শৈলকুপার হরিহরা গ্রামে ভাতিজার বিরুদ্ধে শিশু ধর্ষণের নেপথ্যে গ্রাম্য দলাদলি

25

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : ঝিনাইদহের শৈলকুপার হাকিমপুর ইউনিয়নের হরিহরা গ্রামে ভাতিজার বিরুদ্ধে ফুফুর ৪ বছরের শিশুকণ্যা ধর্ষণচেষ্টা মামলার নেপথ্যে গ্রাম্য দলাদলি মূল কারণ বলে জানিয়েছেন মামলার বিবাদী, নিকটতম প্রতিবেশি ও এলাকাবাসী। তারা মিথ্যা মামলার বিরুদ্ধে ওই গ্রামের রাস্তায় মানববন্ধনও করেছেন।

মামলার বাদী ৪ বছরের শিশুকণ্যার মা বেলিনা খাতুন মামলা এজাহারে উল্লেখ করেন, গত ১০ অক্টোবর সন্ধ্যায় তার বড়ভাই রাজমিস্ত্রী রাসেদ মন্ডলের ছেলে নয়ন মন্ডল অরফে শশী বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে শিশুটিকে তার ঘরে নিয়ে ধর্ষণের চেষ্টা করে। পরে শিশুটির চিৎকারে তার মা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে শশী বলে সমধিক পরিচিত কথিত ধর্ষক পালিয়ে যায়। পরে শিশুটিকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারীরিক পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠান। আপন বড়ভাইয়ের ছেলের বিরুদ্ধে নিজের ৪ বছরের শিশুকণ্যাকে ধর্ষণচেষ্টার মামলায় স্তম্ভিত গ্রামবাসী ওই গ্রামে মানববন্ধন করেন। তারা ফুফু কর্তৃক দীনমজুর রাসেদের ভিটেবাড়ির ৮ শতক জমি দখলে নিতে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে বলে দাবি করেন।

বিষয়টি খোঁজখবর নিতে এ প্রতিবেদক ও কিছু সহকর্মী কথা বলেন, মামলার বাদী বেলিনা খাতুন, অভিযুক্ত শশীর বাবা মা, নিকটতম প্রতিবেশী ও গ্রামবাসীর সাথে। শশীর বাবা রাসেদ ও মা জানান, ওইসময় তারা বাড়ি না থাকলেও পরক্ষনেই বাড়ি এসে ঘটনাটি শুনতে পান। কিন্তু তার নিকটতম প্রতিবেশীরা ধর্ষণের মত একটি স্পর্শকাতর বিষয় সম্পর্কে কিছুই জানেন না বলে জানান।

অভিযোগকারী বেলিনা ও রাসেদের নিকটতম প্রতিবেশী আনিসুর রহমানের স্ত্রী ফাহিমা খাতুন এবং বয়োবৃদ্ধা সালেহা খাতুনসহ অনেকেই জানান, ঘটনার সময় তারা বাড়িতেই ছিলেন। কিন্তু এ ধরনের কোন ঘটনা, ওই শিশুর চিৎকার বা কান্নাকাটি শোনেননি। তবে বেলিনা খাতুনের চিৎকার ও চেচামেচি শুনতে পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি শুনে হতভম্ব হয়ে যান।

হরিহরা গ্রামের মাতব্বর মিজানুর রহমান মজনু ও কিছু বয়স্ক গ্রামবাসী জানান, এমন কোন ঘটনায় ওই সময় ঘটেনি। গ্রামবাসীর বক্তব্য, স্বামী চাকরী করার সুবাদে অন্যত্র বসবাস করায় পৈত্রিকভিটায় বড়ভাইয়ের বাড়ি সংলগ্ন জমিতে বসবাসকারী বেলিনা তার মা এবং দুই মেয়ে নিয়ে বসবাস করেন। মুলত সুদের ব্যবসার উপর নির্ভরশীল বেলিনা তার দরিদ্র ভাইয়ের ৮ শতক জমি লিখে নেবার প্রস্তাব দিলে তা রাসেদ ও তার পরিবার প্রত্যাখান করে। আর সেই থেকে শুরু হয় দ্বন্দ¦।

এছাড়া, রাসেদ গ্রামের কিছু প্রভাবশালী রাজনৈতিক ক্ষমতাবান ব্যক্তির সামাজিক দলে অবস্থান না করায় গ্রামের কথিত নেতারা রাসেদকে উচ্ছেদে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভ’মিকা পালন করেন।

নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কিছু ব্যক্তি জানান, সুদকারবারীদের গ্রাম বলে পরিচিত হরিহরার একরকম ‘সংখ্যালঘু’ রাসেদের ছেলে রাজমিস্ত্রীর জোগালে শশী কথিত ধর্ষণচেষ্টা মামলায় অভিযুক্ত হয়। তাদের কথা-১০ তারিখ সন্ধ্যায় ওইবাড়িতে পুলিশ এসে শিশুটিকে বাড়ির ওঠানে খেলা করতে দেখে।

তাছাড়া শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর চিকিৎসক তাকে পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠালেও শিশুটিকে ৪ দিনপর ওই হাসপাতালে নেয়ার কারণ তাদের বোধগম্য নয়।

তারা আরো জানায়, মামলায় যারা সাক্ষী এবং মানববন্ধনে অংশ নিয়েছেন তাদের মারধর ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেবার হুমকি দিচ্ছেন গ্রামের কথিত নেতাপ্রকৃতির প্রভাবশালী মানুষ। শিশুর মা বেলিনা খাতুন জানান, ঘটনার পর পুলিশ এসে তার শিশুকণ্যাকে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। পুলিশই ৪ দিনপর পরীক্ষার জন্য তাকে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে আবারও পাঠায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সিহাবউদ্দীণ জানান, ওই গ্রাম থেকে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি শিশুটিকে স্বাভাবিক অবস্থায় দেখতে পান। তবুও অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি তাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠান। সেখানকার চিকিৎসক শিশুটির উন্নত পরীক্ষার জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে পাঠালেও ৪ দিনপর ১৪ অক্টোবর তাকে সেখানে পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার কারণ তিনি জানেন না।

শৈলকুপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত আছেন।