নড়াইলে মহান বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে আ’লীগের বিজয় মিছিল ও সমাবেশ

19

নড়াইলকণ্ঠ ॥ আজ ১৬ ডিসেম্বর, রক্তস্নাত বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী। স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাথা উচু করার দিন। দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র সংগ্রাম করে বহু প্রাণ আর এক সাগর রক্তের বিনিময়ে এদিনে বীর বাঙালি ছিনিয়ে আনে বিজয়ের লাল সূর্য।

মহান বিজয়ের ৪৯তম বার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বিজয় মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ এলাকা হতে হাজার হাজার মানুষের বিশাল এক বিজয় মিছিল বের হয়। মিছিলটি জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ।

বিজয় মিছিল শেষে ‘বঙ্গবন্ধু মঞ্চ’ চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এ্যাডভোকেট সুবাস চন্দ্র বোসের সভাপতিত্বে স্বাধীনতা সংগ্রামের বীর শহীদদের স্মরণে এবং করোনা যোদ্ধাসহ নড়াইল জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিক আহমেদ ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেয়র জাহাঙ্গীর বিশ্বাসের মৃত্যুতে আত্মার মাগফেরাত কামনায় ১মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সুবাস চন্দ্র বোস আসন্ন নড়াইল পৌরসভা নির্বাচনে দলীয় মনোনায়ন প্রত্যাশি মেয়র পদ প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন আওয়ামীগ নেতা হাফিজ খান মিলন।

এ সময় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী লীগের জাতীয় কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জিন্নাহ, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান নিজাম উদ্দিন খান নিলু।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশের মুক্তিকামী মানুষের ওপর অত্যাচার-নির্যাতনের পর এদিন আত্মসমর্পণ করে মুক্তিকামী মানুষের কাছে। আর পাকিস্তানি বাহিনীর এই আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে সমাপ্তি ঘটে দীর্ঘ দুই যুগের পাকিস্তানি শোষণ আর বঞ্চনার। নির্যাতন, নিষ্পেষণের কবল থেকে মুক্ত হয় বাঙালি জাতি।

৪৯ বছরের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশার বিশ্লেষণ হচ্ছে সর্বত্র। বিজয়ের ৪৯ বছর পূর্তিতে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের বিদেহী আত্মা পেয়েছে শান্তি-ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের অনেকের বিচার সম্পন্ন হয়েছে। পরম শ্রদ্ধা আর ভালবাসায় আজ পুরো জাতি স্মরণ করেছে মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী লাখো শহীদদের। যাদের জীবন উৎসর্গে আমরা পেয়েছি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে প্রত্যয় ব্যক্ত হয়েছে সমৃদ্ধ আগামীর বাংলাদেশ গড়ার। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সীমিতভাবে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে দিবসটি পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে সারা দেশের সকল সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা ওড়ানো হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পালিত হয় নানা কর্মসূচি।

১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে স্বাধীনতার যে সূর্য অস্তমিত হয়েছিল সেটির উদয় ঘটে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর।