নড়াইলে সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গার প্রতিবাদে সমাবেশ

172

নড়াইলকণ্ঠ ॥ ‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ এই শ্লোগানকে ধারণ করে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গা ও অবমাননার প্রতিবাদে নড়াইলে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় পুরাতন বাসটার্মিনালস্থ বঙ্গবন্ধু মঞ্চে জেলা সরকারি কর্মকর্তা ফোরামের আয়োজনে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মো. মশিরয়ার রহমান, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন পিপিএম (বার), চীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী আল মাসুদ, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. মাহাবুবুর রহমান, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের প্রফেসর আব্দুর রহিম, লোহাগড়া সরকারি আর্দশ মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো: শওকত আহমেদ, নড়াইল আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আ.ফ.ম মশিউর রহমান বাবু, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক দীপক কুমার প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, জাতির পিতা সকলের উর্ধ্বে, এই বাংলার অস্তিত্ব, শেকড়। তাঁর নামের সাথে বাংলাদেশ ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাঙালির কোন অঙ্গন আছে যেখানে জাতির পিতার নাম আসে না। প্রতিটি আন্দোলনে স্বাধীনতা থেকে শুরু করে আমাদের আন্দোলন সংগ্রামের রসদ ছিলেন জাতির পিতা। শুধু তাই নয় তাঁর সাড়ে তিন বছরের সরকার আমলে আমাদের যা দিয়ে গিয়েছেন সেই সিঁড়ি ধরেই আজকের বাংলাদেশ। আমাদের সৌভাগ্য তাঁর উত্তরসুরীরা আছেন আমাদের মাঝে। ঘাতকেরা সেদিন জাতির পিতার পরিবারকে সমূলে ধ্বংস করতে চেয়েছিল। কিন্তু সৌভাগ্যবশত তাঁর উত্তরসুরীরা বেঁচে ছিলেন বলেই তাঁদের হাত ধরে আজ বাংলাদেশ উন্নয়নের এ পর্যায়ে পৌঁছাতে পেরেছে।

জেলা ও দায়রা জজ মুন্সি মো. মশিরয়ার রহমান বলেন, ‘আজকের ছুটির দিনে ঘর ফেলে এসে এখানে প্রতিবাদ জানানোর কথা নয়। কিন্তু একটি গোষ্টি আমাদের কলিজায় হাত দিয়েছে, জাতির পিতার ভাস্কর্য ভাঙ্গার ঔদ্ধত্য দেখিয়েছে। আমি বাংলাদেশ জুডিশিয়াল পক্ষ থেকে এবং বিচার বিভাগ নড়াইলের পক্ষ থেকে এহন ঘুণ্য কর্মকান্ডের ঘৃণা জানাচ্ছি, প্রতিবাদ জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যেন এরকম কর্মকান্ড না ঘটে যারা আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছেন তাদের সজাগ দৃষ্টি রাখার আহবান জানাচ্ছি। ভবিষ্যতে যদি এরকম ঘটনা আবার ঘটে সরকারি কর্মকর্তাও ঘরে বসে থাকবে না বলে আমার দৃঢ বিশ্বাস। আমি সরকারের প্রতি আহবান জানাবো দুইজন মাদ্রসার ছাত্র কিংবা দুইজন শিক্ষক নয় এর পিছনে যদি সুগভীর ষড়যন্ত্র থাকে দেশি-বিদেশী যাই হোক না কেন তাদের খুজে বের করে বিচারের আওতায় আনা হোক এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হকো।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন তার বক্তেব্যে বলেন, ‘এটাকে পুঁজি করে যদি কোন দুষ্কৃতি মহল জনগণের সম্পদ কিংবা জীবনের হুমকি তৈরি করে, সমাজে অস্থিতিশীলতা তৈরি করে, দেশে বিরাজমান আইন আছে, দেশে সংবিধান আছে, দেশে বিধিবদ্ধ রুলস লেগুলেশন আছে এর ভিত্তিতে তাকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনা হবে। পরিস্কার কথা আজকে কুষ্টিয়াতে যে ঘটনা হয়েছে সেটা কিন্তু দ্রুতম সময়ে সেটা তদন্ত করে রিপোর্ট এসেছে তা নিয়েও নানা কথাবার্তা আসছে।

এ সময় সরকারের নিকট দাবী অন্যান্য বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যকে পুজি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারিদের আইন আমলে এনে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙ্গায় সংবিধানের চার মূলনীতি ভঙ্গ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।

সমাবেশটি পরিচালনায় ছিলেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব নড়াইল পৌরসভার কাউন্সিলর শরফুল আলম লিটু।