এশিয়ান লিটারেচার অ্যাওয়ার্ড পেলেন শাহীন আখতার

38

ডেস্ক রিপোর্ট : কথাসাহিত্যিক শাহীন আখতার তার ‘তালাশ’ উপন্যাসের জন্য ‘এশিয়ান লিটারেচার অ্যাওয়ার্ড’ পেয়েছেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু শহরে ২৯ অক্টোবর থেকে ১ নভেম্বরে অনুষ্ঠিত ‘এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভ্যাল’-এর শেষ দিন এ পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস( কোভিড-১৯) এর কারণে সাহিত্য উৎসবটি এ বছর অফলাইন ও অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়। এতে এশিয়ার ২৯ জন লেখক অংশ নেন, যার মধ্যে ম্যান বুকার পুরস্কারপ্রাপ্ত সাহিত্যিক হান কাংসহ কোরিয়ার ১৯ জন লেখক অংশ নেয়।

এ নিয়ে তৃতীয়বার অনুষ্ঠিত এশিয়া লিটারেচার ফেস্টিভ্যালের অন্যতম আয়োজন ছিল ‘এশিয়া লিটারেরি অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান। পুরস্কারটি প্রদান করা হয় এশিয়ান লেখকদের, যারা দেশীয় ভাষায় লিখে থাকেন। ২০১৭ সালে চালু হওয়া পুরস্কারটি প্রথম পেয়েছিলেন মঙ্গোলিয়ার কবি মি. ইউরিয়ানখাই ডামডিনসুরেন, দ্বিতীয়বারের অর্জনকারী ভিয়েতনামের লেখক মি. বাউ নিন। এবার পেয়েছেন বাংলাদেশের লেখিকা শাহীন আখতার। এশিয়া লিটারেরি অ্যাওয়ার্ডের অর্থমূল্য ১৭ হাজার ৫০০ ইউএস ডলার।

তালাশের বিষয়বস্তু :
শাহীন আখতারের ‘তালাশ’ উপন্যাসের বিষয়বস্তু বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ আর যুদ্ধাক্রান্ত মানুষ। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় লাখ লাখ বাঙালি নারীদের ওপর মিলিটারি ক্যাম্পগুলোয় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সদস্যরা যে পৈশাচিক দৈহিক ও মানসিক অত্যাচার চালিয়েছে, তারই লোমহর্ষক বর্ণনা যেন শব্দের মাধ্যমে চিত্রিত করেছেন লেখিকা। তালাশের মরিয়ম, টুকি বেগম, মুক্তি, অনুরাধা চরিত্রগুলো যেন জীবন্ত হয়ে উঠেছে তার অসামান্য লেখনীর গুণে।

লেখকের বক্তব্য অনুযায়ী, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল মাত্র নয় বছর। বয়স অল্প হলেও সে সময়ের কিছু স্মৃতি তার মানসপটে গেথে গেছে।

বীরাঙ্গনা নারীদের নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে লেখিকার সামনে স্পষ্ট হয়ে ওঠে কিছু অমীমাংসিত বিষয়। স্বাধীনতা লাভের পর মুক্তিযোদ্ধাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানানো হলেও বীরাঙ্গনা নারীরা যুদ্ধপরবর্তী সময়েও ছিলেন সামাজিকভাবে প্রান্তিক, অবহেলিত। এ বাস্তবতা লেখিকার মনে আগ্রহ তৈরি করেছিল ‘তালাশ’ উপন্যাসটি লিখতে। হয়তো এ কারণেই ‘তালাশ’ উপন্যাসটির উপজীব্য হয়ে উঠেছে বীরাঙ্গনা নারীদের জীবনগাথা।

এ উপন্যাসের একটা বড় অংশজুড়ে যুদ্ধ পরবর্তীসময়ে বীরাঙ্গনা নারীদের অবস্থার চিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। ধর্ষিত, বেঁচে যাওয়া নারীদের ভোগান্তি অন্তহীন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় তাদের পাকিস্তানি সৈন্যবাহিনীরা নির্যাতন করেছে। কিন্তু স্বাধীনতাপ্রাপ্তির দীর্ঘ বছর পেরিয়েও বীরাঙ্গনাদের প্রতি সাধারণের দৃষ্টি পরিবর্তিত হয়নি। এজন্য কারা দায়ী? এটা এ উপন্যাসের কেন্দ্রীয় একটি প্রশ্ন। যে প্রশ্নের উত্তর তালাশের চেষ্টা করেছেন শাহীন আখতার তার উপন্যাসে।

তালাশের ভাষান্তর
‘তালাশ’ উপন্যাসটি ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয়। ২০১১ সালে ‘দ্য সার্চ’ নামে বইটির ইংরেজি অনুবাদ প্রকাশ করে দিল্লির প্রকাশনা হাউজ জুবান। ‘তালাশ’ কোরিয়ান ভাষায় অনুবাদ করেছেন অধ্যাপক সিং হি জন, বইটি কোরিয়া থেকে প্রকাশিত হয় ২০১৮ সালে।

শাহীন আখতার বাংলা সাহিত্যে অবদানস্বরূপ ২০১৫ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন। তিনি তার ‘ময়ূর সিংহাসন’ উপন্যাসের জন্য আখতারুজ্জামান ইলিয়াস কথাসাহিত্য পুরস্কার ও আইএফআইসি ব্যাংক পুরস্কার পেয়েছেন। গত বছর তিনি ‘অসুখী দিন’ উপন্যাসের জন্য পেয়েছেন জেমকন সাহিত্য পুরস্কার।

শাহীন আখতারের জন্ম ১৯৬২ সালে কুমিল্লায়। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন অর্থনীতিতে। তার গল্পগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে, ‘শ্রীমতির জীবন দর্শন’, ‘বোনের সঙ্গে অমরলোকে’, ‘আবারো প্রেম আসছে’ প্রভৃতি। উপন্যাস: ‘তালাশ’, ‘সখী রঙ্গমালা’, ‘ময়ূর সিংহাসন’ প্রভৃতি।

এছাড়া রয়েছে ‘সতী ও স্বতন্তরা’ তিন খণ্ডে বাংলা সাহিত্যে নারীকথনের নির্বাচিত সংকলন। প্রকাশিত হয়েছে তার ‘গল্পসমগ্র-১’ ও ‘গদ্যসংগ্রহ-১’।