সিঙ্গাপুরে কোয়ারেন্টাইন ছাড়া বাণিজ্যিক ভ্রমণ

14

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী জানুয়ারি মাসে পর্যটন ও সেবাখাত সিঙ্গাপুরের অর্থনীতিতে প্রধান ভূমিকা রাখায় দেশটি ভ্রমণে কোয়ারেন্টাইনের বাধ্যবাধকতা প্রত্যাহার করে নেয়া হচ্ছে। তবে স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে পালন ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেখে বাণিজ্যিক ভ্রমণকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। দেশটির ক্ষুদ্র ব্যবসা ও মুক্তবাজার অর্থনীতি বেশিরভাগ নির্ভর করে পর্যটকের ওপর। তাই বিনিয়োগকারী বা উদ্যোক্তাদের দেশটি ভ্রমণের জন্যে বিশেষ ছাড় দেয়া হবে। শিথিল করা হবে তাদের জন্যে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইন থাকাও। স্বল্প মেয়াদে এধরনের ভ্রমণকারীরা দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন।

সিঙ্গাপুরের বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী চ্যান চুন সিং মঙ্গলবার বলেন নিয়ন্ত্রিত হলেও সীমান্ত খুলে দেয়া হচ্ছে। গত ২৮ ডিসেম্বর কোভিড ভাইরাস মোকাবেলায় চার স্তরের নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ নেয়ার পর তার চূড়ান্ত ধাপ শেষ হয়েছে। কোভিড সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সিঙ্গাপুর ভ্রমণকারীদের জন্যে ‘গ্রিন লেন’ ও বিশেষ ভ্রমণের ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মত যেসব দেশে কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসে গেছে, এসব দেশের মানুষ সিঙ্গাপুরে ভ্রমণে যাওয়ার এই বিশেষ সুবিধা পাবে। তবে ভ্রমণকারীর উদ্দেশ্য বাণিজ্য ও বিনিয়োগ হলে তারা অগ্রাধিকার পাবেন। ‘বাবল’ সুবিধা হিসেবে সিঙ্গাপুরের ব্যবসা বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা, সম্মেলন, সেমিনার, প্রদর্শনী স্থলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিক ফোরামের প্রাক আলোচনা সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

যে কোনো দেশের নাগরিক সিঙ্গাপুর ভ্রমণের জন্যে আবেদন করতে পারবেন কিন্তু তাদের জন্যে নির্দিষ্ট বিধি অনুসরণ করতে হবে। স্বাস্থ্য পরীক্ষা প্রটোকলগুলো মেনে চলতে হবে। ১৪ দিনের জন্যে সিঙ্গাপুর অবস্থার করা গেলেও তাদের তৃতীয়, পঞ্চম, সপ্তম ও একাদশ দিনে বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। তারা সিঙ্গাপুরের নাগরিকদের সঙ্গেও বৈঠকে অংশ নিতে পারবেন। তবে এধরনের বৈঠকে কক্ষের মেঝে থেকে সিলিং পর্যন্ত কাঁচের দেয়াল দিয়ে বিভক্ত করে রাখা হবে যাতে মেলামেশার মাধ্যমে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে না পারে।

সিঙ্গাপুরের এক বিনিয়োগ কর্মকর্তা এ্যালান থমসন এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকল্প ভাল উৎস খুঁজে নিতেই এধরনের ব্যবস্থা নিতে হয়েছে যাতে কোভিড পরিস্থিতি মোকাবেলা করেই তা করা সম্ভব হয়। বিমান ভ্রমণ ও আতিথেয়তার মাধ্যমে পর্যটন ব্যবস্থা কয়েক ধাপে স্বাভাবিক করতে চাইছি। যারা ব্যবসা-বাণিজ্যের সন্ধানে সিঙ্গাপুর আসবেন তারা ৬৭০টি গেস্টরুমে থাকার ও ১৭০টি মিটিংরুমের প্রতিটিতে ২২ জনের বেশি অংশ নিতে পারবেন না। আগামী বছরের মাঝামাঝি আমরা এ সুযোগ বৃদ্ধি করে ১৩’শ গেস্টরুম ও ৩৪০টি মিটিংরুম চালু করব। এসব বৈঠকে বিনিয়োগ কর্মকর্তা, বহুজাতিক কোম্পানির কর্মকর্তা ছাড়াও মেডিকেল কনসালটেন্টরা থাকবেন। ব্যাংকিং লেনদেনের ব্যবস্থাও থাকবে। থাকবে ব্যবসায়ীক আইনগত সুবিধাগুলোর জেনে নেয়ার উপায়। পরামর্শকদের সঙ্গে আলোচনার সুবিধাও। তবে খাবারের ব্যবস্থা থাকবে পৃথক এবং প্রয়োজনে বাড়তি খাবার সংগ্রহ করতে পারবেন অতিথিরা। ভেন্ডিং মেশিন থেকে পানীয় সংগ্রহ করা যাবে।