবং এটা অতি উত্তম সিদ্ধান্ত। শুধু জনগণের মঙ্গলের জন্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকল ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এটা নিয়ে জামায়াত-বিএনপি-ইসলামপন্থী কিছু দল উল্টোপাল্টা কথা বলবেই। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা উল্টোপাল্টা, মিথ্যা, ধর্মের দোহাই দিয়ে নানা কথা বলে এদেশের সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে। বঙ্গবন্ধুকে ছোট করার জন্য কী করেনি ওরা? যার নির্দেশে এদেশের লক্ষলক্ষ যুবক আত্মাহুতি দিতেও চুল পরিমাণ চিন্তা করার প্রয়োজন বোধ করেনি আজ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভেঙ্গে ফেলে ওরা, হুমকি দেয়। আসলেই ভাবছি, সেলুকাস, কী বিচিত্র এ দেশ।

আমরা সবাই জানি, দেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি মহাসচিবসহ তাদের দলের নেতারা ভ্যাকসিন নিয়ে নেতিবাচক প্রচার চালিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা আগে বলেছিলেন বাংলাদেশ করোনা টিকা পাবে না। যখন টিকা এলো তখন তারা বললো- আগে প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর দলের নেতারা টিকা নিক। কেমনতরো হাস্যকর কথাবার্তা! অবশ্য, কিছুই সম্ভব না হলে ‘তারা’ গুজব ছড়াতে পছন্দ করে। মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু দিনের জন্য- যা কখনো স্থায়িত্ব পায় না কিন্তু দেশের বিরাট ক্ষতি করে থাকে।

বিশ্বের ধনী দেশগুলো করোনা ভ্যাকসিনের অগ্রিম অর্ডার করে গবেষণা এবং ভ্যাকসিন উন্নয়নে সহায়তা করে। ঠিক সেই সময় কোন তৃতীয় বিশ্বের দেশের জন্য এভাবে অগ্রিম দিয়ে ঝুঁকি নেওয়া কঠিন হলেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জন্য সেই ঝুঁকি নিয়েছিলেন। এটাই ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যার দূরদর্শী চিন্তা। ওই সময় অক্সফোর্ড এ্যাস্ট্রোজেনেকার আবিষ্কৃত ভ্যাকসিনের প্রি বুকিং দেয় বাংলাদেশ। প্রাদুর্ভাব ঠেকানোর জন্য প্রণোদনা দেওয়া থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সবরকম চেষ্টা ও আন্তরিকতার নজির বিশ্বেকমই আছে। শুরু থেকেই সারাবিশ্বে একটা আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল এই ভাইরাস থেকে দুনিয়া বাঁচবে কীভাবে। সেই অন্ধকার সময়গুলো কেটে যাচ্ছে মনে হয় যেনো। টিকার কারণে আত্মবিশ্বাসও বেড়েছে। এখন আমাদের প্রধান বিচারপতি, বিচারপতি, মন্ত্রী, সচিব, পুলিশ, রাজনীতিবিদ টিকা নিচ্ছেন। সহজ কথায় বলা যায়- অনেক গুরুত্বপূর্ণ মানুষ টিকা নিচ্ছেন দেখে সাধারণ মানুষও উৎসাহিত হচ্ছে।

মহামারী রুখে দিতে দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে করোনা ভ্যাকসিন প্রয়োগ শুরু হয়েছে। করোনা সংক্রমণের ১১ মাস পর রোববার টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার পর্যন্ত মোট টিকা নিয়েছেন ৪৬ হাজার ৫০৯ জন। প্রধান বিচারপতি টিকা নেওয়ার একদিন পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেছেন, তিনি ভালো আছেন। সবাইকে টিকা নিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি রোববার টিকা নিয়েছিলেন, সোমবার কোর্ট করলেন, তাঁর দপ্তরে থাকা কাজ করেছেন। গত ২৭ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতালে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ওই দিন ২১ জনকে করোনার টিকা দেওয়া হয়। এর পরদিন রাজধানীর ৫টি হাসপাতালে ৫৪৬ জনকে টিকা দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বলা হয়, টিকা নেওয়া ৫৬৭ জনই সুস্থ আছেন। কারও বড় ধরনের কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সরকারের কাছে ৭০ লাখ টিকা আছে। এর মধ্যে ২০ লাখ টিকা ভারত সরকার বাংলাদেশকে উপহার হিসেবে দিয়েছে। বাকি ৫০ লাখ টিকা সরকার ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের কাছ থেকে কিনেছে। এই টিকা ৩৫ লাখ মানুষকে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দাবি করেছেন, এ পর্যন্ত যত টিকা তৈরি হয়েছে, তার মধ্যে অক্সফোর্ড-এ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ‘সবচেয়ে ভাল’। বাংলাদেশেই এ টিকাই দেয়া হচ্ছে। কোভ্যাক্স থেকে আরও টিকা চলে আসবে।

টেলিভিশন-বেতার, পত্রিকাসহ সকল গণমাধ্যমে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, করোনা থেকে দূরে থাকতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে, মাস্ক পরতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে চলতে হবে। দেশ-বিদেশের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, করোনা মহামারি মোকাবিলায় স্থায়ী সমাধান এনে দিতে পারে টিকা। প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশে ব্যাপকভাবে টিকাদান শুরু হয়েছে।

লেখক : উপসম্পাদক, আমাদের অর্থনীতি, সিনিয়র সাংবাদিক ও কথাসাহিত্যিক