অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বাংলাদেশ উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে

18

ডেস্ক রিপোর্ট: ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জারের বলা ‘তলাবিহীন ঝুঁড়ি’ মন্তব্য ছাড়াও অনেক অর্থনৈতিক বিশ্লেষকই আশঙ্কা করেছিলেন চরম দারিদ্র ও বিপুল পরিমাণ জনসংখ্যার মৌলিক চাহিদার কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের অনুদানের ওপর নির্ভরশীল একটি দেশ হয়ে থাকবে। কিন্তু অর্থনীতিবিদদের বিশ্লেষণ, ১৯৭৫, ১৯৮২ এবং ২০০৭ সালের সামরিক অভ্যুত্থান ও পরপর কয়েকটি প্রাকৃতিক দুর্যোগের ভয়াবহতা কাটিয়ে উঠে দারিদ্র্যতা হ্রাস ও স্থিতিশীল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে বাংলাদেশ।

গত মাসে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল জানায়, ২০২০ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি প্রবৃদ্ধি ভারতকে ছাড়িয়ে যাবে। প্রশ্ন হলো, গত ৫ বছরে ভারতের অর্থনীতি যখন পিছু হটছে তখন কিভাবে অর্থনৈতিক চমক দেখিয়েছে ঢাকা? উত্তরটা জটিল।

বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি ভাগ এসেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের আয় থেকে। প্রায় ১ কোটির বেশি বাংলাদেশী বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠান। তারা বেকারত্ব হ্রাসে একটি মূল ভূমিকা পালন করছেন। দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অবদান রাখছেন বাংলাদেশের পোশাক খাতের ৪০ লাখ কর্মী, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই নারী। বাংলাদেশের ৮০ভাগ রপ্তানি আয় আসে এই খাত থেকে। এই দুইটি প্রধান খাত ছাড়াও সামাজিক খাতগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা উদ্যোগ অপুষ্টি, মাতৃমৃত্যু ও শিশুমৃত্যু রোধে কাজ করছে যা অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি।

তবে স্মার্ট অর্থনৈতিক পরিকল্পনা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উদ্বেগের। স্বৈরাচারবাদের দিকে ক্রমবর্ধমান যাত্রা ও ক্ষমতাসীন দলের অবাধ রাজনৈতিক ক্ষমতা দুর্নীতি ও স্বজনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে, যা দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। সরকার কোনো বৈধ আইনী চ্যালেঞ্জে সহনশীলতা দেখাচ্ছে না। সমালোচক ও ভিন্নমতাবলম্বীদের হয়রানি, নির্যাতন ও দমন করতে ২০১৮ সালে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন পাশ করা হয়েছে। ইন্টারনেটে সরকারের সমালোচনা দমন করতে ১০ বছরের বেশি কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। গণমাধ্যমগুলোকে সরকারে পছন্দ রক্ষা করে চলতে বাধ্য করা হচ্ছে।

একক পোশাক খাতের ওপর নির্ভর করে বেশিদিন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার ধারবাহিকতা রক্ষা করা কঠিন। আমদানি করা দেশের অর্থনৈতিক মন্দা বাংলাদেশকেও চরমভাবে ভোগাতে পারে। করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকরাও যে কোনো মুহুর্তে দেশে ফেরার নোটিশ পেতে পারে। মূল কথা হলো, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের প্রধান অংশটিই আসছে দেশের দরিদ্রতম জনগোষ্ঠি থেকে।