সাতক্ষীরায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়ির লোহার ফটক ও প্রাচীর ভাঙচুর বাধা দেওয়ায় আইনজীবী সহ ৪ জনকে পিটিয়ে জখম

3

মাধব দত্ত, সাতক্ষীরা : আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে বাড়ির লোহার ফটক ও প্রাচীর ভাঙচুর করা হয়েছে। ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় এক আইনজীবীসহ চারজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের মোজাহার প্রেট্রোল পাম্পের পাশে এ ঘটনা ঘটার পর রাতে প্রাচীরের ইট লুট করে নিয়ে গেছে প্রতিপক্ষরা।
আহতদের মধ্যে এড. এটিএম ফকরুল আলম বাবু, ভাই সাইফুল আলম ও একরামুল হককে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা ও নুরুল আলমকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলের অ্যাড. এটিএম ফকরুল আলম বাবু জানান, শহরের পলাশপোলের আব্দুল মালেক স্ত্রী ও পাঁচ সন্তানের জন্য পলাশপোল মৌজায় এস এ ২৯১৭ খতিয়ানের ১১২৬৮ দাগে ১৪ শতক সম্পত্তি রেখে মারা যান। আব্দুল মালেকের স্ত্রী নেছারন নিজের পৌনে দু’ শতক ও নাবালক ছেলে বেল্লাল এর অভিভাবক হিসেবে তারে পৌনে দু’ শতক সম্পত্তি ১৯৭৭ সালের ১৩ অক্টোবর সদর সাব রেজিষ্ট্রি অফিসের ৮৪৩৫ নং রেষ্ট্রি: কোবলামূলে ময়েন আলীর স্ত্রী সমেত্বভান বিবির কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে সমেত্বভান বিবির নিকট থেকে তার ভাই এড. আশরাফুল আলম তা কিনে শনন্তপূর্ণভাবে ভোগ দখলে ছিলেন। বেল্লালের পক্ষে ওই জমি নতুন করে দাবি করায় ১৯৯৫ সালের ২৩ জুন আদালতের রায় ও ২৫ জুন ডিক্রীর আলোকে বেল্লালের কোন স্বত্ব ওই জমিতে নেই বলে মতামত দেন জজকোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাড.তারক কুমার মিত্র, অ্যাড. গোলাম মোস্তফা ও অ্যাড. রঘুনাথ মন্ডল আইনগত মতামত দেন। এরপরও ২০১৫ সালে বেল্লাল সরদারের মৃত্যুর পরপরই ছেলে জাহাঙ্গীর আলম ওই জমি নতুন করে দাবি করে জবরদখলের চেষ্টা করে আসছিল। যদিও মাদকাসক্ত হওয়ার কারণে মৃত্যুর কয়েক বছর আহে বেল্লাল হোসেনকে ছেড়ে ছেলে জাহাঙ্গীর ও মেয়ে হীরাকে নিয়ে চলে যান স্ত্রী। এমতাবস্থায় আশয়হীন বেল্লালকে সমেত্বভানের কাছ থেকে কেনা জমিতে একটি বেড়ার ঘর বানিয়ে তাতে বসবাসের ব্যবস্থা করে দেন অ্যাড. আশরাফুল আলম।
অ্যাড. ফকরুল আলম বাবু বলেন, জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন বেল্লালের জমি দাবি করলে কয়েকবার থানায় ও স্থানীয় পর্যায়ে বসাবসিও হয়েছে। কিন্তু শালিসি সিদ্ধান্ত না মেনে গত ১০ অক্টোবর থেকে জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন ওই জমিতে জোরপূর্বক ঘরবাড়ি বানানোর কাজ শুরু করে। বাধ্য হয়ে গত ১৫ অক্টোবর তার ভাই সামছুল আলমসহ তিনজন বাদি হয়ে জাহাঙ্গীর আলমসহ পাঁচজনকে বিবাদী করে সাতক্ষীরা সদর সহকারি জজ আদালতে একটি মামলা (দেঃ ১৫২/২০ সদর) দায়ের করেন। একইসাথে বিবাদীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার আবেদন জানানো হয়। বিচারক নাসিরউদ্দিন ফরাজি শুনানী শেষে ওই দিন অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিলে আদেশটি ওইদিন সন্ধ্যায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হয়। পরদিন সহকারি উপপরিদর্শক সুভাষ সরকার বিরোধপূর্ণ জমিতে এসে বিবাদীদের সকল প্রকার নির্মাণ কর্মকান্ড বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন। এরপরও শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের নেতৃত্বে পলাশপোলের হাফিজুল, রবিউল (দবির), আনোয়ার হোসেন , ফজিলা, দুলাল, এরশাদ, ছোট বাবুসহ প্রায় ৩০/৪০ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী ভাই এড. আশরাফুল আলম পরিবারের সম্পত্তিতে দেয়া লোহার ফটক ভেঙে সীমানা প্রাচীর ভাঙা শুরু করে। ভাঙচুরে বাধা দেওয়ায় তিনিসহ চারজনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। লোহার ফটক ও প্রাচীর ভাঙার সময় প্রতিপক্ষের দু’জন আহত হয়। পরে তাকে, সাইফুল ও একরামুলকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বাড়িতে আনা হয়। নূরুল আলমকে ভর্তি করা হয় সদর হাপসপাতালে। অবস্থার অবনতি হওয়ায় নূরুল আলমকে শনিবার দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। খবর পেয়ে সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাড.এম শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. তোজাম্মেল হোসেন তোজাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. ওসমান গণিসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা ঘটনাস্থলে ও হাসপাতালে ছুঁটে আসেন। প্রতিপক্ষ দু’জন কৌশল করে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাৎক্ষণিকভাবে তিনি বিষয়টি সাতক্ষীরা সদর থানাকে অবহিত করেন।
জানতে চাইলে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, পৈতৃক জমিতে তারা ঘর বানিয়েছেন। যাতায়াতের পথ বের করে নেওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলায় তারাও দুজন আহত হয়েছেন।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) বুরহান উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় অ্যাড. আশরাফুল আলমের পক্ষ থেকে শনিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত থানায় কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।