রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আসক’র আলোচনা

14

‘নারীর অগ্রযাত্রায় বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অনুসরণীয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনাদর্শ ও কর্ম সেই সময়ে নারী শিক্ষা বিস্তার এবং অবরোধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল। রোকেয়ার দেখানো পথ ধরেই এগিয়ে চলেছে বাংলার নারী মুক্তি আন্দোলন।’

বুধকার (০৯ ডিসেম্বর) রোকেয়া দিবস ২০২০ উপলক্ষে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) এ অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন আসক এর কর্মসূচী প্রধান নিনা গোস্বামী।

নিনা গোস্বামী বলেন, ‘নারীর অগ্রযাত্রায় বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃত রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন আজও সমভাবে প্রাসঙ্গিক এবং অনুসরণীয়। রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের জীবনাদর্শ ও কর্ম সেই সময়ে নারী শিক্ষা বিস্তার এবং অবরোধ ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছিল। রোকেয়ার দেখানো পথ ধরেই পরবর্তীতে এগিয়ে চলেছে বাংলার নারী মুক্তি আন্দোলন। নারীর সম অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ভূমিকা ছিল অনন্য। তাঁর দৃঢ়চেতা উদার দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতেই তিনি নারী শিক্ষার বিস্তার ঘটিয়ে নারী-পুরুষের সমতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিলেন। ধর্মীয় কুসংস্কার ভিত্তিক অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে লেখালেখি করেছিলেন। তিনি সেই সময়ে কর্মমুখী শিক্ষার মাধ্যমে নারীর অর্থনৈতিক মুক্তির পথকে প্রসারিত করেছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, সুলতানার স্বপ্ন নামক গল্পে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন যে কল্পরাজ্য আমাদের দেখিয়েছেন তাতে তাঁর দৃষ্টির গভীরতা ফুটে ওঠে। আক্ষরিক অর্থেই আমরা অনেক সময় দেখতে পাই ভুক্তভোগীকে দোষারোপ ও গৃহবন্দী করা হয়। যেখানে অপরাধীরা থেকে যায় ধরা ছোঁয়ার বাইরে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি নারীকে আরও বেশি সংকটময় পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও রোকেয়া সমভাবে প্রাসঙ্গিক।

সি. সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির বলেন, নানা আয়োজনে দেশব্যাপী রোকেয়া দিবস প্রতি বছর উদযাপিত হয়ে আসছে। রংপুরে একটি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে তাঁর নামে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠ্যক্রমেও কিছু পড়াশোনা হয় রোকেয়াকে নিয়ে। তবে রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের নামে প্রতিটি উপজেলায় যদি অন্তত একটি করে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা যায় কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে তাঁর নামে একটি করে কর্ণার উন্মুক্ত করা যায় তাহলে কোমলমতি শিশুরা তাদের শৈশব থেকেই বাংলার নারী আন্দোলনের পথিকৃৎ রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বাংলার নারী জাগরণের পথিকৃত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। ১৮৮০ সালের এই দিনে রংপুরের পায়রাবন্দে জমিদার পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন রোকেয়া খাতুন। পরবর্তীতে নারীর অধিকার বিশেষত মুসলিম নারী শিক্ষা, অবরোধ প্রথা তথা নারী মুক্তির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। যিনি রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন, মিসেস আর এস হোসেন নামেও লিখতেন এবং পরিচিত ছিলেন। নারীকে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করতে এই মহীয়সী নারী তার লেখনীর পাশাপাশি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাসহ নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেন।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আসক এর কর্মসূচী প্রধান নিনা গোস্বামী। কর্মসূচী সংগঠক শিল্পী শর্মা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, সি. উপ পরিচালক ফাতেমা মাহমুদা, সি. সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার পাল, সমন্বয়কারী রোকনুজ্জামান এবং সহ সমন্বয়কারী অনির্বান সাহা।

তথ্য সূত্র: ফেসবুক থেকে সংগৃহিত