ঝুলন্ত তারের সিদ্ধান্ত ঝুলেই থাকছে

30

ডেস্ক রিপোর্ট: রাজধানী জুড়ে ঝুলে থাকা তার মাটির নিচ দিয়ে নেয়ার কর্মতৎপরতা হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে গেছে। কিছু এলাকায় ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল আর নেই। তবে কিছু এলাকায় এখনও ঝুলে আছে কুণ্ডলি পাকানো তার। তবে কিছু এলাকায় খোঁড়াখুঁড়ি করা হয়েছে ঝুলন্ত তার মাটির নিচে দিয়ে টানানোর জন্য। তবে সেসব কাজও এখন বন্ধ। তবে ঝুলে থাকা তার কবে মাটির ভেতরে যাবে, কীভাবে যাবে তা নিয়ে কোনো কূলকিনারা করতে পারছেন না কোনো পক্ষই।

এর আগে গেল অক্টোবরে হঠাৎ করেই ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের ঝুলন্ত তার কাটার অভিযান শুরু করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এতে সংকটে পড়েন ইন্টারনেট ও ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী এবং গ্রাহকরা। বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই হঠাৎ এমন অভিযানে বিব্রত হয় সরকারের ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ও। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের হুমকি দিলে কিছুটা নমনীয় হয় সিটি করপোরেশন। মেয়র ফজলে নূর তাপসের সঙ্গে বৈঠকের পর ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত ১ মাসের সময় পান ব্যবসায়ীরা।

তবে তার অপসারণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বেঁধে দেয়া সময়সীমা নভেম্বরে শেষ হলেও কাজ শেষ হয়নি। সেই সঙ্গে মাটির নিচ দিয়ে তার নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়াটিও হঠাৎ থমকে গেছে। এমনকি পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা ধানমন্ডির একাংশের তারও এখন পর্যন্ত মাটির নিচে যায়নি। যদিও ব্যবসায়ীদের আরো এক মাস সময় বাড়িয়ে দিয়েছে সিটি করপোরেশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ২ বছরের মধ্যেও সব এলাকার তার সরিয়ে মাটির নিচে নেয়া সম্ভব হবে কিনা- তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। ইন্টারনেট ব্যবসায়ীরা আরো বলছেন, মাটির নিচ দিয়ে তার নিতে সিটি করপোরেশন শুধু সড়ক কাটার অনুমতি দিচ্ছে। তবে এর বাইরেও যে অনেক বিষয় থাকছে সেটা আমলে নেয়া হচ্ছে না।

সূত্র মতে, দেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থার (বিটিআরসি) লাইসেন্সধারী প্রায় এক হাজার ৬০০ ইন্টারনেট সেবাদাতা (আইএসপি), তিনটি সরকারি ও তিনটি ন্যাশনওয়াইড টেলিকমিউনিকেশন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক (এনটিটিএন) প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানীর একেকটি থানা এলাকায় ৩/৪শ প্রতিষ্ঠান সেবা দিয়ে থাকে। তাদের প্রত্যেকেরই রয়েছে আলাদা আলাদা তার।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, সবাই যদি একসঙ্গে মাটির নিচ দিয়ে তার নেয়, তবে বিশাল গর্ত খুঁড়তে হবে। আবার কারো একটি ক্যাবল নষ্ট হলে রাস্তা খুঁড়তে হবে। ফলে বছর জুড়েই খোঁড়াখুঁড়ি চলবে, নইলে সেবা বন্ধ থাকবে। ব্যবসায়ীরা চাচ্ছেন সড়কের নিচ দিয়ে ‘কমন নেটওয়ার্ক শেয়ারিং’ করতে। যেখানে একটি মোটা তারের ভেতর অনেকগুলো তার বা ‘কোর’ থাকবে। কমন অফিস ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিষয়গুলো সমন্বয় করা হবে। শুধু যার যার গ্রাহকের পোর্ট আলাদা থাকবে।

কয়েকজন ব্যবসায়ী এক্ষেত্রে সমস্যা উল্লেখ করে বলেন, বিটিআরসির শর্ত অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা কেউ কারো নেটওয়ার্ক ভাগাভাগি বা শেয়ার করতে পারেন না। এছাড়া মাটির নিচ দিয়ে তার টানার অনুমতি কেবল এনটিটিএন কোম্পানিগুলোকেই দেয়া হয়েছে। তাছাড়া এক সঙ্গে এত বড় বিনিয়োগ সমন্বয় করাও দুয়েক মাসের কাজ নয়।

এমন পরিস্থিতিতে মাটির নিচ দিয়ে তার নিতে কোনো ধরনের রাস্তা কাটার চার্জ না ধরা ও সহজ অনুমতির সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেন দক্ষিণের মেয়র। এরপরই ধানমন্ডি লেকের পাড় ধরে ২৭ নম্বর সড়ক পর্যন্ত পরীক্ষামূলক তার টানার কাজ শুরু করে ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি ও ক্যাবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াব। তবে এখনো সে কাজ এখনও শেষ হয়নি।

আইএসপিএবির সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দক্ষিণ সিটির অধীনের এলাকাগুলোতে কাজ শেষ করতে অন্তত দুই বছর সময় লাগবে। এরপরও অলিগলি বাদ থাকবে। কমন একটা সিস্টেম দাঁড় করাতেও অনেক সময় ও বিনিয়োগের ব্যাপার রয়েছে। তবে আইএসপিএবির সভাপতি এম এ হাকিম জানান, আগামী ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত বেঁধে দেয়া সময়ে তারা কাজটি শেষ করতে পারবেন বলে আশাবাদী। এ জন্য কমন নেটওয়ার্ক শেয়ারিংয়ের কথা ভাবছেন তারা।

এদিকে, ধানমন্ডিতে পরীক্ষামূলক কাজটি করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত প্রায় আড়াই কোটি টাকা খরচ হয়েছে। সেবাদাতাদের শ্রম, পরিকল্পনা, লজিস্টিক ও রাস্তা কাটার চার্জ ধরলে সে খরচ আরো বেশি। প্রাথমিকভাবে আইএসপিএবির সদস্য প্রতিষ্ঠানগুলো চাঁদা দিয়ে এ খরচ জুগিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ সিটিতে কাজটি করতে গেলে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকা দরকার হতে পারে। এত টাকার সংস্থান নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে তাদের।

কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকার কারণে এমনটা হয়েছে উল্লেখ করে ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, তারগুলো একদিনে জড়ো হয়নি। বছরের পর বছর জমা হয়েছে। এত বড় শহরে মাটির নিচ দিয়ে তার টেনে নিতে যে বিনিয়োগ প্রয়োজন, সে সক্ষমতা, সময় ও রিটার্ন পেতে কি করতে হবে সেগুলোও বিবেচনায় আনতে হবে। এ অবস্থায় ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করে এবং সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে তার অপসারণ করতে হবে।