সাতক্ষীরায় আইনজীবীর বাড়ির ফটক ভাঙচুর ও মারপিটের ঘটনায় মামলা

19

মাধব দত্ত, সাতক্ষীরা : শুক্রবার অ্যাড. আশরাফুল আলমের বাড়ির ফটক ভাঙচুর, চারজনকে পিটিয়ে জখম ও ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগে গতকাল রবিবার দ্রুত বিচার আইনসহ তিনটি মামলায় ৪৪জনকে আসামী করা হয়েছে। দ্রুত বিচার আইনে অ্যাড, আশরাফুল আলমের দায়েরকৃত মামলায় মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ হুমায়ুন কবীর আসামীদের সমন ও অ্যাড. ফকরুল আলম বাবুর দায়েরকৃত মারপিট ও চাঁদাবাজির পৃথক মামলায় আসামীদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানরা জারির নির্দেশ দিয়েছেন।

এদিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলে ও সদর উপজেলার দেবনগরে আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও পৃথক ঘটনায় ভাঙচুর ও দু’ আইনজীবীসহ ৫জনকে পিটিয়ে জখম ও জমি দখলের ঘটনায় জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরী সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ১০টায় সমিতির নিজস্ব ভবনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড. এম শাহ আলমের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন ভুক্তভোগী অ্যাড. আশরাফুল আলম, অ্যাড. রফিকুল ইসলাম, অ্যাড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, অ্যাড. মোস্তফাজামান, অ্যাড. সায়েদুজ্জামান, অ্যাড. তামিম অঅহম্মেদ সোহাগ, অ্যাড, মোজাহার হোসেন কান্টু প্রমুখ।

অ্যাড. আশরাফুল আলম শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে প্রতিপক্ষরা যেভাবে তার বাড়ির লোহার দরজা ও প্রাচীর ভেঙে ফেলে ১৫ অক্টোবর আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা জমিতে জবরদখলের চেষ্টা চালিয়ে তার আইনজীবী ভাইসহ চারজনকে পিটিয়ে জখম করেছে তার বর্ণনা দেন। শুক্রবার রাতে হামলাকারিরা ভেঙে ফেলা প্রাচীরের সকল ইট নিয়ে গেলেও শনিবারা রাতে আবার নতুন প্রাচীর বানিয়ে দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ সময় তিনি কেঁদে ফেলেন। ন্যয় বিচার পাওয়ার জন্য আইনজীবী সমিতির সকল সদস্যদের কাছে আকুল আবেদন করেন।
একইভাবে ভুক্তভোগী অ্যাড. রফিকুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিক পরিচয়দানকারি তার এলাকার আবু সাঈদ ও হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামী নজরুলসহ কয়েকজন তার কাছে পাঁচ শতক জমি বা ১০ লাখ টাকা চাঁদা চান। দিতে রাজী না হওয়ায় তাকে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়। ওই জমি দখল করতে পারে এমন আশঙ্কায় তিনি আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা করলে পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোঃ বদিউজ্জামান। এরপরও আবু সাঈদ ও নজরুলের নেতৃত্বে ওই জমি দখলের উদ্যোগ নিলে একপর্যায়ে তিনি ওইসব চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দিলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে আদালতের নির্দেশে মামলা নিলেও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান তাকে থানায় ডেকে ফাইনাল রিপোর্ট ও চাঁদাবাজদের দেওয়া মিথ্যা মামলা রেকর্ড করবেন বলে তাকে সতর্ক করেন। মিথ্যা মামলায় তিনিও তার ১০ জন আত্মীয় স্বজন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন। অথচ চাঁদাবাজির মামলার দু’ আসামী ব্যতীত ১১ জন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়িয়ে তার জমি দখল করে টিনের ঘর বানিয়ে বসবাস শুরু করেছে।

সভা শেষে থানায় অথবা আদালতে মামলা করার পর পুলিশ এক সপ্তাহের মধ্যে আসামীদের গ্রেপ্তার না করলে আইনজীবী সমিতি কঠোর কর্মসুচি দেবে বলে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। একই সাথে রফিকুল ইসলামের দায়েরকৃত মামলার আসামীদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে সাত দিন সময় দেওয়া হয়।

এদিকে ত্রাস সৃষ্টি করে বাড়ির ফটক ও প্রাচীর ভাঙচুরের ঘটনায় অ্যাড. আশরাফুল আলম বাদি হয়ে সাতক্ষীরার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে ১৮জনের নাম উল্লেখ করে দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। বিচারক হুমায়ুন কবীর আসামেিদর বিরুদ্ধে ষমন জারির নির্দেশ দিয়ে আগামি বুধবার আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ ছাড়া আশরাফুল আলমের এক আইনজীবী ভাইসহ চারজনকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় হাফিজুর, জাহাঙ্গীর ও রবিউল ইসলামসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে অ্যাড. ফকরুল আলম বাবুর দায়েরকৃত মামলাটি ও ১০ লাখ টাকার চাঁদার দাবিতে হাফিজুর, জাহাঙ্গীর ও রবিউলসহ আট জনের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত অ্যাড. ফকরুল আলম বাবুর দায়েরকৃত পৃথক মামলা দু’টিতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্য বিচারিক হাকিম মোঃ হুমায়ুন কবীর।