দুদক হাইকোর্টে ১০০ জনের বিরুদ্ধে প্রায় ২৫শ কোটি টাকা পাচারের তথ্য জমা দিয়েছে

13

ডেস্ক রিপোর্ট: বৃহস্পতিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে বিদেশে অর্থ পাচারকারীদের নাম-পরিচয়সহ যাবতীয় তথ্য চেয়ে উচ্চ আদালতের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন ধরনের তথ্য উপাত্ত প্রতিবেদন আকারে হাইকোর্টে জমা দিচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও রাষ্ট্রপক্ষ। বেলা ১২টায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের দেয়া তালিকার ওপর শুনানি হতে পারে।

গত ২২ নভেম্বর বিচারপতি মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে এক আদেশে দেশ থেকে অর্থ পাচারকারীদের তালিকা চান। কানাডায় কথিত বেগমপাড়ায় কারা টাকায় পাঠিয়েছে তাদের তথ্য জানতে চায় হাইকোর্ট। এ বিষয়ে গেল ১৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বিশেষ বৈঠকে বসে বাংলাদেশ ব্যাংক, বিএফআইইউ, এনবিআর, দুদক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় এবং ঢাকা জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা।

ওইদিন বৈঠকে অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিনউদ্দিন জানান, অর্থপাচারের ঘটনায় তদন্তের দায়িত্বে থাকা সব সংস্থা তাদের প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। কানাডার প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনায় বেগমপাড়া। এটি মূলত দেশের ধনী ব্যবসায়ী, উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের স্ত্রী-সন্তান যারা বিনিয়োগ ভিসায় কানাডায় অভিবাসী হয়েছেন তাদের এলাকা। স্ত্রীরা সেখানে থাকেন আর স্বামীরা দেশ থেকে অর্থের যোগান দেন। এসব এলাকায় স্বামীরা স্থায়ীভাবে থাকেন না তারা শুধু অর্থের যোগান দেন, আর মাঝে মাঝে বেড়াতে যান।

তবে, এসব এলাকায় যারা বাড়ি করেছেন তাদের বেশিরভাগই অর্থপাচার করেছেন বলে জানা গেছে। হঠাৎ করে আলোচনায় বেগমপাড়া আসার আরেকটি কারণ হলো কানাডার সরকারি সংস্থা দ্য ফিন্যান্সিয়াল ট্রানজেকশন অ্যান্ড রিপোর্ট অ্যানালাইসিস সেন্টার ফর কানাডা (ফিনট্র্যাক) গত এক বছরে তাদের দেশে এক হাজার ৫৮২টি অর্থ পাচারের ঘটনা চিহ্নিত করেছে। তবে এ তালিকায় বাংলাদেশি কেউ আছে কি-না সে বিষয়ে এখনও কানাডা সরকার কিছু জানায়নি।