অবশেষে মেয়র প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিলেন সর্দার আলমগীর হোসেন

80

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে দলীয় স্বার্থে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সর্দার আলমগীর হোসেন পৌর মেয়র প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন । এবার লড়াই হবে নৌকা-ধানের শীষের মধ্যে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নড়াইল পৌরসভার বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সর্দার আলমগীর হোসেন সংবাদ সম্মেলন করে তাঁর মেয়র প্রার্থীতা প্রত্যাহারের এ ঘোষণা দেন।

মঙ্গলবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ ঘোষণা দেন তিনি।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাবেক কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম, এমপি মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার কাছের মানুষ সৌমেন বসুসহ অন্যান্য দলীয় নেতাকর্মীগণ।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে পাঠ করে শোনান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী (স্বতন্ত্র) সর্দার আলমগীর হোসেন।

এ সময় তিনি তাঁর লিখিত বলেন, ‘আমি সর্দার আলমগীর হোসেন (আলম), নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনের একজন মেয়র পদপ্রার্থী। আপনারা সকলে অবগত আছেন যে, আগামী ৩০ শে জানুয়ারি ২০২১ নড়াইল পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। উক্ত নির্বাচনে পৌরবাসীর সমর্থন নিয়ে আমি মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য কাজ শুরু করেছিলাম।

আপনারা অবগত আছেন যে, দীর্ঘদিন যাবৎ আমি নড়াইলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের রাজনীতি করছি। বাল্যকাল থেকেই সুখে দু:খে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। ছাত্রাবস্থায় ছাত্রলীগেরর রাজনীতির মাধ্যমে রাজনৈতিক পথচলা শুরু করেছিলাম। হাটিহাটি পা পা করে ছাত্ররাজনীতি শেষে এখন যুবলীগ করছি। আপনাদের সকলের দোয়া ও ভালোবাসায় বর্তমানে নড়াইল সদর পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।

সত্যিকথা বলতে, একজন রাজনৈতিক কর্মীরা সারা জীবনের বড় স্বপ্ন হলো জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়ে নিজ এলাকা ও এলাকার মানুষের জন্য কাজ করা। আমারও তেমনি স্বপ্ন ছিল। আর বর্তমানে আমাদের নড়াইলের কৃতি সন্তান, সারা বাংলাদেশের অহংকার আমাদের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে আমাদের নড়াইল যেভাবে এগিয়ে চলেছে, সেই অগ্রযাত্রায় নিজেকে পৌরবাসীর প্রতিনিধি হিসেবে যুক্ত রাখার অভিপ্রায় থেকে আমি এবারের নির্বাচনে মেয়র পদে নির্বাচন করার স্বপ্ন দেখেছিলাম এবং সেজন্য দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলাম।

তিনি আরো বলেন, ‘কয়েকদিনের গণসংযোগ পর্যবেক্ষণ করলে আপনারা বুঝে থাকবেন যে, পৌরবাসী আমাকে কতোটা সমর্থন দিয়েছিলেন। কিভাবে তারা আমার পাশে দাঁড়িয়েছেন। আমি তাদের এই ভালোবাসা ও সমর্থনে তাদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ থাকবো। এই ভালোবাসা একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনে সবচেয়ে বড় অর্জন। আমার জন্য এটি মহান আল্লাহর রহমতস্বরুপ।

সর্দার আলমগীর হোসেন সংবাদ সম্মেলনে আরো জানান, ‘আমি বঙ্গবন্ধু আদর্শের সৈনিক ও জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে আমাদের সবার উচিত দলীয় সিন্ধান্ত মেনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করা। কারণ আমরা জানি ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়।’ আমি ব্যক্তি আলমগীর হোসেন আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট, আমার পরিচয় আমি জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী। আমৃত্যু যেন মহান আল্লাহ আমাকে এইভাবেই থাকার তাওফিক দান করেন এই দোয়া করি সবসময়। আর নড়াইল মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার জেলা। এই জেলায় তাঁরই সংসদীয় আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী থাকা তাঁর জন্য দলীয় অবস্থান বিবেচনায় অসম্মানজনক।

আর আমি লক্ষ্য করেছি যে, আওয়ামী লীগের দুজন কর্মী যদি একই সাথে আমরা একটি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করি, তাহলে দলের মধ্যে অবশ্যই একটি বিভক্ত সৃষ্টি হতে পারে। আগামীতে এই বিভক্তি দূর করা খুবই দুরুহ কাজ হবে। আমাদের কোন ইচ্ছা বা সিদ্ধান্তের কারণে নড়াইলে আমাদের দলের মধ্যে এমন অনাকাঙ্কিত পরিবেশ সৃষ্টিহোক তা আমি বা আমরা কখনোই চাই না।

এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘জননেত্রী শেখ হাসিনার কর্মী হিসেবে আমি সরদার আলমগীর হোসেন (আলম) কারো কোন প্রকার চাপে পড়ে নয় সজ্ঞানে, স্ব-প্রণোদিত হয়ে আসন্ন নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদ থেকে আমার মনোনয়ন প্রত্যাহার করছি।

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সাধারণ নাগরিক, দলীয় সমর্থক সহ সকল স্তরের পৌর নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ‘নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে আসুন আমরা সকলে মিলে জননেত্রী শেখ হাসিনা মনোনীত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার মেয়র পদপ্রার্থী জন্য কাজ করি। আমাদের প্রিয় নেত্রীকে নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিজয় উপহার দেই। আর সকলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার নেতৃত্বে নড়াইলকে প্রজম্মের শ্রেষ্ঠ বাসস্থান গড়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করে যাই। এছাড়া এ কয়দিনে আমার কোন কথা বা কাজে আমি কাউকে কষ্ট দিয়ে থাকবে বা আমার কোন ভুল হলে আমি সকলের কাছে ক্ষমাপ্রার্থী। আমি যেন আজীবন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হিসেবে আপনাদের সাথে থাকতে পারি, নড়াইলের মানুষের জন্য কাজ করতে পারি সেই দোয়া আপনাদের কাছে কামনা করি। মহান আল্লাহ তায়ালা আমাদের মঙ্গল করুক আমিন।

উল্লেখ্য, গত ২৩ জানুয়ারি নড়াইলকণ্ঠ অনলাইন নিউজ পোর্টালে ও ইউটিউব নিউজ চ্যানেলে ‘নড়াইল পৌরসভায় নৌকার পালে নতুন হাওয়া, থাকছে না বিদ্রোহী প্রার্থী! এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ প্রকাশিত সংবাদকে কেন্দ্র করে শহরে নানা তর্ক-বিতর্কের সৃষ্টি হয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছিল ২৫ জানুয়ারির মধ্যে আসন্ন নড়াইল পৌরসভার নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী সরদার আলমগীর হোসেন তাঁর মেয়র পদ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যহার করে নিতে পারেন। আমরা দু:খ প্রকাশ করছি ঔনিউজে প্রার্থীর বক্তব্য না থাকায় নিউজ ইথিক্সের ঘাটতি ছিলো সত্য। কিন্তু ‘সত্যের কল বাতাসেই নড়ে’। ঠিক সেই ২৫ জানুয়ারি বেলা সাড়ে ১১টায় স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সরদার আলমগীর হোসেন সেই সত্যতার প্রমান নিয়ে সাংবাদিক সম্মেলনের মধ্যদিয়ে সেই বিতর্কের অবসান ঘটিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন সম্পূন্ন তাঁর নিজের ও দলীয় স্বার্থে নড়াইল সদর পৌরসভা নির্বাচনে তাঁর মেয়র প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। তাঁর এই ঘোষনার মধ্যদিয়ে নড়াইল পৌরসভায় নৌকা প্রতিকের প্রার্থীর বিজয় এখন মাত্র সময়ের দাবী। তিনি তাঁর প্রতিকের পক্ষে নয় এখন তিনি নৌকা প্রতিকের পক্ষেই মাঠে থাকছেন। নৌকা প্রার্থীর বিজয় এখন শতভাগই শঙ্কামুক্ত।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত বিদ্রোহী প্রার্থী ও নড়াইল পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সরদার আলমগীর হোসেন নড়াইল সদর পৌরসভা নির্বাচনে জগ প্রতীকের মেয়র প্রার্থী। তিনি পৌরসভার ভওয়াখালী এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা এসএসসি পাশ। তিনি একজন ব্যবসায়ী। তিনি নড়াইল বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি।
মনোনয়ন দাখিলের সময় তাঁর হলফনামায় তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত কোন ফৌজদারী মামলা দেখা যায়নি।

এদিকে এখানে হলফনামায় নির্ভরশীলদের আয়ের উৎস হিসেবে তাঁর বার্ষিক আয় হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে ৩ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ হিসেবে দেখানো হয়েছে নিজ নামে নগদ ৩ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা, আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজ নামে ৪ লক্ষ টাকা এবং স্ত্রীর নামে স্বর্ণ অলংকারাদি ১৫ তোলা।

এছাড়া অস্থাবর সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করা হয়, নিজ নামে ৫০ শতক কৃষি জমি, নিজ নামে পৈত্রিক বাড়ি যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ৮ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।